দুর্ঘটনা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ইটভাটার দেয়াল ধসে দুই শ্রমিক নিহত, শোকের ছায়া

আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

⎙ প্রিন্ট
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ইটভাটার দেয়াল ধসে দুই শ্রমিক নিহত, শোকের ছায়া
হোসেনপুরে ইটভাটার দেয়াল ধ্বসে দুই শ্রমিকের করুণ মৃত্যু।
⌖ হোসেনপুর
সারাজীবন তাদের কাটেছে একটাই সংগ্রামে—পরিবারের মুখে দিনে দুবার দু'মুঠো ভাত জোগানোর লড়াইয়ে। সেই শুক্রবার সকালেও অন্য দিনগুলোর মতো ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিলেন দিনমজুরেরা, ঘাম ঝরিয়ে রোজগারের আশায়। কিন্তু কে জানত, ইট-কাদার বোঝার আড়ালে অপেক্ষা করছিল এক নিষ্ঠুর ভাগ্য। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে এক ইটভাটার দেয়াল ধসে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পুমদি ইউনিয়নের চরপুমদি গ্রামের 'মেসার্স মায়ের দোয়া ব্রিকস'-এ ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। নিহতরা হলেন চরপুমদি গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে উৎপল মিয়া (২০) ও একই গ্রামের ছফির উদ্দিনের ছেলে গোলাপ মিয়া (৬০)। স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, অন্য দিনগুলোর মতো শুক্রবার সকালেও চরপুমদি গ্রামের মেসার্স মায়ের দোয়া ব্রিকসে কাজ শুরু করেন শ্রমিকেরা। দুপুরে কাঁচা বা তৈরি ইট সাজানো অবস্থায় কিংবা ভাটার দেয়ালের পাশে কাজ করার সময় হঠাৎ ইটের বড় দেয়ালে ফাটল ধরে, আর মুহূর্তেই তা শ্রমিকদের ওপর ভেঙে পড়ে। নিমেষেই ইটভাটার কর্মব্যস্ত পরিবেশ ভরে ওঠে চিৎকারে। বিকট শব্দ শুনে ছুটে আসেন সহকর্মীরা ও আশপাশের মানুষ। তারা সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারে নামেন, খবর পেয়ে হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ভারী ইট চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান উৎপল মিয়া (২০) ও গোলাপ মিয়া (৬০)। অন্যদিকে ধসে পড়া ইটের স্তূপের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন আরও দুজন শ্রমিক। তাদের আর্তচিৎকার শুনে পাশের লোকেরা দ্রুত এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। চিকিৎসকরা বলছেন, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর চরপুমদি গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মাত্র ২০ বছর বয়সে উৎপল মিয়ার এই নির্মম মৃত্যু পরিবারের ভবিষ্যৎ ও স্বপ্নের সব আলো নিভিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ষাটোর্ধ্ব গোলাপ মিয়া ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগার করা মানুষ, তাই তার মৃত্যুতে স্বজনেরা শোকে নির্বাক। হাসপাতালে ও দুর্ঘটনাস্থলে নিহত ও আহতদের স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটায় কাজের নিরাপদ পরিবেশ ছিল না এবং দেয়াল নির্মাণে নিরাপত্তা বিধি মানা হয়নি। হোসেনপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেছে। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আশপাশের এলাকায় মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর শোক ছড়িয়ে পড়েছে। tapashmainul70@gmail.com

সম্পর্কিত সংবাদ