দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামী ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি।
দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আগে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, দলীয় কোন্দল নিরসন এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত সময় নিতে চায় বিএনপি।
দলের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতি প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে।
তবে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে দলীয় প্রস্তুতি ও স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করার পরিকল্পনা থাকায় একই পদে বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হতে পারেন।
এতে দলীয় ভোট বিভক্ত হওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং বিরোধ মীমাংসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন নেতা প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এর আগে আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে নভেম্বর বা ডিসেম্বরের পরিবর্তে জানুয়ারিতে ভোট আয়োজনের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।
দেশে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা।
স্থানীয় সরকার আইনে পরিষদের মেয়াদ ও নির্বাচন আয়োজনের নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।
ফলে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার যেকোনো পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আইনগত বাধ্যবাধকতা বিবেচনা করতে হবে।








