অপরাধ ও দুর্ণীতি

জুলাই অভ্যুত্থানে এমদাদ হত্যা শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

⎙ প্রিন্ট
জুলাই অভ্যুত্থানে এমদাদ হত্যা শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডায় প্রাইভেটকার চালক এমদাদুল হক হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের অপারেশন শাখার পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। শনিবার, ২৪ অক্টোবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের পৃথক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আসাদুজ্জামান নূর, জুনাইদ আহমেদ পলকসহ সাবেক সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম রয়েছে। অন্যদিকে মামলার এজাহারে নাম থাকা ৭৭ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

২০২৪ সালের ২০ জুলাই রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় জুলাই আন্দোলন চলাকালে এমদাদুল হক নিহত হন। ওই ঘটনায় পরবর্তী সময়ে সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি মামলা করেন। তিনি নিজেকে নিহত এমদাদের চাচাতো ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে মামলার বাদী এবং কয়েকজন আসামির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এমদাদের পরিবারের সদস্যরা। নিহতের মা মোসাম্মৎ হাসিনা বেগমের দাবি, মামলা হওয়ার আগে সাইফুল ইসলামকে তাঁরা চিনতেন না এবং মামলা করার আগে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, মামলার মাধ্যমে এলাকার কয়েকজন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিডিনিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে সাইফুল ইসলাম সরাসরি বিস্তারিত বক্তব্য না দিয়ে সাক্ষাতে কথা বলার কথা জানিয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সমর্থনে তথ্য পাওয়া গেছে, তাঁদের নাম অভিযোগপত্রে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সমর্থনে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি, তাঁদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার অর্থ আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগপত্র গ্রহণ, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন। মামলার বাদীকে নিয়ে নিহতের পরিবারের উত্থাপিত প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে রক্ষা করার বিষয়টি বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য জরুরি। অভিযোগপত্রের পূর্ণাঙ্গ নথি এবং সংশ্লিষ্ট আসামিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে মামলার আরও বিস্তারিত দিক যাচাই করা সম্ভব হবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ