পহেলা বৈশাখ মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ, আর এই উৎসবের খাদ্যতালিকায় বিশেষ স্থান দখল করে আছে ভাত ও ভর্তার নানা ঐতিহ্যবাহী পদ। অল্প উপকরণে সহজে তৈরি এসব খাবারই বাংলা নববর্ষের আসল ঘরোয়া স্বাদকে তুলে ধরে। রন্ধনশিল্পীরা বলছেন, আধুনিক খাবারের ভিড়েও খুদের ভাত ও দেশি ভর্তার জনপ্রিয়তা এখনো অটুট।
রন্ধনশিল্পী রুবাইদা রাখীর পরামর্শ অনুযায়ী, বৈশাখী আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করতে লইট্টা শুটকি ভর্তা, ধনিয়া পাতা ভর্তা এবং ঝরঝরে খুদের ভাত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদ একদিকে যেমন ঐতিহ্যবাহী, অন্যদিকে সহজলভ্য উপকরণে দ্রুত তৈরি করা যায়।
লইট্টা শুটকি ভর্তা তৈরিতে মানসম্মত ও কেমিক্যালমুক্ত শুটকি নির্বাচনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমে শুটকি ধুয়ে টুকরো করে হালকা ভেজে গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। এরপর পেঁয়াজ, রসুন ও শুকনো মরিচের সঙ্গে ভেজে পানি শুকিয়ে ভাজা ভাজা করা হয়। ঠান্ডা করে শিলপাটায় বা ব্লেন্ডারে বেটে সরিষার তেল মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়। গরম ভাতের সঙ্গে এই ভর্তার স্বাদ বিশেষভাবে উপভোগ্য।
অন্যদিকে ধনিয়া পাতা ভর্তা স্বল্প সময়ে তৈরি হওয়া একটি জনপ্রিয় পদ। তাজা ধনিয়া পাতা, কাঁচা মরিচ, রসুন ও সামান্য তেঁতুল একসঙ্গে বেটে তৈরি করা হয় এই ভর্তা। টক-ঝাল স্বাদের এই পদ বৈশাখের খাবারের টেবিলে বাড়তি রুচি যোগ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাজা উপকরণ ব্যবহারের কারণে এই ভর্তা শরীরের জন্যও উপকারী।
খুদের ভাত বৈশাখী আয়োজনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রধান খাবার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খুদ চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে পেঁয়াজ ভেজে তাতে চাল মিশিয়ে মসলার সঙ্গে রান্না করা হয়। পরে গরম পানি দিয়ে ঢেকে দমে রাখা হয় যতক্ষণ না ভাত ঝরঝরে হয়। খুদের ভাতের সঠিক টেক্সচার বজায় রাখা এর স্বাদ বৃদ্ধির অন্যতম শর্ত বলে জানিয়েছেন রন্ধনশিল্পীরা।
রুবাইদা রাখী বলেন, পহেলা বৈশাখের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে ঘরোয়া ও দেশি খাবারের সহজ সরলতায়। অল্প উপকরণে তৈরি হলেও এসব খাবারের স্বাদ ও ঐতিহ্য বাঙালির সংস্কৃতিকে বহন করে।
খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ফাস্টফুডের প্রভাব বাড়লেও দেশি খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে উৎসবের সময় খুদের ভাত ও ভর্তার মতো ঐতিহ্যবাহী পদ আবারও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
তারা আরও বলেন, এসব খাবার শুধু স্বাদের জন্য নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও উপকারী। শুটকি থেকে প্রোটিন, ধনিয়া পাতা থেকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খুদের ভাত থেকে কার্বোহাইড্রেট—সব মিলিয়ে একটি সুষম খাদ্য তালিকা তৈরি হয়।
পহেলা বৈশাখের মতো উৎসবে এসব ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
#আরএ
বিষয় : বৈশাখ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
পহেলা বৈশাখ মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ, আর এই উৎসবের খাদ্যতালিকায় বিশেষ স্থান দখল করে আছে ভাত ও ভর্তার নানা ঐতিহ্যবাহী পদ। অল্প উপকরণে সহজে তৈরি এসব খাবারই বাংলা নববর্ষের আসল ঘরোয়া স্বাদকে তুলে ধরে। রন্ধনশিল্পীরা বলছেন, আধুনিক খাবারের ভিড়েও খুদের ভাত ও দেশি ভর্তার জনপ্রিয়তা এখনো অটুট।
রন্ধনশিল্পী রুবাইদা রাখীর পরামর্শ অনুযায়ী, বৈশাখী আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করতে লইট্টা শুটকি ভর্তা, ধনিয়া পাতা ভর্তা এবং ঝরঝরে খুদের ভাত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদ একদিকে যেমন ঐতিহ্যবাহী, অন্যদিকে সহজলভ্য উপকরণে দ্রুত তৈরি করা যায়।
লইট্টা শুটকি ভর্তা তৈরিতে মানসম্মত ও কেমিক্যালমুক্ত শুটকি নির্বাচনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমে শুটকি ধুয়ে টুকরো করে হালকা ভেজে গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। এরপর পেঁয়াজ, রসুন ও শুকনো মরিচের সঙ্গে ভেজে পানি শুকিয়ে ভাজা ভাজা করা হয়। ঠান্ডা করে শিলপাটায় বা ব্লেন্ডারে বেটে সরিষার তেল মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়। গরম ভাতের সঙ্গে এই ভর্তার স্বাদ বিশেষভাবে উপভোগ্য।
অন্যদিকে ধনিয়া পাতা ভর্তা স্বল্প সময়ে তৈরি হওয়া একটি জনপ্রিয় পদ। তাজা ধনিয়া পাতা, কাঁচা মরিচ, রসুন ও সামান্য তেঁতুল একসঙ্গে বেটে তৈরি করা হয় এই ভর্তা। টক-ঝাল স্বাদের এই পদ বৈশাখের খাবারের টেবিলে বাড়তি রুচি যোগ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাজা উপকরণ ব্যবহারের কারণে এই ভর্তা শরীরের জন্যও উপকারী।
খুদের ভাত বৈশাখী আয়োজনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রধান খাবার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খুদ চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে পেঁয়াজ ভেজে তাতে চাল মিশিয়ে মসলার সঙ্গে রান্না করা হয়। পরে গরম পানি দিয়ে ঢেকে দমে রাখা হয় যতক্ষণ না ভাত ঝরঝরে হয়। খুদের ভাতের সঠিক টেক্সচার বজায় রাখা এর স্বাদ বৃদ্ধির অন্যতম শর্ত বলে জানিয়েছেন রন্ধনশিল্পীরা।
রুবাইদা রাখী বলেন, পহেলা বৈশাখের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে ঘরোয়া ও দেশি খাবারের সহজ সরলতায়। অল্প উপকরণে তৈরি হলেও এসব খাবারের স্বাদ ও ঐতিহ্য বাঙালির সংস্কৃতিকে বহন করে।
খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ফাস্টফুডের প্রভাব বাড়লেও দেশি খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে উৎসবের সময় খুদের ভাত ও ভর্তার মতো ঐতিহ্যবাহী পদ আবারও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
তারা আরও বলেন, এসব খাবার শুধু স্বাদের জন্য নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও উপকারী। শুটকি থেকে প্রোটিন, ধনিয়া পাতা থেকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খুদের ভাত থেকে কার্বোহাইড্রেট—সব মিলিয়ে একটি সুষম খাদ্য তালিকা তৈরি হয়।
পহেলা বৈশাখের মতো উৎসবে এসব ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন