সকালের নাশতা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবারগুলোর একটি। অনেকের ধারণা, ডায়েট করার সময় ভাত এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত ও সুষমভাবে খেলে সকালের নাশতায় ভাত খাওয়া মোটেও ক্ষতিকর নয়; বরং এটি শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।
ডায়েটিশিয়ান নেহা পাঠানিয়ার মতে, ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরের প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে এবং দিনের শুরুতে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে সহায়তা করে। এ কারণে বাংলাদেশ, ভারত ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশে সকালের খাবারে ভাতের প্রচলন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাত দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে মটরশুঁটি, গাজর, পালং শাক, কুমড়া কিংবা অন্যান্য শাকসবজি যোগ করলে খাবারের পুষ্টিমান আরও বৃদ্ধি পায়। সাদা ও লাল—উভয় ধরনের চালের ভাতেই ফলেট, বিভিন্ন খনিজ উপাদান এবং শক্তিদায়ক কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়।
পুষ্টিবিদদের মতে, দিনের প্রথম ভাগে শরীরের শক্তির চাহিদা বেশি থাকে। তাই সকালের খাবারে ভাত থাকলে তা সহজেই শক্তির জোগান দিতে পারে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তারাও পরিমিত পরিমাণে সকালে ভাত খেতে পারেন। এতে শক্তি ধীরে ধীরে সরবরাহ হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে।
তবে রাতের খাবারে অতিরিক্ত ভাত খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ ঘুমের আগে ভারী খাবার হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং শারীরিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
সকালের নাশতায় ভাতের কয়েকটি স্বাস্থ্যকর পদও উল্লেখ করেছেন পুষ্টিবিদরা। এর মধ্যে রয়েছে রসুন ও ডিম ভাজা ভাত, জাফরানি পোলাও এবং চালের পায়েস। রসুন ও ডিম ভাজা ভাতে প্রোটিন, উপকারী ফ্যাট ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক উপাদান থাকে। অন্যদিকে জাফরানি পোলাওয়ে থাকা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। চালের পায়েস অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং শরীরকে শীতল রাখতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাত খাওয়া নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। সঠিক পরিমাণে এবং প্রোটিন ও শাকসবজির সঙ্গে সমন্বয় করে খেলে সকালের এক প্লেট ভাতই হতে পারে স্বাস্থ্যকর ও শক্তিদায়ক দিনের শুরু।
বিষয় : সকালের নাশতা ভাত

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
সকালের নাশতা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবারগুলোর একটি। অনেকের ধারণা, ডায়েট করার সময় ভাত এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত ও সুষমভাবে খেলে সকালের নাশতায় ভাত খাওয়া মোটেও ক্ষতিকর নয়; বরং এটি শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।
ডায়েটিশিয়ান নেহা পাঠানিয়ার মতে, ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরের প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে এবং দিনের শুরুতে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে সহায়তা করে। এ কারণে বাংলাদেশ, ভারত ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশে সকালের খাবারে ভাতের প্রচলন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাত দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে মটরশুঁটি, গাজর, পালং শাক, কুমড়া কিংবা অন্যান্য শাকসবজি যোগ করলে খাবারের পুষ্টিমান আরও বৃদ্ধি পায়। সাদা ও লাল—উভয় ধরনের চালের ভাতেই ফলেট, বিভিন্ন খনিজ উপাদান এবং শক্তিদায়ক কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়।
পুষ্টিবিদদের মতে, দিনের প্রথম ভাগে শরীরের শক্তির চাহিদা বেশি থাকে। তাই সকালের খাবারে ভাত থাকলে তা সহজেই শক্তির জোগান দিতে পারে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তারাও পরিমিত পরিমাণে সকালে ভাত খেতে পারেন। এতে শক্তি ধীরে ধীরে সরবরাহ হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে।
তবে রাতের খাবারে অতিরিক্ত ভাত খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ ঘুমের আগে ভারী খাবার হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং শারীরিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
সকালের নাশতায় ভাতের কয়েকটি স্বাস্থ্যকর পদও উল্লেখ করেছেন পুষ্টিবিদরা। এর মধ্যে রয়েছে রসুন ও ডিম ভাজা ভাত, জাফরানি পোলাও এবং চালের পায়েস। রসুন ও ডিম ভাজা ভাতে প্রোটিন, উপকারী ফ্যাট ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক উপাদান থাকে। অন্যদিকে জাফরানি পোলাওয়ে থাকা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। চালের পায়েস অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং শরীরকে শীতল রাখতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাত খাওয়া নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। সঠিক পরিমাণে এবং প্রোটিন ও শাকসবজির সঙ্গে সমন্বয় করে খেলে সকালের এক প্লেট ভাতই হতে পারে স্বাস্থ্যকর ও শক্তিদায়ক দিনের শুরু।

আপনার মতামত লিখুন