সড়ক ও জনপথ

কিশোরগঞ্জে সড়ক উন্নয়ন ও যোগাযোগ পরিকাঠামো সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত: ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৭টি চেক বিতরণ করলেন জেলা প্রশাসক।

বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, তাঁদের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা বিধান এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানে প্রশাসনের এমন স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ স্থানীয় জনমনে স্বস্তি বয়ে এনেছে।

⎙ প্রিন্ট
কিশোরগঞ্জে সড়ক উন্নয়ন ও যোগাযোগ পরিকাঠামো সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত: ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৭টি চেক বিতরণ করলেন জেলা প্রশাসক।
কিশোরগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণের চেক বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।
⌖ কিশোরগঞ্জ সদর

জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এবং আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব রূপান্তর ঘটাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল। ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোর মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সহজ ও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ জেলায় বাস্তবায়নাধীন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন ও যোগাযোগ পরিকাঠামো সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভূ-সম্পত্তি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের বাবদ ২৭টি চেক আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হয়েছে। 
আজ ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের মূল কার্যালয়ে আয়োজিত এক সুসংগঠিত অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের হাতে তাঁদের ন্যায্য পাওনার অর্থ তুলে দেয়া হয়। জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ ও সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার্থে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, তাঁদের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা বিধান এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানে প্রশাসনের এমন স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ স্থানীয় জনমনে স্বস্তি বয়ে এনেছে।​চলমান সড়ক উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ০২/২০২১-২০ ২০২২ নম্বর প্রকল্পের অধীনে অতি পরিচিত ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা (কাঁচপুর)-তামাবিল মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ এবং সংলগ্ন ইউটিলিটি স্থানান্তরের কার্যক্রম জোরকদমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ০৯/২০১৯-২০২০ নম্বর প্রকল্পের আওতায় কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামড়াঘাট জেলা মহাসড়ক মানসম্মত ও আধুনিক সুবিধা সংবলিত রূপ দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে উন্নীতকরণ কাজের পাশাপাশি নতুন সংযোগ সৃষ্টিতে ছয়না-যশোদল-চৌদ্দশত বাজার সড়ক নির্মাণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব বৃহৎ প্রকল্পের বাস্তবায়নে অধিগ্রহণ করা জমির মালিকদের পাওনা চুকিয়ে দিতেই অদ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণের অর্থ মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনভিপ্রেত বিলম্ব ছাড়াই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে জমি হারানো প্রকৃত স্বত্বাধিকারীদের নিকট চেক পৌঁছে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জেলা প্রশাসন।​উন্নয়ন ও জনস্বার্থের এমন সমন্বিত প্রচেষ্টায় আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ২৭টি চেক হস্তান্তর করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন। ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তরের সময় তিনি প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে বলেন, যেকোনো অবকাঠামোগত ও আঞ্চলিক যোগাযোগের সার্বিক উন্নয়ন ঘটাতে গিয়ে স্থানীয় মানুষদের জমি ছাড় দিতে হয়, যা তাঁদের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত; আর তাই সরকার নির্ধারিত প্রকৃত ক্ষতিপূরণের অর্থ তাদের হাতে কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ বা হয়রানি ছাড়াই দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার। ভূমি অধিগ্রহণের ফলে যেন একজন নাগরিককেও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি তিনি সরাসরি তদারকি করছেন বলেও জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিতি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)  ওয়াদিয়া শাবাব, যিনি পুরো অধিগ্রহণ ও মূল্যায়নের আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিক ধারা সুচারুভাবে সম্পাদনে তদারকি করে আসছেন। তিনি উপস্থিত সকলকে আশ্বস্ত করে বলেন, যেসকল ক্ষতিপূরণ দাবি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, প্রশাসনিক নিয়মকানুন শেষ করে সেগুলোর চেকও দ্রুততম সময়ে হস্তান্তর করা হবে।
​অধিগ্রহণকৃত জমির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চেক হাতে পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের মুখে যেমন ছিল নিজের জমি হারানোর কিছুটা আক্ষেপ, তেমনি ছিল দেশের এবং এলাকার উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার আনন্দ ও প্রাপ্য পাওনা স্বচ্ছভাবে বুঝে পাওয়ার আত্মতুষ্টি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামড়াঘাট জেলা মহাসড়ক ও ছয়না-যশোদল-চৌদ্দশত বাজার সড়ক নির্মিত হলে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিজাত পণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন যাতায়াতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। তাছাড়া ঢাকা-তামাবিল চারলেন মহাসড়কের মাধ্যমে সিলেটের সীমান্ত ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকাগামী পণ্য ও যাত্রী পরিবহন কয়েক গুণ সহজ ও নিরাপদ হবে। আজকের এই চেক বিতরণ অনুষ্ঠানটি জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা এবং ভূমির মালিকদের মাঝে একটি আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সুদৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুততার সাথে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদান সম্পন্ন করায় সড়ক অবকাঠামো বাস্তবায়নের কাজ কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই দ্রুগতি লাভ করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও নীতি-নির্ধারকেরা।
tapashmainul70@gmail.com

সম্পর্কিত সংবাদ