ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঈদকে ঘিরে দেবীগঞ্জে কোরবানির পশুর ছড়াছড়ি, প্রস্তুত ২৩ হাজারাধিক গবাদিপশু



ঈদকে ঘিরে দেবীগঞ্জে কোরবানির পশুর ছড়াছড়ি, প্রস্তুত ২৩ হাজারাধিক গবাদিপশু
ছবি: প্রতিনিধি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় কোরবানির জন্য ২৩ হাজার ১৩৩টি গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা। চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬ হাজার বেশি পশু প্রস্তুত থাকায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরের হাটেও পশু সরবরাহের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর দেবীগঞ্জ উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৭ হাজার ২২০টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ২৩ হাজার ১৩৩টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত রয়েছে ৫ হাজার ৯১৩টি পশু। উপজেলার ৬ শতাধিক খামারি ও গৃহস্থ পরিবার এসব পশু লালন-পালন করেছেন।


প্রস্তুত পশুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে গরু। মোট ১৩ হাজার ১২৬টি গরুর মধ্যে ষাঁড় রয়েছে ৯ হাজার ২০টি, বলদ ১ হাজার ৫০১টি এবং গাভী ২ হাজার ৬০৫টি। এছাড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৯ হাজার ৫০৫টি ছাগল, ৪২০টি ভেড়া ও ৮২টি মহিষ।


এদিকে দেবীগঞ্জ উপজেলায় গত কয়েক বছরে বাণিজ্যিকভাবে গবাদিপশু পালনের প্রবণতা বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় খামারিদের পাশাপাশি অনেক পরিবার ঘরোয়া পদ্ধতিতেও কোরবানির ঈদকে ঘিরে বছরজুড়ে পরিকল্পিতভাবে গবাদিপশু পালন করছেন। খামারিরা বলছেন, সারা বছর পরিচর্যা ও খাদ্যের পেছনে বাড়তি খরচ হলেও ঈদকে ঘিরে ভালো দামের প্রত্যাশা করছেন তারা।



টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বিলাসী এলাকার খামারি অপূর্ব রায় বলেন, সারা বছর অনেক যত্ন করে গরু পালন করেছি। এবার লালন-পালনে খরচও বেশি হয়েছে। তারপরও আশা করছি ঈদের বাজারে ভালো দাম পাবো।


শালডাঙ্গা ইউনিয়নের কালুপীর এলাকার খামারি আব্দুস সামাদ বলেন, গতবারের তুলনায় এবার আমি বেশি পশু প্রস্তুত করেছি। দেশীয় গরুর চাহিদা ভালো থাকায় খামারিরা এখন আগ্রহ নিয়ে গরু পালন করছেন।


দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হুমায়ূন কবির বলেন, উপজেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। স্থানীয় খামারিরা চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত করেছেন। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত খামার তদারকি করছি। 



এদিকে প্রতি বছরের মতো ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উপজেলার ভাউলাগঞ্জ, টেপ্রীগঞ্জ, লক্ষীরহাট ও কালীগঞ্জ হাটে পশু উঠতে শুরু করেছে। এছাড়া পাশ্ববর্তী নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার বসুনিয়ার হাটেও বিক্রি হবে দেবীগঞ্জে লালন-পালন করা কোরবানির পশু। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিও বাড়তে শুরু করেছে।



দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক বলেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা করা হয়েছে। পশুর হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্ত করার সরঞ্জামসহ ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ঈদকে ঘিরে দেবীগঞ্জে কোরবানির পশুর ছড়াছড়ি, প্রস্তুত ২৩ হাজারাধিক গবাদিপশু

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় কোরবানির জন্য ২৩ হাজার ১৩৩টি গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা। চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬ হাজার বেশি পশু প্রস্তুত থাকায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরের হাটেও পশু সরবরাহের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর দেবীগঞ্জ উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৭ হাজার ২২০টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ২৩ হাজার ১৩৩টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত রয়েছে ৫ হাজার ৯১৩টি পশু। উপজেলার ৬ শতাধিক খামারি ও গৃহস্থ পরিবার এসব পশু লালন-পালন করেছেন।


প্রস্তুত পশুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে গরু। মোট ১৩ হাজার ১২৬টি গরুর মধ্যে ষাঁড় রয়েছে ৯ হাজার ২০টি, বলদ ১ হাজার ৫০১টি এবং গাভী ২ হাজার ৬০৫টি। এছাড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৯ হাজার ৫০৫টি ছাগল, ৪২০টি ভেড়া ও ৮২টি মহিষ।


এদিকে দেবীগঞ্জ উপজেলায় গত কয়েক বছরে বাণিজ্যিকভাবে গবাদিপশু পালনের প্রবণতা বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় খামারিদের পাশাপাশি অনেক পরিবার ঘরোয়া পদ্ধতিতেও কোরবানির ঈদকে ঘিরে বছরজুড়ে পরিকল্পিতভাবে গবাদিপশু পালন করছেন। খামারিরা বলছেন, সারা বছর পরিচর্যা ও খাদ্যের পেছনে বাড়তি খরচ হলেও ঈদকে ঘিরে ভালো দামের প্রত্যাশা করছেন তারা।



টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বিলাসী এলাকার খামারি অপূর্ব রায় বলেন, সারা বছর অনেক যত্ন করে গরু পালন করেছি। এবার লালন-পালনে খরচও বেশি হয়েছে। তারপরও আশা করছি ঈদের বাজারে ভালো দাম পাবো।


শালডাঙ্গা ইউনিয়নের কালুপীর এলাকার খামারি আব্দুস সামাদ বলেন, গতবারের তুলনায় এবার আমি বেশি পশু প্রস্তুত করেছি। দেশীয় গরুর চাহিদা ভালো থাকায় খামারিরা এখন আগ্রহ নিয়ে গরু পালন করছেন।


দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হুমায়ূন কবির বলেন, উপজেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। স্থানীয় খামারিরা চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত করেছেন। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত খামার তদারকি করছি। 



এদিকে প্রতি বছরের মতো ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উপজেলার ভাউলাগঞ্জ, টেপ্রীগঞ্জ, লক্ষীরহাট ও কালীগঞ্জ হাটে পশু উঠতে শুরু করেছে। এছাড়া পাশ্ববর্তী নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার বসুনিয়ার হাটেও বিক্রি হবে দেবীগঞ্জে লালন-পালন করা কোরবানির পশু। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিও বাড়তে শুরু করেছে।



দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক বলেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা করা হয়েছে। পশুর হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্ত করার সরঞ্জামসহ ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ