মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার অস্ত্রাগার থেকে একটি সরকারি ৯ মিলিমিটার পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যোগদানের ১২ দিনের মধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদের হিসাব যাচাই করতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮টা ৭ মিনিটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর অস্ত্রাগারের হিসাব পরীক্ষা করার সময় একটি পিস্তল ও ম্যাগাজিনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। অথচ অস্ত্র ইস্যু ও জমার রেজিস্টারে পিস্তলটি অস্ত্রাগারে জমা দেখানো রয়েছে। সরকারি অস্ত্র কীভাবে নিখোঁজ হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
থানার নতুন ওসি জে এম তৌফিক আজম দায়িত্ব গ্রহণের সময় নথি অনুযায়ী ১০টি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন এবং ১০০ রাউন্ড গুলি বুঝে নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে ভিআইপি দায়িত্ব পালনের জন্য এএসআই আবুল বাশার পিস্তলটি টাঙ্গাইলে নিয়ে যান। পরে ব্যক্তিগত কারণে তিনি অস্ত্রটি এসআই জয়নাল আবেদীনের কাছে দেন। দায়িত্ব পালন শেষে জয়নাল আবেদীন সেটি কনস্টেবল হারুন অর রশিদের কাছে হস্তান্তর করেন বলে জানিয়েছেন। কনস্টেবল অস্ত্রটি থানায় জমা দিয়েছেন বলে রেজিস্টারে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অস্ত্রাগারে সেটি পাওয়া যায়নি। একাধিকবার খোঁজ করেও পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ওসি জানিয়েছেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় কাগজপত্র অনুযায়ী অস্ত্রের হিসাব বুঝে নিলেও পরে সরাসরি যাচাই করে ঘাটতি ধরা পড়ে। এরপর সাধারণ ডায়েরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী জানিয়েছেন, পুলিশ সুপার তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত শেষে কারও দায়িত্বে অবহেলা, হিসাবের ভুল বা অন্য কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত অস্ত্রটি চুরি হয়েছে, নাকি অন্য কোনোভাবে নিখোঁজ হয়েছে—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। সরকারি আগ্নেয়াস্ত্রের নিরাপত্তা ও অস্ত্রাগারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ।








