অপরাধ ও দুর্ণীতি

শ্যামনগরে প্রধান শিক্ষক চোর সিন্ডিকেটের আক্রমণে আহত, থানায় অভিযোগ!

প্রিন্ট
শ্যামনগরে প্রধান শিক্ষক চোর সিন্ডিকেটের আক্রমণে আহত, থানায় অভিযোগ!
মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে অবস্থিত ৬০ নং পরানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক চোর সিন্ডিকেটের আক্রমণে আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। এই ঘটনায় স্কুলে সহকারী শিক্ষক শৈলখালী গ্রামের মৃত পিয়ার আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে শ্যামনগর থানায় এজাহার দায়ের করেছে। আসামিরা হলেন,একই গ্রামের আবুল হোসেনের মোঃ মুকুল হোসেন (মুন্না),মৃত এঙ্কজ গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুল জলিল,মৃত তোরাপ দফাদারের ছেলে আবু তালেব (মধু)আবু তালেব মধু'র ছেলে তৌফিক ইমরোজ (রাজা) সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৬০ নং পরানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত। আসামীগণ দুর্দান্ত ও দুর্ধর্ষ প্রকৃতির পরস্পর এক দলীয় লোক। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সুপেয় পানির জন্য অনুমান ৩ বছর ৬ মাস পূর্বে স্কয়ার কোম্পানি কর্তৃক ২টি পানির ড্রাম প্রত্যেকটি সাড়ে সাত হাজার লিটার বিদ্যালয়ে প্রদান করে। যে মোতাবেক স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীসহ শিক্ষক মন্ডলী এবং স্কুলে আগত অভিভাবকরা সুপেয় পানি পান করে আসতে থাকে। এমতাবস্থায় মামলার আসামীগণ দুর্দান্ত ও দুর্ধর্ষ প্রকৃতির হওয়ায় ড্রাম ২টির মুল্য অধিক টাকা হওয়ার কারনে আসামীগণ পরস্পর যোগসাজসে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ড্রাম ২টি জোর পূর্বক আত্মত্মসাৎ করার জন্য সময় ও সুযোগের অপেক্ষায় থেকে সুযোগ খুজতে থাকে। অনুমানিক ৩ মাস পূর্বে ৩নং আসামীর নেতৃত্বে উপরোক্ত সকল আসামীগণ সম্পূর্ন অন্যায়ভাবে গায়ের জোরে পানি ড্রামের মধ্য হতে ১টি ড্রাম নিয়ে যায়। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে জানালে তিনি বিষয়টি তথ্যানুসন্ধান করতঃ ঘটনার সত্যতা পান। একপর্যায়ে আসামীগণ ড্রাম ফেরৎ প্রদান করার আশ্বাস প্রদান করলেও অদ্যবধি উক্ত ড্রাম ফেরৎ না দিয়ে বরং স্কুল আঙ্গিনায় থাকা অন্য পানির ড্রামটি তারা সুযোগ পেলে আত্মসাৎ করবে বলে জনসম্মুখে বলে বেড়াতে থাকে এবং তাদের কাজে কেহ বাধা দিলে মারপিট করবে, খুন জখম করবে, হাত-পা ভেঙ্গে দিবে ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি অব্যাহত রাখে। এমতাবস্থায় গত ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটি শেষে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর রবিবার সকাল অনুমান ৮,৪৫ মিনিটে আমি সহ স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক স্কুলে যেয়ে ড্রাম রাখার স্থানে ড্রামটি নাই। ১০ সেপ্টেম্বর হতে ১৩ সেপ্টেম্বর রবিবারের মধ্যে যে কোন সময় ড্রামটি কে বা কাহারা চুরি করে নিয়ে গেছে। আমি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু হানিফ (৪৩), পিং-মোঃ আব্দুল হামিদ সহ স্কুল পরিচালনা কমিটির লোকজন পানির ড্রামটির তথ্যানুসন্ধান করতে থাকি। একপর্যায়ে স্কুলের পূর্বে পাশে শৈলখালী মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার পরিত্যাক্ত বিল্ডিং এর নিচে উক্ত ড্রামটি দেখি। আমরা সেখান থেকে ফিরে আসলে সাথে সাথে আমাদের পিছু পিছু আসামীগণ হাতে ধারালো দা, লাঠি,লোহার রড, সাবল ইত্যাদিতে সজ্জিত হয়ে ক্যাম্পাসের মধ্যে প্রবেশ করে আমাদের চারিদিক হতে ঘিরে ধরে তাদের হাতে থাকা অস্ত্রপাতি উচিয়ে শক্তির মহড়া প্রদর্শন করতঃ বিভিন্ন প্রকার খুন জখমের ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। এবং বলতে থাকে যে, ড্রাম আমরা নিয়েছি এব্যাপারে তোরা কোথাও কোন নালিশ বা অভিযোগ জানালে তোদের স্কুলে চাকুরী করতে দিবো না, মেরে হাত, পা ভেঙ্গে দিবো, মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজত খাটাবো বলে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। এ সময় আমি প্রতিবাদ করলে পরস্পর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ৩নং আসামীর হুকুমে সকল আসামীগণ আমাকে যে যার মত চড়, থাপ্পড়, কিল, ঘুষি, লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। তখন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু হানিফ ঠেকাতে আসলে আসামীগণ তাকে যে যার মত চড়, থাপ্পড়, কিল, ঘুষি, লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। ১নং আসামী তার হাতে থাকা লোহার রড দ্বারা খুন করার উদ্দেশ্যে উক্ত প্রধান শিক্ষকের মাথায় আঘাত করলে তিনি মাথা সরিয়ে নেওয়াতে তাঁর ডান চোয়ালে লেগে হাড় ভাঙ্গা গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে পড়ে যায়।সাথে সাথে ২নং আসামী তার হাতে থাকা সাবল দ্বারা খুন করার উদ্দেশ্যে উক্ত প্রধান শিক্ষকের মাথায় আঘাত করলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তাঁর বাম চোখে লেগে মারাত্মক গুরুতর জখম হয় এবং চোখটি নষ্টের উপক্রম হয়েছে। ৩,৪,৫নং আসামী তাঁকে পা দ্বারা পাড়িয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিরা রক্ত জমাট জখম করে। একপর্যায়ে ১নং আসামী উক্ত শিক্ষকের বুকের উপর চড়ে বসে খুন করার উদ্দেশ্যে দুই হাত দ্বারা গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। আমার ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী দুর্ঘটনা স্থলে উপস্থিত হলে সন্ত্রাসীরা গঠনের স্থান থেকে দ্রুত চলে যায়। আসামীগণ এব্যাপারে কোথাও কোন মামলা মোকাদ্দমা করলে আমাকে সহ স্কুলের অন্যান্য শিক্ষদের স্কুলে ও এলাকায় ঢুকতে দিবে না,রাস্তাঘাটে পেলে অপমান অপদস্ত করবে, প্রয়োজনে মিথ্যা মামলা মোকাদ্দমায় জড়িয়ে দিবে বলে হুমকি ধামকি দিতে দিতে চলে যায়। এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু হানিফ কে গুরুতর জখম অবস্থায় চিকিৎসার জন্য শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।আমি নিজে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করি। বিষয়টি শ্যামনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সহ পরিচালনা কমিটিকে জানিয়ে থানায় এসে এজাহার করতে বিলম্ব হলো।এবিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, আমি এজাহারের কফি পেয়েছি তদন্ত কাজ চলমান দ্রুত গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ