ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বৈশাখের আমেজে ঘরেই তৈরি করুন মোয়া


রুশাইদ আহমেদ
রুশাইদ আহমেদ
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বৈশাখের আমেজে ঘরেই তৈরি করুন মোয়া

পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে ঘরে ঘরে চলে নানা আয়োজন, আর সেই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী খাবার। 

পান্তা-ইলিশ, পিঠা-পুলি, মিষ্টান্নের পাশাপাশি গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা স্বাদের একটি জনপ্রিয় খাবার হলো চিড়া গুড়ের মোয়া। সহজ উপকরণে অল্প সময়েই তৈরি করা যায় এই সুস্বাদু খাবার, যা বৈশাখের সকাল বা বিকেলের নাস্তার টেবিলে এনে দিতে পারে আলাদা মাত্রা।

চিড়া গুড়ের মোয়া শুধু একটি খাবার নয়, এটি বাঙালির স্মৃতি, ঐতিহ্য ও ঘরোয়া স্বাদের অংশ। একসময় গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে উৎসব, মেলা কিংবা অতিথি আপ্যায়নে এই মোয়া তৈরি করা হতো। এখনো অনেক পরিবার বৈশাখসহ বিশেষ দিনে পুরোনো সেই স্বাদ ফিরিয়ে আনতে ঘরেই তৈরি করেন এই মিষ্টান্ন।

রন্ধনশিল্পীদের মতে, চিড়া গুড়ের মোয়া তৈরিতে খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন হয় না। ঘরে থাকা সাধারণ কিছু উপাদান দিয়েই সহজে তৈরি করা যায় এটি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

চিড়া – ৩ কাপ

খেজুরের গুড় – ১ কাপ

ঘি – ১ টেবিল চামচ

এলাচ গুঁড়া – সামান্য (ঐচ্ছিক)

পানি – অল্প পরিমাণ

প্রস্তুত প্রণালী

প্রথমে চিড়া ভালোভাবে বেছে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর একটি শুকনা খোলায় বা প্যানে অল্প আঁচে চিড়া হালকা ভেজে নিতে হবে, যাতে তা মচমচে হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, চিড়া যেন পুড়ে না যায়।

এরপর একটি কড়াইতে খেজুরের গুড় ও সামান্য পানি দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। মৃদু আঁচে নাড়তে নাড়তে গুড় গলে আঠালো হয়ে এলে এবং ‘এক তার’ পাক ধরলে বুঝতে হবে এটি তৈরি হয়েছে। এই পর্যায়ে চাইলে সামান্য এলাচ গুঁড়া দেওয়া যেতে পারে, যা মোয়ায় বাড়তি সুগন্ধ যোগ করবে।

এরপর দ্রুত ভাজা চিড়া গুড়ের মিশ্রণে ঢেলে ভালোভাবে মেশাতে হবে। সব চিড়ায় যেন সমানভাবে গুড় লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মিশ্রণটি কিছুটা ঠান্ডা হলে হাতে সামান্য ঘি মেখে অল্প অল্প করে নিয়ে গোল বলের মতো মোয়ার আকার দিতে হবে।

মোয়া তৈরি হয়ে গেলে ঠান্ডা করে বাতাসরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করা যায়। এতে কয়েকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে এবং স্বাদও বজায় থাকে।

কেন জনপ্রিয় চিড়া গুড়ের মোয়া

চিড়া গুড়ের মোয়া শুধু সুস্বাদু নয়, এটি তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকরও। খেজুরের গুড়ে প্রাকৃতিক মিষ্টতা থাকে এবং চিড়া সহজপাচ্য খাদ্য হিসেবে পরিচিত। ফলে এটি শিশু থেকে বড়—সব বয়সী মানুষের জন্য উপযোগী নাস্তা হতে পারে।

এ ছাড়া বাজারের কৃত্রিম মিষ্টান্নের তুলনায় ঘরে তৈরি মোয়া অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। নিজের পছন্দ অনুযায়ী বাদাম, নারিকেল কুঁচি বা তিলও যোগ করা যায়, যা স্বাদে নতুনত্ব আনবে।

বৈশাখের টেবিলে ঐতিহ্যের ছোঁয়া

নতুন বছর মানেই নতুন আনন্দ। আর সেই আনন্দের সঙ্গে যদি থাকে শৈশবের স্মৃতি জড়ানো খাবার, তবে উৎসবের রঙ আরও গাঢ় হয়। তাই এবারের পহেলা বৈশাখে ঘরে বসেই তৈরি করতে পারেন চিড়া গুড়ের মোয়া। 

সহজ রেসিপিতে তৈরি এই ঐতিহ্যবাহী খাবার আপনার পরিবারের উৎসবকে করে তুলতে পারে আরও মধুর ও আনন্দঘন।

#আরএ

বিষয় : পহেলা বৈশাখ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বৈশাখের আমেজে ঘরেই তৈরি করুন মোয়া

প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে ঘরে ঘরে চলে নানা আয়োজন, আর সেই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী খাবার। 

পান্তা-ইলিশ, পিঠা-পুলি, মিষ্টান্নের পাশাপাশি গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা স্বাদের একটি জনপ্রিয় খাবার হলো চিড়া গুড়ের মোয়া। সহজ উপকরণে অল্প সময়েই তৈরি করা যায় এই সুস্বাদু খাবার, যা বৈশাখের সকাল বা বিকেলের নাস্তার টেবিলে এনে দিতে পারে আলাদা মাত্রা।

চিড়া গুড়ের মোয়া শুধু একটি খাবার নয়, এটি বাঙালির স্মৃতি, ঐতিহ্য ও ঘরোয়া স্বাদের অংশ। একসময় গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে উৎসব, মেলা কিংবা অতিথি আপ্যায়নে এই মোয়া তৈরি করা হতো। এখনো অনেক পরিবার বৈশাখসহ বিশেষ দিনে পুরোনো সেই স্বাদ ফিরিয়ে আনতে ঘরেই তৈরি করেন এই মিষ্টান্ন।

রন্ধনশিল্পীদের মতে, চিড়া গুড়ের মোয়া তৈরিতে খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন হয় না। ঘরে থাকা সাধারণ কিছু উপাদান দিয়েই সহজে তৈরি করা যায় এটি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

চিড়া – ৩ কাপ

খেজুরের গুড় – ১ কাপ

ঘি – ১ টেবিল চামচ

এলাচ গুঁড়া – সামান্য (ঐচ্ছিক)

পানি – অল্প পরিমাণ

প্রস্তুত প্রণালী

প্রথমে চিড়া ভালোভাবে বেছে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর একটি শুকনা খোলায় বা প্যানে অল্প আঁচে চিড়া হালকা ভেজে নিতে হবে, যাতে তা মচমচে হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, চিড়া যেন পুড়ে না যায়।

এরপর একটি কড়াইতে খেজুরের গুড় ও সামান্য পানি দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। মৃদু আঁচে নাড়তে নাড়তে গুড় গলে আঠালো হয়ে এলে এবং ‘এক তার’ পাক ধরলে বুঝতে হবে এটি তৈরি হয়েছে। এই পর্যায়ে চাইলে সামান্য এলাচ গুঁড়া দেওয়া যেতে পারে, যা মোয়ায় বাড়তি সুগন্ধ যোগ করবে।

এরপর দ্রুত ভাজা চিড়া গুড়ের মিশ্রণে ঢেলে ভালোভাবে মেশাতে হবে। সব চিড়ায় যেন সমানভাবে গুড় লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মিশ্রণটি কিছুটা ঠান্ডা হলে হাতে সামান্য ঘি মেখে অল্প অল্প করে নিয়ে গোল বলের মতো মোয়ার আকার দিতে হবে।

মোয়া তৈরি হয়ে গেলে ঠান্ডা করে বাতাসরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করা যায়। এতে কয়েকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে এবং স্বাদও বজায় থাকে।

কেন জনপ্রিয় চিড়া গুড়ের মোয়া

চিড়া গুড়ের মোয়া শুধু সুস্বাদু নয়, এটি তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকরও। খেজুরের গুড়ে প্রাকৃতিক মিষ্টতা থাকে এবং চিড়া সহজপাচ্য খাদ্য হিসেবে পরিচিত। ফলে এটি শিশু থেকে বড়—সব বয়সী মানুষের জন্য উপযোগী নাস্তা হতে পারে।

এ ছাড়া বাজারের কৃত্রিম মিষ্টান্নের তুলনায় ঘরে তৈরি মোয়া অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। নিজের পছন্দ অনুযায়ী বাদাম, নারিকেল কুঁচি বা তিলও যোগ করা যায়, যা স্বাদে নতুনত্ব আনবে।

বৈশাখের টেবিলে ঐতিহ্যের ছোঁয়া

নতুন বছর মানেই নতুন আনন্দ। আর সেই আনন্দের সঙ্গে যদি থাকে শৈশবের স্মৃতি জড়ানো খাবার, তবে উৎসবের রঙ আরও গাঢ় হয়। তাই এবারের পহেলা বৈশাখে ঘরে বসেই তৈরি করতে পারেন চিড়া গুড়ের মোয়া। 

সহজ রেসিপিতে তৈরি এই ঐতিহ্যবাহী খাবার আপনার পরিবারের উৎসবকে করে তুলতে পারে আরও মধুর ও আনন্দঘন।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ