সড়ক ও জনপথ

আকাশে উড়োজাহাজে ইন্টারনেট দিতে ভায়াস্যাটের অনুমোদন প্রক্রিয়া

⎙ প্রিন্ট
আকাশে উড়োজাহাজে ইন্টারনেট দিতে ভায়াস্যাটের অনুমোদন প্রক্রিয়া
বাংলাদেশের আকাশসীমায় চলাচলকারী বিদেশি উড়োজাহাজে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা দিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভায়াস্যাটকে অনুমোদনের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, বিটিআরসি। শনিবার, ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নথির বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী, ভায়াস্যাট বিদেশি উড়োজাহাজের যাত্রীদের জন্য ইন-ফ্লাইট কানেকটিভিটি সেবা দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কা-ব্যান্ড স্যাটেলাইট ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সুপারিশটি চূড়ান্ত অনুমোদন নয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্র, আর্থিক শর্ত এবং কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন পেতে পারে।
বিটিআরসির নথি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অনুমোদনের জন্য বছরে দুই হাজার মার্কিন ডলার ফি এবং প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর নির্ধারণের বিষয় রয়েছে। তবে স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট কমিটি বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বার্ষিক ফি পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছে। ভায়াস্যাটের সেবা বিদেশি উড়োজাহাজের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ থাকবে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আলাদা টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো স্থাপন কিংবা দেশের পাবলিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের অনুমতি পাবে না। সেবাটি চালু করতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র প্রয়োজন হবে। উড়োজাহাজে ব্যবহৃত প্রযুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক কারিগরি মান অনুসরণের শর্তও দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বাংলাদেশের আকাশসীমায় চলাচলকারী বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর যাত্রীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে সেবাটি কখন চালু হবে, কোন কোন বিমান সংস্থা ব্যবহার করবে কিংবা যাত্রীদের কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিটিআরসির সুপারিশ অনুযায়ী, ভায়াস্যাটকে বাংলাদেশি আকাশসীমায় সেবা ব্যবহারকারী উড়োজাহাজের সংখ্যা সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিবেদন দিতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রয়োজনে প্রযুক্তিগত শর্ত পরিবর্তন, ফি পুনর্নির্ধারণ কিংবা অনুমোদন স্থগিত করার ক্ষমতা রাখবে। এর আগে অন্য প্রতিষ্ঠান ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একই ধরনের সেবা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার নজির রয়েছে। ফলে নতুন সুপারিশটি বিমানযাত্রায় ডিজিটাল যোগাযোগ সম্প্রসারণের একটি সম্ভাব্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ