অপরাধ ও দুর্ণীতি

রংপুরে চার খুন: খেজুরের বিচি, শসা ও গামছায় দুই আসামির ডিএনএ শনাক্ত

⎙ প্রিন্ট
রংপুরে চার খুন: খেজুরের বিচি, শসা ও গামছায় দুই আসামির ডিএনএ শনাক্ত
ছবি: সংগৃহীত


রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা খেজুরের বিচি, শসার টুকরা, বিড়ির শেষাংশ এবং গামছার নমুনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির ডিএনএ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বিস্তারিত উঠে এসেছে।

গ্রেপ্তার দুই আসামি হলেন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানিয়েছেন, ঢাকায় অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, খেজুরের বিচিতে মুগ্ধ দাসের এবং শসার টুকরায় সিদ্ধার্থ দাসের ডিএনএ পাওয়া গেছে।

বিড়ির শেষাংশে দুজনের ডিএনএ শনাক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর গলায় প্যাঁচানো গামছার নমুনায় মুগ্ধ দাসের ডিএনএ পাওয়া গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

গত ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা ৩১ ধরনের নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল।

এসব নমুনার মধ্যে ছিল ফল কাটার ছুরি, খেজুরের বিচি, শসার অংশ, সিগারেটের শেষাংশ এবং অন্যান্য আলামত।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গত বৃহস্পতিবার সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষাগার থেকে ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

পুলিশের দাবি, ফরেনসিক প্রতিবেদন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দি এবং সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনায় দুই আসামির সংশ্লিষ্টতার পক্ষে তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার রয়েছে—এমন ধারণা থেকে চুরির উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন।

পরে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তার দাবি।

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি রয়েছে।

তবে ফরেনসিক প্রতিবেদনে ডিএনএ শনাক্ত হওয়া এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়।

আদালত ফরেনসিক প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং আসামিপক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে অভিযোগপত্র দাখিল এবং পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্পর্কিত সংবাদ