ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ২৭ হাজার কোটি ডলার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ২৭ হাজার কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে শুরু হওয়া চলমান সংঘাতে ইরানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল আকার ধারণ করেছে। 

দেশটির সরকারি ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির প্রাথমিক আনুমানিক হিসাব দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ২৭ হাজার কোটি ডলার। এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনায় ক্ষতিপূরণ ইস্যু হিসেবে উত্থাপনের পরিকল্পনা করছে তেহরান।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং বিভিন্ন খাতে ধ্বংসের মাত্রা নিরূপণের কাজ চলমান রয়েছে। আইআরজিসি’র মতে, শুধুমাত্র অবকাঠামোগত ক্ষতিই নয়, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং রাজস্ব ক্ষতির বিষয়গুলোও মোট হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি রুশ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “প্রাথমিক ও খুবই আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার। তবে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।” তিনি আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে আবাসিক ভবন, সরকারি স্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো এবং শিল্প খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষতি শুধু তাৎক্ষণিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে ইরানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করতে পারে।

মোহাজেরানি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। তেহরান মনে করছে, যুদ্ধজনিত ক্ষতির আর্থিক দায় নির্ধারণ আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত।

চলমান সংঘাতের পেছনে ইরান সরাসরি দায় চাপাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরাইল-এর ওপর। তেহরানের দাবি, এই সামরিক অভিযানের ফলে দেশটির অর্থনীতি, অবকাঠামো ও বেসামরিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সরাসরি স্বীকার করা হয়নি এবং তারা পরিস্থিতিকে “নিরাপত্তাজনিত অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করছে।

এদিকে কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা কমাতে কয়েকটি আন্তর্জাতিক বৈঠকের আয়োজন করা হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও আস্থার ঘাটতি এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির দাবি ভবিষ্যৎ আলোচনায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিপূরণ ইস্যু যুক্ত হলে শান্তি প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দর-কষাকষির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান একদিকে যুদ্ধের ক্ষতি নিরূপণ ও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্ষতিপূরণের দাবি জোরালো করার কৌশল নিচ্ছে। তবে চলমান সংঘাত ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা বিবেচনায় দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

#আরএ

বিষয় : ইরান

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ২৭ হাজার কোটি ডলার

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে শুরু হওয়া চলমান সংঘাতে ইরানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল আকার ধারণ করেছে। 

দেশটির সরকারি ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির প্রাথমিক আনুমানিক হিসাব দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ২৭ হাজার কোটি ডলার। এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনায় ক্ষতিপূরণ ইস্যু হিসেবে উত্থাপনের পরিকল্পনা করছে তেহরান।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং বিভিন্ন খাতে ধ্বংসের মাত্রা নিরূপণের কাজ চলমান রয়েছে। আইআরজিসি’র মতে, শুধুমাত্র অবকাঠামোগত ক্ষতিই নয়, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং রাজস্ব ক্ষতির বিষয়গুলোও মোট হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি রুশ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “প্রাথমিক ও খুবই আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার। তবে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।” তিনি আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে আবাসিক ভবন, সরকারি স্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো এবং শিল্প খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষতি শুধু তাৎক্ষণিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে ইরানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করতে পারে।

মোহাজেরানি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। তেহরান মনে করছে, যুদ্ধজনিত ক্ষতির আর্থিক দায় নির্ধারণ আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত।

চলমান সংঘাতের পেছনে ইরান সরাসরি দায় চাপাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরাইল-এর ওপর। তেহরানের দাবি, এই সামরিক অভিযানের ফলে দেশটির অর্থনীতি, অবকাঠামো ও বেসামরিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সরাসরি স্বীকার করা হয়নি এবং তারা পরিস্থিতিকে “নিরাপত্তাজনিত অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করছে।

এদিকে কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা কমাতে কয়েকটি আন্তর্জাতিক বৈঠকের আয়োজন করা হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও আস্থার ঘাটতি এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির দাবি ভবিষ্যৎ আলোচনায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিপূরণ ইস্যু যুক্ত হলে শান্তি প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দর-কষাকষির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান একদিকে যুদ্ধের ক্ষতি নিরূপণ ও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্ষতিপূরণের দাবি জোরালো করার কৌশল নিচ্ছে। তবে চলমান সংঘাত ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা বিবেচনায় দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ