চার বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আয়োজন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা উঠছে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়। ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ, উন্মাদনা ও স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত এই মহারণ।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপ। মেক্সিকো সিটি, টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলসে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর।
এবারের বিশ্বকাপ আগের সব আসর থেকে আলাদা। দল সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৮। ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়বে অংশগ্রহণকারী দলগুলো। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি নকআউট পর্বে জায়গা করে নেবে। পাশাপাশি তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা আটটিও পাবে শেষ ৩২-এর টিকিট। নতুন এই ফরম্যাট বিশ্বকাপকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
শিরোপার লড়াইয়ে থাকছে বিশ্ব ফুটবলের প্রায় সব পরাশক্তি। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার পাশাপাশি মাঠে নামবে ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, উরুগুয়ে ও বেলজিয়াম।
তবে এবারের আসরের বড় আকর্ষণ নতুন মুখগুলোর উপস্থিতি। উজবেকিস্তান ও জর্ডান প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে। এশিয়ার ফুটবলের ক্রমোন্নতির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই সাফল্যে।
অন্যদিকে কিছু পরিচিত শক্তির অনুপস্থিতিও আলোচনায়। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া চিলি, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন, ওয়েলস ও সার্বিয়ার মতো দলও থাকছে না এবারের আসরে।
উত্তর আমেরিকার ১৬টি শহরে ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বকাপের উন্মাদনা। সবচেয়ে বেশি ম্যাচ হবে যুক্তরাষ্ট্রে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, লস অ্যাঞ্জেলেস, ডালাস, মিয়ামি, আটলান্টা, সিয়াটল ও হিউস্টনের মাঠগুলো জমে উঠবে বিশ্বকাপের রঙে। কানাডার টরন্টো ও ভ্যানকুভার এবং মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মনতেরেতেও অনুষ্ঠিত হবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। ফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই দুই কিংবদন্তির জন্য এটিই হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই দুই তারকাকে শেষবারের মতো বিশ্বকাপে দেখার সম্ভাবনা সমর্থকদের আবেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শুধু মেসি-রোনালদোই নন, ক্রোয়েশিয়ার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার লুকা মদরিচের জন্যও এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্ম প্রস্তুত নিজেদের সময়ের সূচনা করতে। কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম, লামিন ইয়ামাল, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জামাল মুসিয়ালা ও আর্লিং হলান্ডদের দিকে থাকবে বিশেষ নজর। অনেকের বিশ্বাস, এই আসরেই ফুটবলের নেতৃত্ব এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে যাবে।
শিরোপার দৌড়ে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, জার্মানি ও পর্তুগালও শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের শক্তির সমীকরণ বদলে যাওয়ায় কোনো নতুন দল চমক দেখালেও তা বিস্ময়ের হবে না।
বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি আবেগ, স্মৃতি, স্বপ্ন আর ইতিহাসের নাম। আগামী কয়েক সপ্তাহ কোটি কোটি মানুষের চোখ থাকবে উত্তর আমেরিকার মাঠে। কোথাও জন্ম নেবে নতুন নায়ক, কোথাও হয়তো শেষবারের মতো বিদায় জানাবেন কোনো কিংবদন্তি।
অপেক্ষা এখন শুধু উদ্বোধনী বাঁশির। এরপরই শুরু হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মহারণ।
এস.আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
চার বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আয়োজন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা উঠছে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়। ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ, উন্মাদনা ও স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত এই মহারণ।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপ। মেক্সিকো সিটি, টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলসে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর।
এবারের বিশ্বকাপ আগের সব আসর থেকে আলাদা। দল সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৮। ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়বে অংশগ্রহণকারী দলগুলো। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি নকআউট পর্বে জায়গা করে নেবে। পাশাপাশি তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা আটটিও পাবে শেষ ৩২-এর টিকিট। নতুন এই ফরম্যাট বিশ্বকাপকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
শিরোপার লড়াইয়ে থাকছে বিশ্ব ফুটবলের প্রায় সব পরাশক্তি। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার পাশাপাশি মাঠে নামবে ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, উরুগুয়ে ও বেলজিয়াম।
তবে এবারের আসরের বড় আকর্ষণ নতুন মুখগুলোর উপস্থিতি। উজবেকিস্তান ও জর্ডান প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে। এশিয়ার ফুটবলের ক্রমোন্নতির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই সাফল্যে।
অন্যদিকে কিছু পরিচিত শক্তির অনুপস্থিতিও আলোচনায়। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া চিলি, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন, ওয়েলস ও সার্বিয়ার মতো দলও থাকছে না এবারের আসরে।
উত্তর আমেরিকার ১৬টি শহরে ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বকাপের উন্মাদনা। সবচেয়ে বেশি ম্যাচ হবে যুক্তরাষ্ট্রে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, লস অ্যাঞ্জেলেস, ডালাস, মিয়ামি, আটলান্টা, সিয়াটল ও হিউস্টনের মাঠগুলো জমে উঠবে বিশ্বকাপের রঙে। কানাডার টরন্টো ও ভ্যানকুভার এবং মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মনতেরেতেও অনুষ্ঠিত হবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। ফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই দুই কিংবদন্তির জন্য এটিই হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই দুই তারকাকে শেষবারের মতো বিশ্বকাপে দেখার সম্ভাবনা সমর্থকদের আবেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শুধু মেসি-রোনালদোই নন, ক্রোয়েশিয়ার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার লুকা মদরিচের জন্যও এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্ম প্রস্তুত নিজেদের সময়ের সূচনা করতে। কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম, লামিন ইয়ামাল, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জামাল মুসিয়ালা ও আর্লিং হলান্ডদের দিকে থাকবে বিশেষ নজর। অনেকের বিশ্বাস, এই আসরেই ফুটবলের নেতৃত্ব এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে যাবে।
শিরোপার দৌড়ে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, জার্মানি ও পর্তুগালও শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের শক্তির সমীকরণ বদলে যাওয়ায় কোনো নতুন দল চমক দেখালেও তা বিস্ময়ের হবে না।
বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি আবেগ, স্মৃতি, স্বপ্ন আর ইতিহাসের নাম। আগামী কয়েক সপ্তাহ কোটি কোটি মানুষের চোখ থাকবে উত্তর আমেরিকার মাঠে। কোথাও জন্ম নেবে নতুন নায়ক, কোথাও হয়তো শেষবারের মতো বিদায় জানাবেন কোনো কিংবদন্তি।
অপেক্ষা এখন শুধু উদ্বোধনী বাঁশির। এরপরই শুরু হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মহারণ।
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন