অপরাধ ও দুর্ণীতি

সফটওয়্যারে ভুয়া হিসাব দেখিয়ে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রেপ্তার কর্মকর্তা

⎙ প্রিন্ট
সফটওয়্যারে ভুয়া হিসাব দেখিয়ে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রেপ্তার কর্মকর্তা

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাব সফটওয়্যারে ভুয়া তথ্য দেখানো এবং মালিকের স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক ব্যবহার করে ১৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম পার্থ সারথী হালদার। তিনি সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের অর্থ ও হিসাব বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়েও সফটওয়্যারে জমা দেখানো হতো। পাশাপাশি মালিকের স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেকের প্রাপকের নাম পরিবর্তন করে অর্থ ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, সানজি গ্রুপের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ভাটারা থানায় অর্থ আত্মসাতের মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে পার্থ সারথী হালদারসহ একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের দাবি, পার্থ সারথী গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা দুই কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৮৯৭ টাকা নিজের একটি ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন। অন্য ব্যাংকের হিসাব ব্যবহার করেও অর্থ সরানোর তথ্য পাওয়া গেছে। সানজি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পানামা সিএনজি কনভার্সন থেকে একই ধরনের কৌশলে ৬৫ লাখ সাত হাজার ৯৫০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। সিআইডির হিসাবে, পার্থ সারথীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে প্রায় নয় কোটি ৫৩ লাখ টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। পুরো মামলায় অভিযোগের মোট অর্থের পরিমাণ ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর একই মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে জনি এবং সৈয়দ আরব আলী নামের আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল সিআইডি। সংস্থাটি জানিয়েছে, অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় অন্য কারা জড়িত এবং সরিয়ে নেওয়া অর্থ কোথায় গেছে, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ সারথী অপরাধে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তবে পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্য আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতের চূড়ান্ত রায়ও পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ হিসাবব্যবস্থা, আর্থিক লেনদেনের অনুমোদন এবং সফটওয়্যারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সম্পর্কিত সংবাদ