বিদেশ থেকে পাখি আমদানির আড়ালে শত শত কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। মঙ্গলবার দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাখি আমদানির অনুমোদন, আমদানিকারকদের কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট দল রাজধানীতে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছিল। সেই অভিযানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নতুন অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, অভিযানের সময় বিভিন্ন আমদানিকারকের অতীতে আমদানি করা পাখির সংখ্যা, পাখি পরিদর্শন প্রতিবেদন, আমদানির অনাপত্তিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি পাখি আমদানির কার্যক্রম ব্যবহার করে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন। তবে কত টাকা পাচার হয়েছে, কারা সরাসরি জড়িত এবং আমদানির কোন কোন লেনদেন সন্দেহজনক—এসব বিষয়ে অনুসন্ধানের চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আমদানিসংক্রান্ত নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়ন ঘিরে ঘুষ লেনদেনের পৃথক অভিযোগের অনুসন্ধানও চালিয়ে যাচ্ছে দুদক। সংস্থাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিভিন্ন পদে বদলির জন্য ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা আমদানিকারকদের পাল্টা বক্তব্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।








