ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

‘আপা’ বলায় নয়, বাসি মিষ্টির অভিযোগে জরিমানা ‘আপা বলায় জরিমানা’ প্রচারণা ভিত্তিহীন: ইউএনও মুনমুন নাহার আশা



‘আপা’ বলায় নয়, বাসি মিষ্টির অভিযোগে জরিমানা ‘আপা বলায় জরিমানা’ প্রচারণা ভিত্তিহীন: ইউএনও মুনমুন নাহার আশা
ইউএনও মুনমুন নাহার আশার সংবাদ সম্মেলনের ছবি

সিলেটের ওসমানীনগরে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘আপা বলায় জরিমানা’ সংক্রান্ত প্রচারণাকে ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা।

বুধবার (৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে কাউকে ‘আপা’ সম্বোধন করার কারণে জরিমানা করা হয়নি; বরং আইন ও বিধিমালার আওতায় প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত এবং অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ইউএনও জানান, স্থানীয়ভাবে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়ার পর গত ২৯ মে তিনি সাধারণ ক্রেতার পরিচয়ে তাজপুর বাজারে অবস্থিত বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখায় যান। এ সময় মিষ্টির মান, উৎপাদনের তারিখ ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা পরস্পরবিরোধী তথ্য দেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।

তিনি বলেন, অভিযানের সময় উপস্থাপিত চালানপত্রের তথ্যের সঙ্গে বিক্রির জন্য প্রদর্শিত মিষ্টির তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এছাড়া কয়েকজন কর্মচারী পুরোনো মিষ্টি নতুন মিষ্টির সঙ্গে রাখা হয়েছিল বলে স্বীকার করেন। অভিযানের একপর্যায়ে একজন কর্মচারী দোকান ত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সার্বিক পরিস্থিতি, প্রাপ্ত তথ্য ও উপস্থাপিত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মুনমুন নাহার আশা বলেন, কোনো ব্যক্তি কাকে কী সম্বোধন করেছেন, তা কখনোই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কারণ হতে পারে না। আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে এবং বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তাই ‘আপা বলায় জরিমানা’ করা হয়েছে—এ ধরনের প্রচারণার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের বাজার তদারকি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। এসব অভিযানে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হয় না; বরং আইন, তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইউএনও বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কোনো কার্যক্রম নিয়ে কারও আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় তা পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জুবেল আহমদ সেকেল, ওসমানীনগর উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ ফয়ছল আহমদ, সহ-সভাপতি শরীফ আহমদ চৌধুরী ও শাহাব উদ্দিন শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মলয় চক্রবর্তী, দপ্তর সম্পাদক ইব্রাহিম খান ইমন, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক ফজলু মিয়া, প্রচার সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাবুল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুবল চন্দ্র দাসসহ ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাব ও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ। এছাড়াও সিলেট থেকে আগত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


‘আপা’ বলায় নয়, বাসি মিষ্টির অভিযোগে জরিমানা ‘আপা বলায় জরিমানা’ প্রচারণা ভিত্তিহীন: ইউএনও মুনমুন নাহার আশা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image


সিলেটের ওসমানীনগরে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘আপা বলায় জরিমানা’ সংক্রান্ত প্রচারণাকে ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা।


বুধবার (৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে কাউকে ‘আপা’ সম্বোধন করার কারণে জরিমানা করা হয়নি; বরং আইন ও বিধিমালার আওতায় প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত এবং অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


ইউএনও জানান, স্থানীয়ভাবে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়ার পর গত ২৯ মে তিনি সাধারণ ক্রেতার পরিচয়ে তাজপুর বাজারে অবস্থিত বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখায় যান। এ সময় মিষ্টির মান, উৎপাদনের তারিখ ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা পরস্পরবিরোধী তথ্য দেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।


তিনি বলেন, অভিযানের সময় উপস্থাপিত চালানপত্রের তথ্যের সঙ্গে বিক্রির জন্য প্রদর্শিত মিষ্টির তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এছাড়া কয়েকজন কর্মচারী পুরোনো মিষ্টি নতুন মিষ্টির সঙ্গে রাখা হয়েছিল বলে স্বীকার করেন। অভিযানের একপর্যায়ে একজন কর্মচারী দোকান ত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সার্বিক পরিস্থিতি, প্রাপ্ত তথ্য ও উপস্থাপিত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


মুনমুন নাহার আশা বলেন, কোনো ব্যক্তি কাকে কী সম্বোধন করেছেন, তা কখনোই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কারণ হতে পারে না। আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে এবং বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তাই ‘আপা বলায় জরিমানা’ করা হয়েছে—এ ধরনের প্রচারণার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।


তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের বাজার তদারকি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। এসব অভিযানে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হয় না; বরং আইন, তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


ইউএনও বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কোনো কার্যক্রম নিয়ে কারও আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় তা পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জুবেল আহমদ সেকেল, ওসমানীনগর উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ ফয়ছল আহমদ, সহ-সভাপতি শরীফ আহমদ চৌধুরী ও শাহাব উদ্দিন শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মলয় চক্রবর্তী, দপ্তর সম্পাদক ইব্রাহিম খান ইমন, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক ফজলু মিয়া, প্রচার সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাবুল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুবল চন্দ্র দাসসহ ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাব ও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ। এছাড়াও সিলেট থেকে আগত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ সম্মেলনের শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।



দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ