বৃহস্পতিবার (১১ জুন) পর্দা উঠছে ফুটবল বিশ্বকাপের নতুন অধ্যায়ের। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এবং তিন দেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ক্রীড়া আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞ ইতোমধ্যেই ফুটবল উন্মাদনায় রাঙিয়ে তুলেছে গোটা পৃথিবীকে।
মাঠের লড়াই, তারকাদের ঝলক, কোটি মানুষের আবেগ ও স্বপ্ন মিলিয়ে আগামী এক মাসেরও বেশি সময় বিশ্ব ডুবে থাকবে ফুটবলের উৎসবে। 'গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ'খ্যাত এই আয়োজন আবারও বিশ্ববাসীকে এক সুতোয় গেঁথে দেবে।
ফুটবলকে বলা হয় সাধারণ মানুষের খেলা। এটি এমন এক আবেগ, যা ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক দূরত্বের সীমা অতিক্রম করে মানুষকে একত্রিত করে। আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশ, ব্রাজিল থেকে আফ্রিকার কোনো প্রান্ত—ফুটবল ভালোবাসার এক সার্বজনীন ভাষা হয়ে ওঠে। আনন্দ, বেদনা, প্রত্যাশা আর স্বপ্নের সম্মিলন ঘটায় এই খেলা।
তাই বিশ্বকাপ শুরু মানেই উৎসবের আমেজ। তিন দেশের যৌথ আয়োজনে এবারের আসর ঘিরে আয়োজন ও প্রস্তুতির কোনো কমতি নেই। তবে মাঠের বাইরেও কিছু বিতর্ক আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও রেফারিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে পারে 'জি' গ্রুপের দল ইরান। দলটির সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে, অথচ পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের বেস ক্যাম্প থাকবে মেক্সিকোর তিহুয়ানা শহরে। ফলে প্রতিটি ম্যাচের আগে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাবও পড়েছে বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্টদের ওপর। সোমালিয়ার প্রথম ফিফা রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতান ভিসা থাকা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন জটিলতায় দায়িত্ব পালন থেকে ছিটকে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সেনেগাল ও উজবেকিস্তানের কয়েকজন খেলোয়াড়কে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর অতিরিক্ত তল্লাশির মুখে পড়তে হয়েছে। ইরাকের স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেন ও দলের চিত্রগ্রাহক তালাল শাহকেও দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফুটবলই। প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে ৪৮টি দেশের জাতীয় সংগীত ধ্বনিত হবে বিশ্বকাপের মঞ্চে। প্রায় ১ হাজার ২৫০ ফুটবলারের পায়ে ভর করেই রচিত হবে নতুন সব গল্প, জন্ম নেবে নতুন নায়ক, পূরণ হবে কোটি মানুষের স্বপ্ন।
শেষ পর্যন্ত শিরোপা উঠবে নতুন কোনো দলের হাতে, নাকি পুরোনো কোনো শক্তিধর দেশ আবারও বিশ্বসেরা হবে—সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে। আপাতত ফুটবলপ্রেমীদের জন্য শুরু হচ্ছে অপেক্ষার অবসান, বিশ্বজুড়ে বইতে শুরু করেছে ফুটবল বসন্তের হাওয়া।
বিষয় : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) পর্দা উঠছে ফুটবল বিশ্বকাপের নতুন অধ্যায়ের। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এবং তিন দেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ক্রীড়া আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞ ইতোমধ্যেই ফুটবল উন্মাদনায় রাঙিয়ে তুলেছে গোটা পৃথিবীকে।
মাঠের লড়াই, তারকাদের ঝলক, কোটি মানুষের আবেগ ও স্বপ্ন মিলিয়ে আগামী এক মাসেরও বেশি সময় বিশ্ব ডুবে থাকবে ফুটবলের উৎসবে। 'গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ'খ্যাত এই আয়োজন আবারও বিশ্ববাসীকে এক সুতোয় গেঁথে দেবে।
ফুটবলকে বলা হয় সাধারণ মানুষের খেলা। এটি এমন এক আবেগ, যা ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক দূরত্বের সীমা অতিক্রম করে মানুষকে একত্রিত করে। আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশ, ব্রাজিল থেকে আফ্রিকার কোনো প্রান্ত—ফুটবল ভালোবাসার এক সার্বজনীন ভাষা হয়ে ওঠে। আনন্দ, বেদনা, প্রত্যাশা আর স্বপ্নের সম্মিলন ঘটায় এই খেলা।
তাই বিশ্বকাপ শুরু মানেই উৎসবের আমেজ। তিন দেশের যৌথ আয়োজনে এবারের আসর ঘিরে আয়োজন ও প্রস্তুতির কোনো কমতি নেই। তবে মাঠের বাইরেও কিছু বিতর্ক আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও রেফারিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে পারে 'জি' গ্রুপের দল ইরান। দলটির সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে, অথচ পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের বেস ক্যাম্প থাকবে মেক্সিকোর তিহুয়ানা শহরে। ফলে প্রতিটি ম্যাচের আগে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাবও পড়েছে বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্টদের ওপর। সোমালিয়ার প্রথম ফিফা রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতান ভিসা থাকা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন জটিলতায় দায়িত্ব পালন থেকে ছিটকে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সেনেগাল ও উজবেকিস্তানের কয়েকজন খেলোয়াড়কে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর অতিরিক্ত তল্লাশির মুখে পড়তে হয়েছে। ইরাকের স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেন ও দলের চিত্রগ্রাহক তালাল শাহকেও দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফুটবলই। প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে ৪৮টি দেশের জাতীয় সংগীত ধ্বনিত হবে বিশ্বকাপের মঞ্চে। প্রায় ১ হাজার ২৫০ ফুটবলারের পায়ে ভর করেই রচিত হবে নতুন সব গল্প, জন্ম নেবে নতুন নায়ক, পূরণ হবে কোটি মানুষের স্বপ্ন।
শেষ পর্যন্ত শিরোপা উঠবে নতুন কোনো দলের হাতে, নাকি পুরোনো কোনো শক্তিধর দেশ আবারও বিশ্বসেরা হবে—সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে। আপাতত ফুটবলপ্রেমীদের জন্য শুরু হচ্ছে অপেক্ষার অবসান, বিশ্বজুড়ে বইতে শুরু করেছে ফুটবল বসন্তের হাওয়া।

আপনার মতামত লিখুন