লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে আসা এক মোটরসাইকেল চালককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার চাপারহাট এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন পাম্পে জ্বালানি নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি ছিল। সেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন নদী রায় নামের এক তরুণ, যিনি স্থানীয় একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ফুয়েল কার্ডের ছবির সঙ্গে তার চেহারার মিল না থাকায় ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান প্রথমে তার শার্টের কলার ধরে টানাটানি করেন। পরে তাকে প্রকাশ্যে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন এবং মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই এ সময় হতবাক হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে আসেন।
ভুক্তভোগী নদী রায় জানান, তিনি একজন অসুস্থ ব্যক্তির মোটরসাইকেল ও ফুয়েল কার্ড নিয়ে পাম্পে জ্বালানি নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার কথা শোনার আগেই ইউএনও তাকে মারধর করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের চাপের মুখে প্রায় এক ঘণ্টা পর তার মোটরসাইকেলের চাবি ফেরত দেওয়া হয়।
একই দিনে উপজেলার তুষভাণ্ডার বাজারের আরেকটি পাম্পেও ইউএনওর বিরুদ্ধে অনুরূপ আচরণের অভিযোগ ওঠে। সেখানে তিনি লাঠি হাতে বাইকারদের শাসান এবং একপর্যায়ে একটি মোটরসাইকেল ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উপস্থিত জনতা ইউএনওর আচরণের প্রতিবাদ জানান।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান। তিনি দাবি করেন, তিনি কাউকে মারধর করেননি, শুধু নিয়ম না মানায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোটরসাইকেলের চাবি নিয়েছিলেন। তার ভাষায়, “আমি কাউকে থাপ্পড় মারিনি। ফুয়েল কার্ড সঠিক না থাকায় এবং নিয়ম ভঙ্গ করায় চাবি নিয়ে পরে অফিসে যোগাযোগ করতে বলেছিলাম। পরে তার অভিভাবকরা এলে চাবি ফেরত দেওয়া হয়েছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ প্রশাসনের নিয়ম বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিলেও অনেকেই ইউএনওর আচরণকে অযৌক্তিক ও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, আইন প্রয়োগের নামে কাউকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এখন দেখার বিষয়, ঊর্ধ্বতন প্রশাসন এ ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে আসা এক মোটরসাইকেল চালককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার চাপারহাট এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন পাম্পে জ্বালানি নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি ছিল। সেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন নদী রায় নামের এক তরুণ, যিনি স্থানীয় একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ফুয়েল কার্ডের ছবির সঙ্গে তার চেহারার মিল না থাকায় ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান প্রথমে তার শার্টের কলার ধরে টানাটানি করেন। পরে তাকে প্রকাশ্যে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন এবং মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই এ সময় হতবাক হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে আসেন।
ভুক্তভোগী নদী রায় জানান, তিনি একজন অসুস্থ ব্যক্তির মোটরসাইকেল ও ফুয়েল কার্ড নিয়ে পাম্পে জ্বালানি নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার কথা শোনার আগেই ইউএনও তাকে মারধর করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের চাপের মুখে প্রায় এক ঘণ্টা পর তার মোটরসাইকেলের চাবি ফেরত দেওয়া হয়।
একই দিনে উপজেলার তুষভাণ্ডার বাজারের আরেকটি পাম্পেও ইউএনওর বিরুদ্ধে অনুরূপ আচরণের অভিযোগ ওঠে। সেখানে তিনি লাঠি হাতে বাইকারদের শাসান এবং একপর্যায়ে একটি মোটরসাইকেল ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উপস্থিত জনতা ইউএনওর আচরণের প্রতিবাদ জানান।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান। তিনি দাবি করেন, তিনি কাউকে মারধর করেননি, শুধু নিয়ম না মানায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোটরসাইকেলের চাবি নিয়েছিলেন। তার ভাষায়, “আমি কাউকে থাপ্পড় মারিনি। ফুয়েল কার্ড সঠিক না থাকায় এবং নিয়ম ভঙ্গ করায় চাবি নিয়ে পরে অফিসে যোগাযোগ করতে বলেছিলাম। পরে তার অভিভাবকরা এলে চাবি ফেরত দেওয়া হয়েছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ প্রশাসনের নিয়ম বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিলেও অনেকেই ইউএনওর আচরণকে অযৌক্তিক ও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, আইন প্রয়োগের নামে কাউকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এখন দেখার বিষয়, ঊর্ধ্বতন প্রশাসন এ ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন