চাকুরী

প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরও পুরোনো কমিটিতেই পরীক্ষা, উদ্বেগ তিন লাখ প্রার্থীর

⎙ প্রিন্ট
প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরও পুরোনো কমিটিতেই পরীক্ষা, উদ্বেগ তিন লাখ প্রার্থীর

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় স্থগিত হওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আগের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পরও একই নিয়োগ কমিটি বহাল রাখায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং নিয়োগ কমিটির অন্তত একজন সদস্য মনে করেন, পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কমিটি পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। গত ১০ অক্টোবর ঢাকার ৯৮টি কেন্দ্রে এই পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। মোট ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন প্রায় তিন লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী। পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বেলা তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন মঙ্গলবার জমা দেওয়ার কথা থাকলেও আরও দুই দিন সময় চাওয়া হয়েছে। কমিটির প্রধান জানিয়েছেন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো যাচাইয়ের কাজ চলছে। তদন্তে প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য একজন বিশেষজ্ঞকেও যুক্ত করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। নতুন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির স্থানও পরিবর্তন করা হয়েছে। আগেরবার অধিদপ্তরের কার্যালয়ে প্রশ্নপত্র তৈরি হলেও এবার সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো শনাক্ত হয়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিয়োগ কমিটিকে দায়ী করা ঠিক হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষমতাও সরাসরি অধিদপ্তরের হাতে নেই। অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন, আগের কমিটি বহাল থাকলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞরাও নতুন করে বিতর্ক এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কাউকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা হয়নি। আগামী শুক্রবারের পরীক্ষা এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ