চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘি মাঠ যেন আবারও সাক্ষী থাকল এক নতুন ইতিহাসের। জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসরে কুমিল্লার মো. শরীফ, যিনি সবার কাছে ‘বাঘা শরীফ’ নামে পরিচিত, টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে গড়লেন অনন্য নজির। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি অর্জন করলেন হ্যাটট্রিক শিরোপা, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদার।
শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত জমজমাট ফাইনালে শরীফ মুখোমুখি হন নিজেরই জেলার প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদ বলীর। শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা, শক্তি আর কৌশলের লড়াই।
প্রায় ২৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ড ধরে চলা এই দ্বৈরথে দুজনই একে অপরকে চাপে রাখার চেষ্টা চালান। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে দর্শকরা পান রোমাঞ্চকর এক লড়াই। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে রাশেদকে মাটিতে ফেলতে সক্ষম হন ‘বাঘা’ শরীফ, নিশ্চিত করেন নিজের তৃতীয় শিরোপা।
এটি ছিল টানা তৃতীয় বছর, যখন ফাইনালে মুখোমুখি হলেন শরীফ ও রাশেদ। ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে বিজয়ী ছিলেন শরীফ, আর রানারআপ হয়েছিলেন রাশেদ। এবারের আসরেও সেই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটল, যা শরীফের আধিপত্যকে আরও সুস্পষ্ট করে তোলে।
ফাইনাল জয়ের পর লালদীঘি মাঠে নেমে আসে উৎসবের আমেজ। হাজারো দর্শকের হাততালি, উল্লাস আর ঢোলের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হওয়া মানুষেরা প্রাণভরে উপভোগ করেন এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।
প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালেও ছিল উত্তেজনা। প্রথম সেমিফাইনালে রাশেদ বলী মিঠুকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শাহ জালালের বিপক্ষে সমঝোতার ভিত্তিতে ‘বাঘা’ শরীফকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো একই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইনালে মুখোমুখি হন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে জয় পান মিঠু।
বিকেল সাড়ে ৩টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর আগে থেকেই লালদীঘি মাঠ দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
বলীখেলাকে ঘিরে বসা দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলাও ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। মাঠসংলগ্ন এলাকায় খাবার, খেলনা, মাটির তৈরি পণ্যসহ নানা গ্রামীণ সামগ্রীর দোকানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। উৎসবমুখর পরিবেশে কেনাবেচাও চলে জমজমাটভাবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বলীখেলার ইতিহাস শত বছরেরও বেশি পুরোনো। ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতে এই প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান লোকঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শতাধিক বলী অংশ নেন। তবে সব প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিজের করে নেন কুমিল্লার ‘বাঘা’ শরীফ। তার এই টানা তিনবারের জয় শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং জব্বারের বলীখেলার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘি মাঠ যেন আবারও সাক্ষী থাকল এক নতুন ইতিহাসের। জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসরে কুমিল্লার মো. শরীফ, যিনি সবার কাছে ‘বাঘা শরীফ’ নামে পরিচিত, টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে গড়লেন অনন্য নজির। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি অর্জন করলেন হ্যাটট্রিক শিরোপা, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদার।
শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত জমজমাট ফাইনালে শরীফ মুখোমুখি হন নিজেরই জেলার প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদ বলীর। শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা, শক্তি আর কৌশলের লড়াই।
প্রায় ২৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ড ধরে চলা এই দ্বৈরথে দুজনই একে অপরকে চাপে রাখার চেষ্টা চালান। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে দর্শকরা পান রোমাঞ্চকর এক লড়াই। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে রাশেদকে মাটিতে ফেলতে সক্ষম হন ‘বাঘা’ শরীফ, নিশ্চিত করেন নিজের তৃতীয় শিরোপা।
এটি ছিল টানা তৃতীয় বছর, যখন ফাইনালে মুখোমুখি হলেন শরীফ ও রাশেদ। ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে বিজয়ী ছিলেন শরীফ, আর রানারআপ হয়েছিলেন রাশেদ। এবারের আসরেও সেই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটল, যা শরীফের আধিপত্যকে আরও সুস্পষ্ট করে তোলে।
ফাইনাল জয়ের পর লালদীঘি মাঠে নেমে আসে উৎসবের আমেজ। হাজারো দর্শকের হাততালি, উল্লাস আর ঢোলের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হওয়া মানুষেরা প্রাণভরে উপভোগ করেন এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।
প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালেও ছিল উত্তেজনা। প্রথম সেমিফাইনালে রাশেদ বলী মিঠুকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শাহ জালালের বিপক্ষে সমঝোতার ভিত্তিতে ‘বাঘা’ শরীফকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো একই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইনালে মুখোমুখি হন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে জয় পান মিঠু।
বিকেল সাড়ে ৩টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর আগে থেকেই লালদীঘি মাঠ দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
বলীখেলাকে ঘিরে বসা দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলাও ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। মাঠসংলগ্ন এলাকায় খাবার, খেলনা, মাটির তৈরি পণ্যসহ নানা গ্রামীণ সামগ্রীর দোকানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। উৎসবমুখর পরিবেশে কেনাবেচাও চলে জমজমাটভাবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বলীখেলার ইতিহাস শত বছরেরও বেশি পুরোনো। ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতে এই প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান লোকঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শতাধিক বলী অংশ নেন। তবে সব প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিজের করে নেন কুমিল্লার ‘বাঘা’ শরীফ। তার এই টানা তিনবারের জয় শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং জব্বারের বলীখেলার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন