ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ভিসা চেক করার নামে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল: ফেসবুকে সক্রিয় চক্র, নীরব কেন প্রশাসন?



ভিসা চেক করার নামে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল: ফেসবুকে সক্রিয় চক্র, নীরব কেন প্রশাসন?
ছবি: এ আই দ্বারা প্রতীকী

সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক ব্যবহার করে ‘ভিসা ভেরিফিকেশন সেন্টার’ নামের একটি পেজ থেকে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু হয়রানিই নয়, ভিসা যাচাই (ভিসা চেক) করে দেওয়ার নামে এই চক্রটি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। একই সাথে চক্রটি বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত করছে।

ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই চক্রটির অপতৎপরতা এতটাই বেপরোয়া যে, কেউ যদি উক্ত পেজের কোনো পোস্টে সত্য তুলে ধরে বা ভিন্ন মত পোষণ করে কমেন্ট করেন, তবে তাকে টার্গেট করা হয়। কমেন্টকারীদের প্রোফাইল ঘেঁটে তাদের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাজে ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে ব্ল্যাকমেইল করাসহ দেওয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেরই অফিশিয়াল ভিসা যাচাইয়ের জন্য নিজস্ব সুরক্ষিত ওয়েবসাইট রয়েছে। অত্যন্ত সহজে এবং বিনামূল্যে বা নামমাত্র ফিতে ঘরে বসেই যেকোনো ব্যক্তি নিজের পাসপোর্ট ও ভিসা নম্বর দিয়ে সত্যতা যাচাই করতে পারেন। এত সহজ ও উন্মুক্ত মাধ্যম থাকার পরেও প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই ভুঁইফোড় ফেসবুক পেজের ফাঁদে পা দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব এবং সহজে বা দ্রুত সেবা পাওয়ার প্রবণতাই সাধারণ মানুষকে এই প্রতারকদের দুয়ারে নিয়ে যাচ্ছে। চক্রটি এমনভাবে তাদের পেজ সাজিয়েছে যা দেখে সাধারণ মানুষ এটিকে কোনো অফিশিয়াল বা অনুমোদিত কেন্দ্র মনে করে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, এই পেজটি থেকে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনের নামে নানান রকম মনগড়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়। সাধারণ বিদেশগামীদের মনে ইমিগ্রেশন নিয়ে অহেতুক ভয় ও ভীতি তৈরি করা এই চক্রের অন্যতম প্রধান কৌশল। পরবর্তীতে এই ভীতিকে পুঁজি করেই "সমস্যা সমাধান" বা "ভিসা ক্লিয়ারেন্স" এর নামে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে তারা।

একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে প্রকাশ্যে সাইবার অপরাধ, চাঁদাবাজি এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অপরাধ ঘটে চললেও এখনো পর্যন্ত চক্রটি অধরাই রয়ে গেছে। দিনের পর দিন এই হয়রানি চলতে থাকায় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সাধারণ মানুষ ও সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধ দমনে দেশের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী যেখানে অত্যন্ত তৎপর, সেখানে এই চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসন কি কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেবে, নাকি অপরাধীরা এভাবেই পার পেয়ে যাবে?

ভুক্তভোগীরা এই ‘ভিসা ভেরিফিকেশন সেন্টার’ নামের পেজটির পেছনে থাকা মূল হোতাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং সাইবার ক্রাইম ইউনিটের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। একই সাথে কোনো ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অর্থনৈতিক লেনদেন বা ভিসা যাচাই না করে, সরাসরি সংশ্লিষ্ট দেশের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহারের জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ভিসা চেক করার নামে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল: ফেসবুকে সক্রিয় চক্র, নীরব কেন প্রশাসন?

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক ব্যবহার করে ‘ভিসা ভেরিফিকেশন সেন্টার’ নামের একটি পেজ থেকে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু হয়রানিই নয়, ভিসা যাচাই (ভিসা চেক) করে দেওয়ার নামে এই চক্রটি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। একই সাথে চক্রটি বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত করছে।

ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই চক্রটির অপতৎপরতা এতটাই বেপরোয়া যে, কেউ যদি উক্ত পেজের কোনো পোস্টে সত্য তুলে ধরে বা ভিন্ন মত পোষণ করে কমেন্ট করেন, তবে তাকে টার্গেট করা হয়। কমেন্টকারীদের প্রোফাইল ঘেঁটে তাদের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাজে ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে ব্ল্যাকমেইল করাসহ দেওয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেরই অফিশিয়াল ভিসা যাচাইয়ের জন্য নিজস্ব সুরক্ষিত ওয়েবসাইট রয়েছে। অত্যন্ত সহজে এবং বিনামূল্যে বা নামমাত্র ফিতে ঘরে বসেই যেকোনো ব্যক্তি নিজের পাসপোর্ট ও ভিসা নম্বর দিয়ে সত্যতা যাচাই করতে পারেন। এত সহজ ও উন্মুক্ত মাধ্যম থাকার পরেও প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই ভুঁইফোড় ফেসবুক পেজের ফাঁদে পা দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব এবং সহজে বা দ্রুত সেবা পাওয়ার প্রবণতাই সাধারণ মানুষকে এই প্রতারকদের দুয়ারে নিয়ে যাচ্ছে। চক্রটি এমনভাবে তাদের পেজ সাজিয়েছে যা দেখে সাধারণ মানুষ এটিকে কোনো অফিশিয়াল বা অনুমোদিত কেন্দ্র মনে করে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, এই পেজটি থেকে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনের নামে নানান রকম মনগড়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়। সাধারণ বিদেশগামীদের মনে ইমিগ্রেশন নিয়ে অহেতুক ভয় ও ভীতি তৈরি করা এই চক্রের অন্যতম প্রধান কৌশল। পরবর্তীতে এই ভীতিকে পুঁজি করেই "সমস্যা সমাধান" বা "ভিসা ক্লিয়ারেন্স" এর নামে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে তারা।

একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে প্রকাশ্যে সাইবার অপরাধ, চাঁদাবাজি এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অপরাধ ঘটে চললেও এখনো পর্যন্ত চক্রটি অধরাই রয়ে গেছে। দিনের পর দিন এই হয়রানি চলতে থাকায় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সাধারণ মানুষ ও সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধ দমনে দেশের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী যেখানে অত্যন্ত তৎপর, সেখানে এই চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসন কি কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেবে, নাকি অপরাধীরা এভাবেই পার পেয়ে যাবে?

ভুক্তভোগীরা এই ‘ভিসা ভেরিফিকেশন সেন্টার’ নামের পেজটির পেছনে থাকা মূল হোতাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং সাইবার ক্রাইম ইউনিটের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। একই সাথে কোনো ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অর্থনৈতিক লেনদেন বা ভিসা যাচাই না করে, সরাসরি সংশ্লিষ্ট দেশের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহারের জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ