ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সকালের নাশতা কখন করা উচিত, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ


রুশাইদ আহমেদ
রুশাইদ আহমেদ
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সকালের নাশতা কখন করা উচিত, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

সকালের নাশতা অনেকের দৈনন্দিন রুটিনে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত একটি খাবার। ব্যস্ততা, অনিয়মিত জীবনযাপন কিংবা ওজন কমানোর ভুল ধারণার কারণে অনেকেই দিনের প্রথম খাবারটি এড়িয়ে যান বা দেরিতে গ্রহণ করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালের নাশতা সময়মতো না করলে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, রাতে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর সকালে শরীর শক্তি ও পুষ্টির জন্য প্রস্তুত থাকে। এই সময় খাবার গ্রহণ না করলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে সারাদিন ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং কাজের দক্ষতা কমে যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত নাশতা না করলে স্থূলতা, মানসিক চাপ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। কারণ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীর পরবর্তী খাবারের সময় অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা তৈরি করে, যা ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, অনেকে মনে করেন নাশতা বাদ দিলে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব, কিন্তু এই ধারণা ভুল। বরং সুষম নাশতা বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখে এবং সারাদিনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। নাশতা না করলে দুপুর বা রাতে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা উল্টো ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

সঠিক সময় নিয়ে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ হলো, ঘুম থেকে ওঠার দুই ঘণ্টার মধ্যে নাশতা করা সবচেয়ে উপকারী। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে পুষ্টিকর নাশতা গ্রহণ করা শরীরের জন্য আদর্শ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সময়ের মধ্যে খাবার গ্রহণ করলে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং দিনের শক্তির ভারসাম্য বজায় থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নাশতা দেরিতে করলে দুপুরের খাবারের সময়ের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি হয়, যা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া অনিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি এবং রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

যারা সকালে ব্যায়াম করেন, তাদের ক্ষেত্রে আলাদা পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। ব্যায়ামের আগে হালকা কিছু খাওয়া উচিত, যেমন কলা, বাদাম বা অ্যাভোকাডো টোস্ট। এতে শরীরে দ্রুত শক্তি আসে এবং ব্যায়ামের কার্যকারিতা বাড়ে। ওয়ার্কআউটের পর অবশ্যই একটি পূর্ণাঙ্গ নাশতা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যারা নিয়মিত সকালের নাশতা গ্রহণ করেন, তাদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং কাজের দক্ষতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। বিপরীতে নাশতা এড়িয়ে চলা ব্যক্তিদের মধ্যে ক্লান্তি ও মানসিক চাপের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালের নাশতা শুধু একটি খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং এটি সারাদিনের শক্তি ও স্বাস্থ্য রক্ষার ভিত্তি। তাই দৈনন্দিন ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে পুষ্টিকর ও সুষম নাশতা গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

#আরএ

বিষয় : সকালের নাশতা

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সকালের নাশতা কখন করা উচিত, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সকালের নাশতা অনেকের দৈনন্দিন রুটিনে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত একটি খাবার। ব্যস্ততা, অনিয়মিত জীবনযাপন কিংবা ওজন কমানোর ভুল ধারণার কারণে অনেকেই দিনের প্রথম খাবারটি এড়িয়ে যান বা দেরিতে গ্রহণ করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালের নাশতা সময়মতো না করলে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, রাতে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর সকালে শরীর শক্তি ও পুষ্টির জন্য প্রস্তুত থাকে। এই সময় খাবার গ্রহণ না করলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে সারাদিন ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং কাজের দক্ষতা কমে যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত নাশতা না করলে স্থূলতা, মানসিক চাপ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। কারণ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীর পরবর্তী খাবারের সময় অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা তৈরি করে, যা ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, অনেকে মনে করেন নাশতা বাদ দিলে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব, কিন্তু এই ধারণা ভুল। বরং সুষম নাশতা বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখে এবং সারাদিনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। নাশতা না করলে দুপুর বা রাতে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা উল্টো ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

সঠিক সময় নিয়ে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ হলো, ঘুম থেকে ওঠার দুই ঘণ্টার মধ্যে নাশতা করা সবচেয়ে উপকারী। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে পুষ্টিকর নাশতা গ্রহণ করা শরীরের জন্য আদর্শ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সময়ের মধ্যে খাবার গ্রহণ করলে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং দিনের শক্তির ভারসাম্য বজায় থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নাশতা দেরিতে করলে দুপুরের খাবারের সময়ের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি হয়, যা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া অনিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি এবং রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

যারা সকালে ব্যায়াম করেন, তাদের ক্ষেত্রে আলাদা পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। ব্যায়ামের আগে হালকা কিছু খাওয়া উচিত, যেমন কলা, বাদাম বা অ্যাভোকাডো টোস্ট। এতে শরীরে দ্রুত শক্তি আসে এবং ব্যায়ামের কার্যকারিতা বাড়ে। ওয়ার্কআউটের পর অবশ্যই একটি পূর্ণাঙ্গ নাশতা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যারা নিয়মিত সকালের নাশতা গ্রহণ করেন, তাদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং কাজের দক্ষতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। বিপরীতে নাশতা এড়িয়ে চলা ব্যক্তিদের মধ্যে ক্লান্তি ও মানসিক চাপের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালের নাশতা শুধু একটি খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং এটি সারাদিনের শক্তি ও স্বাস্থ্য রক্ষার ভিত্তি। তাই দৈনন্দিন ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে পুষ্টিকর ও সুষম নাশতা গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ