অপরাধ ও দুর্ণীতি

চুরির অভিযোগে যুবককে বেঁধে নির্যাতন, মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজন

⎙ প্রিন্ট
চুরির অভিযোগে যুবককে বেঁধে নির্যাতন, মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজন

নোয়াখালী সদর উপজেলায় টাকা চুরির অভিযোগে এক যুবককে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহত যুবকের নাম কবির হোসেন (৩৫)। তিনি নোয়ান্নই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রয়াত মো. হানিফের ছেলে। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কবির মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকার একটি দোকানের সামনে থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আট মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে আহত কবিরকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার নোয়াখালী শহরের সোনাপুর পেট্রলপাম্প-সংলগ্ন একটি ওয়ার্কশপ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে। ওয়ার্কশপের মালিক মো. হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার অনুরোধ জানান। পরদিন মঙ্গলবার ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকায় কবিরকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে ওয়ার্কশপের মালিক ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন সেখানে যান। তাঁদের বিরুদ্ধে কবিরকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। নিহতের মা কমলা বেগম অভিযোগ করেছেন, ছেলেকে নির্যাতনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তাঁর অনুরোধ উপেক্ষা করা হয় এবং তাঁকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে আহত কবিরকে অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতের মা বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. হোসেন (৩৪), মো. ফারুক (২৪), আলাউদ্দিন মুন্সি (২৮) ও মো. তারেক। পুলিশ জানিয়েছে, অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। কবিরের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগের সত্যতাও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আটক করে নির্যাতন এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ