অপরাধ ও দুর্ণীতি

কিশোরগঞ্জ বিউবোয় প্রকৌশলীর আদেশ ফাইলবন্দি, তদন্ত ধামাচাপার অভিযোগ

গুরুতর দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর ঘটনা দিন দিন চরম জটিল ও উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে, যা সরকারি দপ্তরে ঝুলানো "দেশপ্রেমের শপথ নিন, দুর্নীতিকে বিদায় দিন" শ্লোগানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করার শামিল।

⎙ প্রিন্ট
কিশোরগঞ্জ বিউবোয় প্রকৌশলীর আদেশ ফাইলবন্দি, তদন্ত ধামাচাপার অভিযোগ
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কিশোরগঞ্জ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের সুইচ বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট (এসবিএ) মাইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে দূর্নীতির পাহাড়।
⌖ কিশোরগঞ্জ সদর
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) কিশোরগঞ্জ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের সুইচ বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট (এসবিএ) মাইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে মিটার বিক্রি, ভুয়া ‘কপি মিটার’ সংযোগ, অনৈতিক লেনদেন এবং ব্যাপক বিল কারসাজির মতো চরম ও গুরুতর দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর ঘটনা দিন দিন চরম জটিল ও উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে, যা সরকারি দপ্তরে ঝুলানো "দেশপ্রেমের শপথ নিন, দুর্নীতিকে বিদায় দিন" শ্লোগানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করার শামিল। 
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, অভিযুক্ত এসবিএ মাইনুদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জের সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জিম্মি করে জালিয়াতির এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যার জ্বলন্ত প্রমাণ মিলেছে গ্রাহক জহিরুল ইসলামের নামে অনুমোদিত সরকারি বিদ্যুৎ মিটার (মিটার নম্বর: ১০৭৩২৬৯০) কোনো প্রকার আইনি ও দাপ্তরিক নিয়মকানুন না মেনে সম্পূণ নিয়মবহির্ভূতভাবে ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে সাইফুল ইসলাম নামের অন্য এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনার মাধ্যমে। শুধু মিটার বিক্রি করেই ক্ষান্ত হননি এই অসাধু কর্মচারী, বরং কোনো বৈধ নথিপত্র ও অনুমতি ছাড়াই ভুয়া ‘কপি মিটার’ সংযোগ দিয়ে অপরকে মাসের পর মাস বিদ্যুৎ ব্যবহারের অবৈধ সুযোগ করে দেন এবং এর পাশাপাশি গ্রাহকদের মিটারে কৃত্রিম ও ভূতুড়ে বিল বানিয়ে তা কমানোর নামে মোটা অঙ্কের রফাদফা করার এক অবিশ্বাস্য ব্যবসা ফেঁদে বসেন, যার প্রমাণস্বরূপ এক ভুক্তভোগী গ্রাহকের মিটারে তৈরিকৃত ১৯ হাজার টাকার কাল্পনিক ও ভূতুড়ে বিলকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিনিময়ে মাত্র ৬ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয় এবং নিজের অপরাধ আড়াল করতে চতুর মাইনুদ্দিন নিজের পকেট থেকে ৩ হাজার টাকা জমা দিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করেন। এই সকল জালিয়াতি, অকাট্য দালিলিক প্রমাণ, ভুক্তভোগীদের ভিডিও বক্তব্য ও একের পর এক চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির খবর বিউবোর প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে পৌঁছালে তিনি বিষয়টির তীব্রতা অনুধাবন করে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কঠোর প্রতিবেদন পেশ করার জন্য বিউবো কিশোরগঞ্জ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ প্রদান করেন। উক্ত আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ সহকারী প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসেন মামুনকে আহ্বায়ক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিনকে সদস্য সচিব এবং বখতিয়ার উদ্দিনকে সদস্য মনোনীত করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে মাত্র ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত সম্পন্ন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলেও সত্য যে, দাপ্তরিকভাবে নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে সপ্তাহ গড়িয়ে মাসের পর মাস পার হয়ে গেলেও সেই তদন্ত প্রতিবেদন আজও আলোর মুখ দেখেনি এবং ফাইলবন্দি হয়ে রয়ে গেছে, অথচ নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করার পর তদন্তের গতিধারা সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকেরা তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক সহকারী প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসেন মামুনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করলে তিনি নিজে মুখেই গণমাধ্যমের সামনে অপরাধের সত্যতা স্বীকার করে স্পষ্ট ভাষায় বক্তব্য দিয়েছিলেন যে, "ঘটনা সত্য, খুব শীঘ্রই প্রতিবেদন দিয়ে দেব।" কিন্তু তদন্ত কমিটির প্রধানের এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও লিখিত-মৌখিক আশ্বাসের দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও অদ্যবধি কোনো তদন্ত প্রতিবেদন দপ্তরে দাখিল না করায় খোদ তদন্ত কমিটির সততা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুয়া মিটার বিক্রি, অবৈধ কপি মিটার সংযোগ, কৃত্রিম বিল তৈরি করে গ্রাহক হয়রানি এবং কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অকাট্য দালিলিক প্রমাণের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সুস্পষ্ট ভিডিও বক্তব্য থাকা সত্ত্বেও তদন্ত কমিটির এমন নজিরবিহীন দীর্ঘসূত্রিতা, নীরবতা ও ঢিলেঢালা মনোভাব স্থানীয় সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। 
সাংবাদিক ও সচেতন মহলের ধারাবাহিক গভীর অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হয়েছে যে, অভিযুক্ত এসবিএ মাইনুদ্দিনের অনিয়ম ও জালিয়াতির শতভাগ সত্যতা ও হাতে-কলমে প্রমাণ পাওয়ার পরও বিউবোর এক শ্রেণির প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও অসাধু সিন্ডিকেটের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে এবং বড় অঙ্কের অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে পুরো ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়া এবং অপরাধী মাইনুদ্দিনকে নির্দোষ প্রমাণ করার এক জোর অপচেষ্টা ও গোপন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকারি অফিসের চেয়ারে বসে দুর্নীতিবিরোধী কথা বলে অন্তরালে দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দেওয়ার এই অপকৌশল এবং প্রধান প্রকৌশলীর মতো সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তার সুনির্দিষ্ট ও জরুরি আদেশ অমান্য করে গঠিত তদন্ত কমিটির এহেন টালবাহানা, কালক্ষেপণ এবং জালিয়াতির সত্যতা গোপন করার ন্যক্কারজনক তৎপরতার তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
 এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম ক্ষুব্ধ কিশোরগঞ্জের সচেতন নাগরিক, ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয় এলাকাবাসী অবিলম্বে এই বিতর্কিত, পক্ষপাতদুষ্ট ও কালক্ষেপণকারী তদন্ত কমিটিকে বরখাস্ত করে বিউবোর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পূণ নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত পুনঃতদন্ত নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন এবং একই সাথে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎকারী দুর্নীতিবাজ এসবিএ মাইনুদ্দিনসহ এই জালিয়াতি চক্রের নেপথ্যে থাকা সকল কুশীলব ও রক্ষক রূপী ভক্ষক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ব্যবস্থা ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোর আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ