উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার এক যুবককে কম্বোডিয়ায় পাচার করে অপরাধী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সেখানে তাকে অমানবিক নির্যাতন ও মুক্তিপণের জন্য ‘ডেথ ক্যাম্পে’ আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তবে দীর্ঘ দুঃসহ পরিস্থিতির পর অবশেষে তিনি দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
ঘটনাটি কেন্দ্র করে মানব পাচার আইনে দিনাজপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. শাফিন মণ্ডলের বাবা নূর ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় গাইবান্ধা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব রাহাদ ইবনে শহিদ এবং তার বাবা মো. শহিদুল ইসলামসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। শাফিনের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর ভাদুরিয়া ইউনিয়নের ভাদুরিয়া বাজার এলাকায়।
মামলার এজাহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাফিনের বাবা নূর ইসলাম চাকরির সূত্রে গাইবান্ধায় থাকাকালীন স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল লতিফ সরকারের সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীতে আবদুল লতিফ তাদের বাড়িতে গিয়ে শাফিনকে বিদেশে চাকরির প্রস্তাব দেন এবং রাহাদ ইবনে শহিদ ও শহিদুল ইসলামের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তারা শাফিনকে কম্বোডিয়ায় কম্পিউটার অপারেটর পদে দুই বছরের চাকরির আশ্বাস দেন এবং এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিও সম্পন্ন হয়।
চুক্তি অনুযায়ী কয়েক দফায় শাফিনের পরিবার মোট ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা প্রদান করে। এরপর গত বছরের ৩১ অক্টোবর তাকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, দুই বছরের ভিসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তাকে মাত্র তিন মাসের ভিসা দেওয়া হয়, যার মেয়াদ শেষ হয় ৭ ডিসেম্বর ২০২৫।
ভুক্তভোগীর দাবি, কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তাকে প্রতিশ্রুত চাকরিতে না নিয়ে একটি অপরাধী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয় এবং অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এক পর্যায়ে মুক্তিপণের জন্য তার পরিবারের কাছে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে তার বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়েছে। পাচারকারী চক্রকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দ্রুতই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার এক যুবককে কম্বোডিয়ায় পাচার করে অপরাধী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সেখানে তাকে অমানবিক নির্যাতন ও মুক্তিপণের জন্য ‘ডেথ ক্যাম্পে’ আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তবে দীর্ঘ দুঃসহ পরিস্থিতির পর অবশেষে তিনি দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
ঘটনাটি কেন্দ্র করে মানব পাচার আইনে দিনাজপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. শাফিন মণ্ডলের বাবা নূর ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় গাইবান্ধা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব রাহাদ ইবনে শহিদ এবং তার বাবা মো. শহিদুল ইসলামসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। শাফিনের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর ভাদুরিয়া ইউনিয়নের ভাদুরিয়া বাজার এলাকায়।
মামলার এজাহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাফিনের বাবা নূর ইসলাম চাকরির সূত্রে গাইবান্ধায় থাকাকালীন স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল লতিফ সরকারের সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীতে আবদুল লতিফ তাদের বাড়িতে গিয়ে শাফিনকে বিদেশে চাকরির প্রস্তাব দেন এবং রাহাদ ইবনে শহিদ ও শহিদুল ইসলামের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তারা শাফিনকে কম্বোডিয়ায় কম্পিউটার অপারেটর পদে দুই বছরের চাকরির আশ্বাস দেন এবং এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিও সম্পন্ন হয়।
চুক্তি অনুযায়ী কয়েক দফায় শাফিনের পরিবার মোট ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা প্রদান করে। এরপর গত বছরের ৩১ অক্টোবর তাকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, দুই বছরের ভিসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তাকে মাত্র তিন মাসের ভিসা দেওয়া হয়, যার মেয়াদ শেষ হয় ৭ ডিসেম্বর ২০২৫।
ভুক্তভোগীর দাবি, কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তাকে প্রতিশ্রুত চাকরিতে না নিয়ে একটি অপরাধী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয় এবং অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এক পর্যায়ে মুক্তিপণের জন্য তার পরিবারের কাছে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে তার বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়েছে। পাচারকারী চক্রকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দ্রুতই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন