যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থগিত থাকা সরাসরি আলোচনা আগামী দুই দিনের মধ্যেই পুনরায় শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, নতুন দফার আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে পাকিস্তানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চলমান সামরিক উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক চাপের মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সংবাদ সংস্থা আনাদুলুর বরাতে জানা যায়, নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পাকিস্তানে বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।
ট্রাম্প বলেন, আপনি সেখানেই থাকুন, কারণ খুব দ্রুত কিছু হতে পারে। আমরা সেখানেই যেতে বেশি আগ্রহী। তার এই মন্তব্যকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানকে সম্ভাব্য আলোচনাস্থল হিসেবে বিবেচনার পেছনে দেশটির সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনিরের প্রশংসা করে বলেন, ২০২৫ সালের পাকিস্তান-ভারত সংঘাত প্রশমনে তার ভূমিকা ইতিবাচক ছিল এবং সেই সময় থেকেই পারস্পরিক যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে কিছুটা অস্পষ্টতাও দেখা গেছে। একই দিন প্রায় এক ঘণ্টা আগে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাকিস্তানে বৈঠক নাও হতে পারে, অন্য কোনো স্থানও বিবেচনায় রয়েছে। তিনি জানান, বিকল্প একটি ভেন্যু নিয়েও আলোচনা চলছে। এতে সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে আগামী সপ্তাহে সম্ভাব্য স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই কোনো সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি নির্ধারণ হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কারণ, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইরানের প্রভাববলয়ের মধ্যে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং বাজারে অনিশ্চয়তা ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
শনিবার আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর ট্রাম্প হুমকি দেন, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ আরোপ করা হতে পারে, যাতে ইরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনা যায়। এ বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ইউরোপের কয়েকটি দেশ এ ধরনের অবরোধে অংশ নিতে অনীহা জানায়। বরং অনেক ইউরোপীয় নেতা অভিযোগ করেন, মিত্রদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে জটিল করেছে। ফলে পশ্চিমা জোটের মধ্যেও কৌশলগত বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তানে সম্ভাব্য আলোচনা হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হবে। কারণ ইসলামাবাদ সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এদিকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলও নতুন করে আলোচনা শুরুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা বলছে, সামরিক উত্তেজনার বদলে কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র কার্যকর পথ।
#আরএ
বিষয় : ইরান যুক্তরাষ্ট্র

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থগিত থাকা সরাসরি আলোচনা আগামী দুই দিনের মধ্যেই পুনরায় শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, নতুন দফার আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে পাকিস্তানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চলমান সামরিক উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক চাপের মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সংবাদ সংস্থা আনাদুলুর বরাতে জানা যায়, নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পাকিস্তানে বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।
ট্রাম্প বলেন, আপনি সেখানেই থাকুন, কারণ খুব দ্রুত কিছু হতে পারে। আমরা সেখানেই যেতে বেশি আগ্রহী। তার এই মন্তব্যকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানকে সম্ভাব্য আলোচনাস্থল হিসেবে বিবেচনার পেছনে দেশটির সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনিরের প্রশংসা করে বলেন, ২০২৫ সালের পাকিস্তান-ভারত সংঘাত প্রশমনে তার ভূমিকা ইতিবাচক ছিল এবং সেই সময় থেকেই পারস্পরিক যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে কিছুটা অস্পষ্টতাও দেখা গেছে। একই দিন প্রায় এক ঘণ্টা আগে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাকিস্তানে বৈঠক নাও হতে পারে, অন্য কোনো স্থানও বিবেচনায় রয়েছে। তিনি জানান, বিকল্প একটি ভেন্যু নিয়েও আলোচনা চলছে। এতে সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে আগামী সপ্তাহে সম্ভাব্য স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই কোনো সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি নির্ধারণ হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কারণ, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইরানের প্রভাববলয়ের মধ্যে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং বাজারে অনিশ্চয়তা ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
শনিবার আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর ট্রাম্প হুমকি দেন, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ আরোপ করা হতে পারে, যাতে ইরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনা যায়। এ বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ইউরোপের কয়েকটি দেশ এ ধরনের অবরোধে অংশ নিতে অনীহা জানায়। বরং অনেক ইউরোপীয় নেতা অভিযোগ করেন, মিত্রদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে জটিল করেছে। ফলে পশ্চিমা জোটের মধ্যেও কৌশলগত বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তানে সম্ভাব্য আলোচনা হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হবে। কারণ ইসলামাবাদ সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এদিকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলও নতুন করে আলোচনা শুরুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা বলছে, সামরিক উত্তেজনার বদলে কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র কার্যকর পথ।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন