ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

আমরা শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আমরা শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ইরান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তেহরানে অনুষ্ঠিত এ বৈঠককে ওয়াশিংটন-তেহরান অচলাবস্থা নিরসনের সম্ভাব্য প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসিম মুনির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে তেহরান সফর করেন। সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা নিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সাম্প্রতিক সংঘাত ও যুদ্ধবিরতির পর দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, ফিল্ড মার্শাল মুনিরকে ইরানে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। পাকিস্তানের উদ্যোগে চলমান শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা ও দৃঢ়তার প্রতিফলন।

আরাকচি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারে ইরানের অবস্থান অটুট রয়েছে। তার এই মন্তব্যকে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা পদক্ষেপ নেয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়। পরে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে বিভিন্ন পক্ষ যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মূল রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান হয়নি। ফলে যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগও জোরদার হয়েছে।

গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হলেও দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে পাকিস্তান ও ইরান—উভয় পক্ষই জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই দিনের মধ্যে নতুন কিছু ঘটতে পারে এবং তারা পাকিস্তানে যেতে আগ্রহী। তার এই মন্তব্যের পরই নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা আরও গুরুত্ব পায়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক আলোচনা কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এই মুহূর্তে একটি গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, অন্যদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ—দুই দিক থেকেই ইসলামাবাদের অবস্থান তুলনামূলক সুবিধাজনক।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে হলে শুধু সামরিক বিরতি নয়, রাজনৈতিক সমঝোতাও জরুরি। সেই প্রেক্ষাপটে তেহরানে মুনির-আরাকচি বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ কতটা দ্রুত খুলে যায়।

#আরএ

বিষয় : ইরান

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


আমরা শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ইরান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তেহরানে অনুষ্ঠিত এ বৈঠককে ওয়াশিংটন-তেহরান অচলাবস্থা নিরসনের সম্ভাব্য প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসিম মুনির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে তেহরান সফর করেন। সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা নিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সাম্প্রতিক সংঘাত ও যুদ্ধবিরতির পর দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, ফিল্ড মার্শাল মুনিরকে ইরানে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। পাকিস্তানের উদ্যোগে চলমান শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা ও দৃঢ়তার প্রতিফলন।

আরাকচি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারে ইরানের অবস্থান অটুট রয়েছে। তার এই মন্তব্যকে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা পদক্ষেপ নেয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়। পরে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে বিভিন্ন পক্ষ যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মূল রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান হয়নি। ফলে যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগও জোরদার হয়েছে।

গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হলেও দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে পাকিস্তান ও ইরান—উভয় পক্ষই জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই দিনের মধ্যে নতুন কিছু ঘটতে পারে এবং তারা পাকিস্তানে যেতে আগ্রহী। তার এই মন্তব্যের পরই নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা আরও গুরুত্ব পায়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক আলোচনা কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এই মুহূর্তে একটি গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, অন্যদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ—দুই দিক থেকেই ইসলামাবাদের অবস্থান তুলনামূলক সুবিধাজনক।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে হলে শুধু সামরিক বিরতি নয়, রাজনৈতিক সমঝোতাও জরুরি। সেই প্রেক্ষাপটে তেহরানে মুনির-আরাকচি বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ কতটা দ্রুত খুলে যায়।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ