নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক স্কুলশিক্ষিকাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বিএনপির স্থানীয় এক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতার নাম আফজাল মোল্লা। তিনি দাউদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে বুধবার দুপুরে কালনী হিরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে সহকারী শিক্ষিকা একরামুন্নেছা বিউটিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন করেছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকার অভিযোগ, ২০২৪ সালের আগস্টে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে আফজাল মোল্লার সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জেরে বুধবার বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে প্রবেশ করে আফজাল মোল্লা তাঁকে কিল-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্য শিক্ষকেরা বাধা দিতে গেলে তাঁদেরও হুমকি ও গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন করেন। বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরাও অভিযুক্ত ব্যক্তির শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন। অন্যদিকে আফজাল মোল্লা শিক্ষিকার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন। তবে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আফজাল মোল্লাকে দলীয় পদ ও সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিক জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে দলীয় বহিষ্কার কোনো ফৌজদারি মামলার চূড়ান্ত বিচারিক রায়ের সমতুল্য নয়। শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও প্রমাণ বিবেচনা করা হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।








