সকালের শুরুতে এক কাপ গরম কফি অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস। তবে নিয়মিত কফি পান করতে গিয়ে দাঁতে হলদে বা বাদামি দাগ পড়ার অভিযোগও কম নয়।
অনেকেই মনে করেন কফি খাওয়ার পর ব্রাশ করলেই দাঁত পরিষ্কার থাকবে। কিন্তু দন্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁত সুরক্ষিত রাখতে এবং দাগ কমাতে কফি পানের আগে ব্রাশ করাই বেশি কার্যকর।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মার্কিন দন্ত চিকিৎসক ডা. মার্ক বারহেনে বলেন, বেশিরভাগ মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে সরাসরি কফি পান করেন, যা দাঁতের জন্য ভালো অভ্যাস নয়। তার মতে, রাতে ঘুমের সময় দাঁতের ওপর এক ধরনের পাতলা স্তর জমে, যাকে ‘বায়োফিল্ম’ বলা হয়। এটি মূলত ব্যাকটেরিয়া, লালা এবং প্রোটিনের মিশ্রণে তৈরি আঠালো স্তর, যা দাঁতের ওপর লেগে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে ব্রাশ না করে সরাসরি কফি পান করলে এই বায়োফিল্ম কফির রং দাঁতের সঙ্গে সহজে আটকে যেতে সাহায্য করে। ফলে ধীরে ধীরে দাঁতে দাগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ব্ল্যাক কফি বা দুধ-চিনি মেশানো কফি নিয়মিত পান করলে এ ঝুঁকি আরও বাড়ে।
ডা. বারহেনের ভাষ্য, কফি পানের আগে ব্রাশ করলে দাঁতের ওপর জমে থাকা এই স্তর দূর হয়। এতে দাঁতের পৃষ্ঠ তুলনামূলক পরিষ্কার থাকে এবং কফির রঞ্জক পদার্থ সহজে আটকে থাকতে পারে না। ফলে দাঁতের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা দীর্ঘদিন বজায় রাখা সম্ভব হয়।
অন্যদিকে কফি খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করাও নিরাপদ নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ কফি স্বভাবতই অ্যাসিডিক পানীয়। এটি দাঁতের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তর এনামেলকে সাময়িকভাবে নরম করে দিতে পারে। এই অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করলে এনামেলের ক্ষয় হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
দন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শ, কফি খাওয়ার পর যদি ব্রাশ করতেই হয়, তাহলে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করা ভালো। এতে মুখের স্বাভাবিক লালা অ্যাসিডের প্রভাব কিছুটা কমিয়ে এনামেলকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। এর আগে ব্রাশ করলে দাঁতের ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
তবে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে তারা সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তোলার কথা বলছেন। এরপর কফি পান করলে দাঁতের ক্ষতি ও দাগ পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে। পাশাপাশি কফি পানের পর পানি পান করলে মুখে জমে থাকা রঙিন উপাদানও কিছুটা ধুয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, দিনে একাধিকবার কফি পান, ধূমপান, অপর্যাপ্ত ব্রাশিং এবং নিয়মিত স্কেলিং না করালে দাঁতের দাগ দ্রুত বাড়তে পারে। তাই শুধু কফি নয়, সামগ্রিক মুখগহ্বর পরিচর্যাতেও গুরুত্ব দিতে হবে।
দাঁত সাদা ও সুস্থ রাখতে প্রতিদিন দুইবার ব্রাশ, ফ্লস ব্যবহার, নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ এবং সঠিক সময়ে কফি পান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ছোট একটি অভ্যাস পরিবর্তনই দাঁতের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
#আরএ
বিষয় : কফি

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সকালের শুরুতে এক কাপ গরম কফি অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস। তবে নিয়মিত কফি পান করতে গিয়ে দাঁতে হলদে বা বাদামি দাগ পড়ার অভিযোগও কম নয়।
অনেকেই মনে করেন কফি খাওয়ার পর ব্রাশ করলেই দাঁত পরিষ্কার থাকবে। কিন্তু দন্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁত সুরক্ষিত রাখতে এবং দাগ কমাতে কফি পানের আগে ব্রাশ করাই বেশি কার্যকর।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মার্কিন দন্ত চিকিৎসক ডা. মার্ক বারহেনে বলেন, বেশিরভাগ মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে সরাসরি কফি পান করেন, যা দাঁতের জন্য ভালো অভ্যাস নয়। তার মতে, রাতে ঘুমের সময় দাঁতের ওপর এক ধরনের পাতলা স্তর জমে, যাকে ‘বায়োফিল্ম’ বলা হয়। এটি মূলত ব্যাকটেরিয়া, লালা এবং প্রোটিনের মিশ্রণে তৈরি আঠালো স্তর, যা দাঁতের ওপর লেগে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে ব্রাশ না করে সরাসরি কফি পান করলে এই বায়োফিল্ম কফির রং দাঁতের সঙ্গে সহজে আটকে যেতে সাহায্য করে। ফলে ধীরে ধীরে দাঁতে দাগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ব্ল্যাক কফি বা দুধ-চিনি মেশানো কফি নিয়মিত পান করলে এ ঝুঁকি আরও বাড়ে।
ডা. বারহেনের ভাষ্য, কফি পানের আগে ব্রাশ করলে দাঁতের ওপর জমে থাকা এই স্তর দূর হয়। এতে দাঁতের পৃষ্ঠ তুলনামূলক পরিষ্কার থাকে এবং কফির রঞ্জক পদার্থ সহজে আটকে থাকতে পারে না। ফলে দাঁতের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা দীর্ঘদিন বজায় রাখা সম্ভব হয়।
অন্যদিকে কফি খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করাও নিরাপদ নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ কফি স্বভাবতই অ্যাসিডিক পানীয়। এটি দাঁতের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তর এনামেলকে সাময়িকভাবে নরম করে দিতে পারে। এই অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করলে এনামেলের ক্ষয় হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
দন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শ, কফি খাওয়ার পর যদি ব্রাশ করতেই হয়, তাহলে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করা ভালো। এতে মুখের স্বাভাবিক লালা অ্যাসিডের প্রভাব কিছুটা কমিয়ে এনামেলকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। এর আগে ব্রাশ করলে দাঁতের ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
তবে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে তারা সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তোলার কথা বলছেন। এরপর কফি পান করলে দাঁতের ক্ষতি ও দাগ পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে। পাশাপাশি কফি পানের পর পানি পান করলে মুখে জমে থাকা রঙিন উপাদানও কিছুটা ধুয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, দিনে একাধিকবার কফি পান, ধূমপান, অপর্যাপ্ত ব্রাশিং এবং নিয়মিত স্কেলিং না করালে দাঁতের দাগ দ্রুত বাড়তে পারে। তাই শুধু কফি নয়, সামগ্রিক মুখগহ্বর পরিচর্যাতেও গুরুত্ব দিতে হবে।
দাঁত সাদা ও সুস্থ রাখতে প্রতিদিন দুইবার ব্রাশ, ফ্লস ব্যবহার, নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ এবং সঠিক সময়ে কফি পান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ছোট একটি অভ্যাস পরিবর্তনই দাঁতের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন