ভারতের আসামে বিজেপি সরকারের কঠোর আইনি বিধিনিষেধ ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির প্রেক্ষাপটে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহায় গরু কোরবানি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় মুসলিম সমাজের একটি অংশ। রাজ্যের কয়েকটি ঈদ কমিটি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আইন মেনে চলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে গরু কোরবানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার আহ্বানের পর ধুবড়ি ও হোজাই জেলার কয়েকটি ঈদ কমিটি প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। উল্লেখ্য, আসামের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৫ শতাংশ মুসলিম।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ধুবড়ি টাউন ঈদগাহ কমিটি জানায়, ঈদুল আজহা শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত ও সামাজিক দায়িত্ববোধের সঙ্গে পালন করা উচিত। কমিটি মুসলিমদের সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনে কোরবানি দেওয়ার আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আসাম গবাদিপশু সংরক্ষণ আইনের আওতায় গরু জবাই নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানাসহ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
এ ছাড়া শুধুমাত্র নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক শালীনতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোরবানির ছবি বা ভিডিও প্রকাশ না করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে অন্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন থাকে।
ধুবড়ি টাউন ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ঈদুল আজহা ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ঐক্যের শিক্ষা দেয়। তাই উৎসবকে ঘিরে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। একই সঙ্গে উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ধুবড়ি টাউন ঈদগাহ কমিটির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং দেশের আইন মেনে চলার স্বার্থে গরু কোরবানি না করার আহ্বান প্রশংসনীয়। পাশাপাশি তিনি রাজ্যের অন্যান্য ঈদ কমিটিকেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে হোজাই টাউন ঈদগাহ কবরস্থান কমিটিও। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসলাম ধর্মে গরু কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়। ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখেই ঈদ উদযাপন করা উচিত।
ধুবড়ি টাউন ঈদগাহ কমিটির সভাপতি এক সংবাদ বিবৃতিতে বলেন, “আমরা ঈদের সময় গরু কোরবানি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং মুসলিম ভাইদেরও একই আহ্বান জানিয়েছি। ইসলামের মূল শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট পশু কোরবানি নয়, বরং অন্তরের হিংসা, বিদ্বেষ ও অহংকার ত্যাগ করা। আমাদের ধর্মীয় আচারের কারণে অন্য ধর্মের মানুষ যেন কষ্ট না পান, সেটিও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
এস.আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
ভারতের আসামে বিজেপি সরকারের কঠোর আইনি বিধিনিষেধ ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির প্রেক্ষাপটে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহায় গরু কোরবানি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় মুসলিম সমাজের একটি অংশ। রাজ্যের কয়েকটি ঈদ কমিটি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আইন মেনে চলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে গরু কোরবানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার আহ্বানের পর ধুবড়ি ও হোজাই জেলার কয়েকটি ঈদ কমিটি প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। উল্লেখ্য, আসামের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৫ শতাংশ মুসলিম।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ধুবড়ি টাউন ঈদগাহ কমিটি জানায়, ঈদুল আজহা শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত ও সামাজিক দায়িত্ববোধের সঙ্গে পালন করা উচিত। কমিটি মুসলিমদের সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনে কোরবানি দেওয়ার আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আসাম গবাদিপশু সংরক্ষণ আইনের আওতায় গরু জবাই নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানাসহ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
এ ছাড়া শুধুমাত্র নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক শালীনতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোরবানির ছবি বা ভিডিও প্রকাশ না করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে অন্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন থাকে।
ধুবড়ি টাউন ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ঈদুল আজহা ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ঐক্যের শিক্ষা দেয়। তাই উৎসবকে ঘিরে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। একই সঙ্গে উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ধুবড়ি টাউন ঈদগাহ কমিটির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং দেশের আইন মেনে চলার স্বার্থে গরু কোরবানি না করার আহ্বান প্রশংসনীয়। পাশাপাশি তিনি রাজ্যের অন্যান্য ঈদ কমিটিকেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে হোজাই টাউন ঈদগাহ কবরস্থান কমিটিও। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসলাম ধর্মে গরু কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়। ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখেই ঈদ উদযাপন করা উচিত।
ধুবড়ি টাউন ঈদগাহ কমিটির সভাপতি এক সংবাদ বিবৃতিতে বলেন, “আমরা ঈদের সময় গরু কোরবানি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং মুসলিম ভাইদেরও একই আহ্বান জানিয়েছি। ইসলামের মূল শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট পশু কোরবানি নয়, বরং অন্তরের হিংসা, বিদ্বেষ ও অহংকার ত্যাগ করা। আমাদের ধর্মীয় আচারের কারণে অন্য ধর্মের মানুষ যেন কষ্ট না পান, সেটিও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন