আগামী জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করার সম্ভাব্য পরিকল্পনা সামনে রেখে প্রস্তুতি ও সময়সূচি পর্যালোচনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষাপটসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি যাচাই করা হচ্ছে।
ইসি সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত হলেও সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত নয়। এর আগে নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছিল, জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ধাপে ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার বিষয়েও আন্তমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।
নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আখতার আহমেদ আরও জানান, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ‘ব্যালট’ প্রকল্পের আওতায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রস্তাব নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই প্রশিক্ষণে অপতথ্য, বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য মোকাবিলার কৌশল শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। এর লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং তথ্য যাচাই, ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ ও দায়িত্বশীল যোগাযোগের দক্ষতা উন্নত করা।
ইসি সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ কোনো একক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেওয়া হচ্ছে না। এটি একটি পৃথক ও ধারাবাহিক সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ। ফলে ইউপি নির্বাচনসহ ভবিষ্যতের বিভিন্ন নির্বাচনি কার্যক্রমেও এই প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।
তবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রস্তাব এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু, মেয়াদ, অংশগ্রহণকারী এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।
এদিকে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইসি এর আগে সম্ভাব্য বিভিন্ন সময় নিয়ে আলোচনা করলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, রমজান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে।








