অপরাধ ও দুর্ণীতি

হাসিনার দুর্নীতি অনুসন্ধানে কোনো নথি আটকে নেই, জানাল দুদক কর্তৃপক্ষ

⎙ প্রিন্ট
হাসিনার দুর্নীতি অনুসন্ধানে কোনো নথি আটকে নেই, জানাল দুদক কর্তৃপক্ষ
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের কোনো নথি আটকে নেই বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুদকের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিতে কমিশন পদক্ষেপ নিচ্ছে। উচ্চপর্যায়ের অভিযোগগুলোর অগ্রগতি যৌথ তদন্ত দল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। তবে সব মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে বা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করেননি তিনি। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, অধিকাংশ অভিযোগের অনুসন্ধান এখনো চলমান রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানাধীন অভিযোগগুলোর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ, মুজিববর্ষের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থ আত্মসাৎ এবং নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। কমিশন জানিয়েছে, প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগসংক্রান্ত একটি মামলায় ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অধিকাংশ অভিযোগের অনুসন্ধান শেষ হয়নি। ফলে একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকলেও সেগুলোর সবকটিতে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্য নেই।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দুদক কোনো নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক নির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপের কথা জানাননি। এতে বোঝা যায়, দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অগ্রগতি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আলাদা বিষয়। কমিশনের দাবি অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকলেও অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ, অভিযোগপত্র দাখিল এবং আদালতের সিদ্ধান্তই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পক্ষগুলোর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রয়েছে। অভিযোগকে বিচারিকভাবে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন না করে অনুসন্ধানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। 

সম্পর্কিত সংবাদ