সাংবাদিক অপহরণ ও নির্যাতনে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে কক্সবাজারে মানববন্ধন
অপরাধীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি
পেশাগত দায়িত্ব পালনে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং এলাকায় যান তিন সাংবাদিকসাংবাদিক দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি হারুনর রশিদ ও দৈনিক নববাণীর স্টাফ রিপোর্টার মোঃ রমজান আলীর এবং দৈনিক ঘোষণার জেলা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম। তথ্য সংগ্রহ শেষে কক্সবাজার ফেরার পথে টোঙ্গারঢেবা সড়কে স্থানীয় মাদক ও অপরাধ সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাঁদের গতিরোধ করে অপহরণ করে। পরে তাঁদের জিম্মি করে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করে এবং বেধড়ক মারধর করে । একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণের মাধ্যমে মনগড়া স্বীকারোক্তি নেওয়ার চেষ্টা চালায় হামলাকারীরা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সাংবাদিকদের উদ্ধার করে এবং হাসপাতালে ভর্তি করে।অনুসন্ধানী তিনজন সাংবাদিকদের অপহরণ, মধ্যযুগীয় নির্যাতন, মুক্তিপণ দাবি ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে ভূক্তভোগীরা রামূ থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নিতে গড়িমসি করে। ৬দিন পর পুলিশ মামলা এন্ট্রি করে, প্রায় তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও রামু থানা পুলিশ আসামি গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে আসামিরা ভূক্তভোগীদের মামলার মোটিভ দুর্বল করতে উল্টো মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। যার কারণে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে মানববন্ধন করেছে সংবাদকর্মীরা। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী খুনিয়াপালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদসহ এজাহারনামীয় ৯ আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১১ টার দিকে কক্সবাজার জেলা আদালত ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে জেলায় বিভিন্ন পত্রিকা ও মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে সাংবাদিকবৃন্দ বলেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি হারুনর রশিদ ও দৈনিক নববাণীর স্টাফ রিপোর্টার মোঃ রমজান আলীর এবং দৈনিক ঘোষণার জেলা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রামু থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং মামলার মুটিভ নষ্ট ও সাংবাদিকদের হেনস্তা করতে ১২ দিন পর মসজিদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আদালতে উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে অপরাধী চক্রটি। ঘটনা প্রায় ২সপ্তাহ পার হলেও প্রধান অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদ ও তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি নুরুল আমিন নুরুসহ এজাহারনামীয় কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি হারুনর রশিদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দৈনিক যুগান্তরের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি আবুল কাশেম, চ্যানেল এস-এর ব্যুরো প্রধান আয়াছ রনি, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার জেলা সভাপতি খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি ইলি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের কক্সবাজার জেলা সভাপতি ও দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ পত্রিকার কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি মোস্তফা জামান চৌধুরী।সমাবেশ থেকে সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, চিহ্নিত এই আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে কক্সবাজারজুড়ে কঠোর কর্মসূচি ও আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন বাংলাদেশ সাংবাদিক সংস্থার (বাসাস) জেলা কমিটির সভাপতি জাফরুল ইসলাম রানা, নিউজ টুয়েন্টিফোরের প্রতিনিধি শহিদুল আলম হিরো, আইন সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, নিউজ টুয়েন্টিফোরের স্টাফ রিপোর্টার এনামুল শেখ, দৈনিক তথ্য দিগন্ত পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ছৈয়দুল আলম,আজকের খবরের প্রতিনিধি এস এম ডি মনির মিয়া, কক্সবাজার সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার মোঃ মোরশেদ, দৈনিক আপন কণ্ঠের জাহিদুল আলম জামি, জে টিভির নুরুল আলম শিকদার ও উখিয়া প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন, রাজধানী টিভির নুরুল হক নুর, রাজধানী টিভি আরফাত, দৈনিক জবাবদিহির আজাদ, সাংবাদিক নেতা আব্দুল গফুর, নাসির উদ্দিনসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিপুল সংখ্যক সংবাদ কর্মী। উপজেলা সকলে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানান এবং প্রশাসন ব্যর্থ হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন।








