শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি শেরে বাংলাকে অবিভক্ত ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বার্তায় তারেক রহমান বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক শুধু কৃষক সমাজের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের একজন অবিসংবাদিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার সংবেদনশীলতা, মানবিকতা এবং রাজনৈতিক দৃঢ়তা তাকে সর্বভারতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, উপমহাদেশের রাজনীতি, কৃষি, অর্থনীতি এবং কৃষক অধিকার প্রতিষ্ঠায় শেরে বাংলার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, শেরে বাংলার রাজনৈতিক দর্শন ছিল কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থকে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে নিয়ে আসা।
তার বক্তব্যে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক এই প্রস্তাব উত্থাপন করে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। এই প্রস্তাব আজও ইতিহাসবিদদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এবং এটি তার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রমাণ বহন করে।
তারেক রহমান বলেন, শেরে বাংলা ছিলেন বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, অবিভক্ত বাংলার রাজনৈতিক কাঠামো কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই তিনি কৃষকদের স্বার্থ রক্ষাকে রাজনীতির মূলধারায় নিয়ে আসেন।
১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কৃষক ও শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণ করেন। প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগও তার সময়েই শুরু হয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, শেরে বাংলা শিক্ষা বিস্তার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার এই উদ্যোগ সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।
বার্তায় শেরে বাংলার রাজনৈতিক জীবনের বহুমাত্রিক দিকও তুলে ধরা হয়। তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং আইনসভার সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, বরং একটি বৃহত্তর গণমানুষের আন্দোলনের প্রতীক ছিলেন। ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
তারেক রহমান তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ইতিহাসে একজন আপসহীন, দূরদর্শী এবং জনবান্ধব নেতা হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি শেরে বাংলাকে অবিভক্ত ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বার্তায় তারেক রহমান বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক শুধু কৃষক সমাজের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের একজন অবিসংবাদিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার সংবেদনশীলতা, মানবিকতা এবং রাজনৈতিক দৃঢ়তা তাকে সর্বভারতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, উপমহাদেশের রাজনীতি, কৃষি, অর্থনীতি এবং কৃষক অধিকার প্রতিষ্ঠায় শেরে বাংলার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, শেরে বাংলার রাজনৈতিক দর্শন ছিল কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থকে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে নিয়ে আসা।
তার বক্তব্যে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক এই প্রস্তাব উত্থাপন করে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। এই প্রস্তাব আজও ইতিহাসবিদদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এবং এটি তার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রমাণ বহন করে।
তারেক রহমান বলেন, শেরে বাংলা ছিলেন বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, অবিভক্ত বাংলার রাজনৈতিক কাঠামো কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই তিনি কৃষকদের স্বার্থ রক্ষাকে রাজনীতির মূলধারায় নিয়ে আসেন।
১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কৃষক ও শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণ করেন। প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগও তার সময়েই শুরু হয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, শেরে বাংলা শিক্ষা বিস্তার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার এই উদ্যোগ সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।
বার্তায় শেরে বাংলার রাজনৈতিক জীবনের বহুমাত্রিক দিকও তুলে ধরা হয়। তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং আইনসভার সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, বরং একটি বৃহত্তর গণমানুষের আন্দোলনের প্রতীক ছিলেন। ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
তারেক রহমান তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ইতিহাসে একজন আপসহীন, দূরদর্শী এবং জনবান্ধব নেতা হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

আপনার মতামত লিখুন