ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অ্যাসিডিটি নয়, বড় রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে বুকের অস্বস্তি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

অ্যাসিডিটি নয়, বড় রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে বুকের অস্বস্তি

খাওয়ার পর বুক জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি অনুভূতিকে অনেকেই সাধারণ অ্যাসিডিটি ভেবে গুরুত্ব দেন না। দ্রুত অ্যান্টাসিড গ্রহণের মাধ্যমে সাময়িক স্বস্তি মিললেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উপসর্গ বারবার দেখা দিলে বা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে এটি শুধুই হজমের সমস্যা নাও হতে পারে। বরং পাকস্থলী, খাদ্যনালী কিংবা হৃদ্‌যন্ত্রের জটিল রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত অ্যাসিডিটি বা বুকের অস্বস্তিকে হালকাভাবে নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। 

বেঙ্গালুরুর গ্যাস্ট্রো সার্জন ডা. নিখিল শেলাগি জানিয়েছেন, অনেক রোগী দীর্ঘদিন উপসর্গ উপেক্ষা করার পর গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আসছেন। তার মতে, অ্যাসিডিটি তখনই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন এটি নিয়মিত হয় এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করতে শুরু করে।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক সময় এই ধরনের উপসর্গ শুধু পাকস্থলীর সমস্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি খাদ্যনালীর জটিলতা বা কিছু ক্ষেত্রে হৃদ্‌রোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। ফলে শুধু ওষুধ খেয়ে উপসর্গ দমন করা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

একটি উদাহরণ হিসেবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পেটের অস্বস্তি, বমিভাব এবং মাথাব্যথাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করেছিলেন। পরবর্তীতে তার বুকব্যথা বাড়তে থাকে এবং হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। 

পরে পরীক্ষায় দেখা যায়, তিনি হায়াটাস হার্নিয়ায় আক্রান্ত, যেখানে পাকস্থলীর একটি অংশ বুকে উঠে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়ায় তার চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অ্যাসিডিটি, যা সাধারণ ওষুধে নিয়ন্ত্রণে আসে না, অকারণে বুকব্যথা, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা ক্ষুধামন্দা, খাবার গিলতে সমস্যা বা বারবার খাবার উঠে আসা। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চিকিৎসকরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসা সহজ হয় এবং বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। কিন্তু দেরি হলে তা খাদ্যনালীর ক্ষতি, পাকস্থলীর জটিলতা বা হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ঝুঁকি কমাতে কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন অল্প অল্প করে বারবার খাবার খাওয়া, খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে না পড়া, অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং দীর্ঘদিন নিজে থেকে ওষুধ ব্যবহার না করা।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, অনেকেই বুকের অস্বস্তিকে শুধু হজমের সমস্যা ভেবে সময় নষ্ট করেন, যা পরবর্তীতে বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। শরীর সাধারণত ছোট ছোট সংকেতের মাধ্যমে বড় সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। তাই এসব উপসর্গকে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ পথ।

#আরএ

বিষয় : বুকের অস্বস্তি

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


অ্যাসিডিটি নয়, বড় রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে বুকের অস্বস্তি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

খাওয়ার পর বুক জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি অনুভূতিকে অনেকেই সাধারণ অ্যাসিডিটি ভেবে গুরুত্ব দেন না। দ্রুত অ্যান্টাসিড গ্রহণের মাধ্যমে সাময়িক স্বস্তি মিললেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উপসর্গ বারবার দেখা দিলে বা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে এটি শুধুই হজমের সমস্যা নাও হতে পারে। বরং পাকস্থলী, খাদ্যনালী কিংবা হৃদ্‌যন্ত্রের জটিল রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত অ্যাসিডিটি বা বুকের অস্বস্তিকে হালকাভাবে নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। 

বেঙ্গালুরুর গ্যাস্ট্রো সার্জন ডা. নিখিল শেলাগি জানিয়েছেন, অনেক রোগী দীর্ঘদিন উপসর্গ উপেক্ষা করার পর গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আসছেন। তার মতে, অ্যাসিডিটি তখনই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন এটি নিয়মিত হয় এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করতে শুরু করে।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক সময় এই ধরনের উপসর্গ শুধু পাকস্থলীর সমস্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি খাদ্যনালীর জটিলতা বা কিছু ক্ষেত্রে হৃদ্‌রোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। ফলে শুধু ওষুধ খেয়ে উপসর্গ দমন করা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

একটি উদাহরণ হিসেবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পেটের অস্বস্তি, বমিভাব এবং মাথাব্যথাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করেছিলেন। পরবর্তীতে তার বুকব্যথা বাড়তে থাকে এবং হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। 

পরে পরীক্ষায় দেখা যায়, তিনি হায়াটাস হার্নিয়ায় আক্রান্ত, যেখানে পাকস্থলীর একটি অংশ বুকে উঠে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়ায় তার চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অ্যাসিডিটি, যা সাধারণ ওষুধে নিয়ন্ত্রণে আসে না, অকারণে বুকব্যথা, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা ক্ষুধামন্দা, খাবার গিলতে সমস্যা বা বারবার খাবার উঠে আসা। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চিকিৎসকরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসা সহজ হয় এবং বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। কিন্তু দেরি হলে তা খাদ্যনালীর ক্ষতি, পাকস্থলীর জটিলতা বা হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ঝুঁকি কমাতে কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন অল্প অল্প করে বারবার খাবার খাওয়া, খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে না পড়া, অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং দীর্ঘদিন নিজে থেকে ওষুধ ব্যবহার না করা।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, অনেকেই বুকের অস্বস্তিকে শুধু হজমের সমস্যা ভেবে সময় নষ্ট করেন, যা পরবর্তীতে বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। শরীর সাধারণত ছোট ছোট সংকেতের মাধ্যমে বড় সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। তাই এসব উপসর্গকে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ পথ।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ