অপরাধ ও দুর্ণীতি

অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল অ্যান্ড কলেজ: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

প্রিন্ট
অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল অ্যান্ড কলেজ: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
রাজধানীর সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল প্রধান শিক্ষক
# অপরাধ ও দুর্নীতি

রাজধানীর যাত্রাবাড়ির স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগ, এডহক কমিটির নির্বাচন, কোচিং ও বই বাণিজ্য, রাজনৈতিক চাটুকারিতা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে নজিরবিহীন অনিয়মের পাহাড় জমেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধর্মশিক্ষায় নিয়োগপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন—তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষানবিশ প্রক্রিয়া, মেধা ও যোগ্যতার প্রশ্ন পাশ কাটিয়ে নিজের ক্ষমতাবলে তিনি দীর্ঘসময় ধরে এই পদ আকড়ে আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এডহক কমিটির নির্বাচন ও ভোটার তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১ হাজার ৯০০ জন অভিভাবক থাকলেও রহস্যজনক কারণে ভোটার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত রাখা হয়েছে। কিসের ভিত্তিতে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিগত দিনে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক ও হত্যা মামলার আসামি সাবেক প্রধান শিক্ষক কাউসার শেখের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে সুবিধাবাদী চরিত্রের পরিচয় দিয়ে তিনি কখনো জামায়াত, কখনো আওয়ামী লীগ, আবার কখনো বিএনপির লেবাস ধারণ করে নিজের অবস্থান পাকা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার একক একক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক বলয় সুবিধা ভোগ করলেও অন্য মতাদর্শের শিক্ষক ও কর্মচারীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। নিজের একক ক্ষমতার জোরে তিনি ইতোমধ্যেই ৮ থেকে ৯ জন শিক্ষককে নিয়মনীতি বহির্ভূতভাবে নিয়োগ দিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশ ধ্বংসের মুখে পড়ার অন্যতম বড় প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক পরীক্ষার ফলাফল। প্রি-টেস্ট পরীক্ষায় প্রায় ৭১ থেকে ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক নিজস্ব কোচিংয়ে পড়তে বাধ্য করতে এবং কোচিং বাণিজ্য রমরমা রাখতেই সুপরিকল্পিতভাবে এই ফলাফল বিপর্যয় ঘটানো হয়েছে। এছাড়া ক্যান্টিনের নিম্নমানের খাবার ও উচ্চমূল্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছয় মাসের বেশি পদে থাকতে পারবেন না। অথচ সমস্ত নিয়মবহির্ভূতভাবে বছরের পর বছর কীভাবে এই শিক্ষক পদে বহাল রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল। কার অদৃশ্য ইশারায় এবং কোন অজানা বাণিজ্য ও শক্তির জোরে তিনি বহাল তবিয়তে আছেন, তা খতিয়ে দেখতে মাউশি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকরা। একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সম্পর্কিত সংবাদ