ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

SK Hynix-এর সঙ্গে বিশাল বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে Samsung কর্মীরা দীর্ঘ ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন


আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি
আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

SK Hynix-এর সঙ্গে বিশাল বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে Samsung কর্মীরা দীর্ঘ ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন
ছবি : রয়টার্স থেকে সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সে বেতন ও বোনাস বৈষম্যকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সিউলে অনুষ্ঠিত এক বিশাল বিক্ষোভে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী অংশ নেন, যেখানে তারা বেতন বৃদ্ধি, বোনাস কাঠামোর স্বচ্ছতা এবং ঊর্ধ্বসীমা বাতিলের দাবি জানান।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রতিদ্বন্দ্বী চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান SK Hynix-এর তুলনায় কম বেতন ও বোনাস পাচ্ছেন। এতে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে এবং অনেকেই ভালো সুযোগের সন্ধানে প্রতিষ্ঠান ছাড়ছেন বলে দাবি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সিউলের বৃহৎ সেমিকন্ডাক্টর কমপ্লেক্সে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা বলেন, কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিপুল বোনাস পেলেও সাধারণ কর্মীরা ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের দাবি, কোম্পানির লাভের প্রকৃত অংশীদার হওয়া উচিত কর্মীরাও।

একজন বিক্ষোভকারী বলেন, তারা শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করতে আসেননি, বরং নিজেদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে একত্রিত হয়েছেন। তার ভাষায়, কোম্পানির সাফল্য শ্রমিকদের পরিশ্রমের ফল হলেও তার সুফল নিচ্ছেন মূলত শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

আরেক কর্মী জানান, বেতন ব্যবধান এতটাই বেড়েছে যে তা এখন কর্মীদের চাকরি পরিবর্তনের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলছে।

শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মূল দাবি হিসেবে বেসিক বেতন ৭ শতাংশ বৃদ্ধি এবং কোম্পানির মোট পরিচালন মুনাফার ১৫ শতাংশ বোনাস হিসেবে বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আগামী ২১ মে থেকে ১৮ দিনের টানা কঠোর ধর্মঘটে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইউনিয়ন।

বর্তমানে স্যামসাংয়ের শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার, যা কোম্পানির মোট কর্মীবাহিনীর ৭০ শতাংশেরও বেশি বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, Samsung Electronics কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী। ব্যবস্থাপনা পক্ষ থেকে মোট মুনাফার ১০ শতাংশ বোনাস হিসেবে দেওয়ার একটি প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও আলোচনার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনাই বেশি, কারণ দীর্ঘমেয়াদি ধর্মঘট কোম্পানির উৎপাদন ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


SK Hynix-এর সঙ্গে বিশাল বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে Samsung কর্মীরা দীর্ঘ ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সে বেতন ও বোনাস বৈষম্যকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সিউলে অনুষ্ঠিত এক বিশাল বিক্ষোভে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী অংশ নেন, যেখানে তারা বেতন বৃদ্ধি, বোনাস কাঠামোর স্বচ্ছতা এবং ঊর্ধ্বসীমা বাতিলের দাবি জানান।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রতিদ্বন্দ্বী চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান SK Hynix-এর তুলনায় কম বেতন ও বোনাস পাচ্ছেন। এতে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে এবং অনেকেই ভালো সুযোগের সন্ধানে প্রতিষ্ঠান ছাড়ছেন বলে দাবি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সিউলের বৃহৎ সেমিকন্ডাক্টর কমপ্লেক্সে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা বলেন, কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিপুল বোনাস পেলেও সাধারণ কর্মীরা ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের দাবি, কোম্পানির লাভের প্রকৃত অংশীদার হওয়া উচিত কর্মীরাও।

একজন বিক্ষোভকারী বলেন, তারা শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করতে আসেননি, বরং নিজেদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে একত্রিত হয়েছেন। তার ভাষায়, কোম্পানির সাফল্য শ্রমিকদের পরিশ্রমের ফল হলেও তার সুফল নিচ্ছেন মূলত শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

আরেক কর্মী জানান, বেতন ব্যবধান এতটাই বেড়েছে যে তা এখন কর্মীদের চাকরি পরিবর্তনের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলছে।

শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মূল দাবি হিসেবে বেসিক বেতন ৭ শতাংশ বৃদ্ধি এবং কোম্পানির মোট পরিচালন মুনাফার ১৫ শতাংশ বোনাস হিসেবে বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আগামী ২১ মে থেকে ১৮ দিনের টানা কঠোর ধর্মঘটে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইউনিয়ন।

বর্তমানে স্যামসাংয়ের শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার, যা কোম্পানির মোট কর্মীবাহিনীর ৭০ শতাংশেরও বেশি বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, Samsung Electronics কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী। ব্যবস্থাপনা পক্ষ থেকে মোট মুনাফার ১০ শতাংশ বোনাস হিসেবে দেওয়ার একটি প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও আলোচনার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনাই বেশি, কারণ দীর্ঘমেয়াদি ধর্মঘট কোম্পানির উৎপাদন ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ