অপরাধ ও দুর্ণীতি

১ দিনেই ২৩০ কোটি টাকা উত্তোলন! সালমানের ঋণ নিয়ে দুদকের চাঞ্চল্যকর তথ্য

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং তাঁর পুত্র আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানসহ মোট ২৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা দায়ের করেছে;

⎙ প্রিন্ট
১ দিনেই ২৩০ কোটি টাকা উত্তোলন! সালমানের ঋণ নিয়ে দুদকের চাঞ্চল্যকর তথ্য
১ দিনেই ২৩০ কোটি টাকা উত্তোলন! সালমানের ঋণ নিয়ে দুদকের চাঞ্চল্যকর তথ্য
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং তাঁর পুত্র আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানসহ মোট ২৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা দায়ের করেছে; অভিযোগের ভিত্তি হলো একটি প্রকৃত অস্তিত্বহীন কথিত কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ৫৪৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা এবং সেই অর্থ আত্মসাৎ করা। 
গত রোববার, অর্থাৎ ১১ অক্টোবর, প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মামলার নথিপত্র এবং দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রদত্ত বক্তব্যের ভিত্তিতে ঋণ অনুমোদন এবং অর্থ উত্তোলনের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। দুদকের অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের নামে মোট তিনটি পৃথক দফায় ৫৪৫ কোটি টাকার ওভারড্রাফট ঋণ অনুমোদন প্রদান করা হয়েছিল। উক্ত অনুমোদিত ঋণের মধ্যে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৮২ টাকা বিতরণ অথবা উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা যায়। মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে ব্যাংকিং আইন ও প্রযোজ্য নীতিমালা লঙ্ঘন করে একই দিনে সর্বোচ্চ ২৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছিল। 
গত ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ উক্ত মামলাটি দায়ের করেন সংস্থাটির উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এই মামলায় সালমান এফ রহমান, তাঁর পুত্র, স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালক এবং আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে। দুদকের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট তারিখে প্রতিষ্ঠানটির নামে প্রথম পর্যায়ে ৯০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়। 
এরপর ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ঋণসীমা বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীকালে ২০২৪ সালের ২৫ জুন তারিখে আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ঋণসীমা ৫৪৫ কোটি টাকা পর্যন্ত উন্নীত করার অনুমোদন প্রদান করা হয়। দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত ব্যবসায়িক সক্ষমতা, পূর্ববর্তী ঋণের ব্যবহারের ধরন, পর্যাপ্ত জামানতের প্রাপ্যতা এবং ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। মামলার নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ঋণের অর্থ ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার না করে বরং সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বেক্সিমকো গ্রুপের একাধিক ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। 
দুদকের নথিতে উল্লেখ রয়েছে যে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ সংশ্লিষ্ট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৬ টাকা। দুদকের কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন যে ঋণ অনুমোদন, বিতরণ এবং অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
 অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতেই অপরাধের দায় নির্ধারিত হবে। ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন, জামানত যাচাই এবং অর্থের ব্যবহার পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে এই মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।

সম্পর্কিত সংবাদ