সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরিচালিত গণভোট এবং সাধারণ নির্বাচন বা অন্যান্য ভোট একই বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সাংবিধানিক বিশেষ প্রয়োজনেই ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে গণভোটের বিধান রাখা হয়েছে, যার প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও আইনি কাঠামো সাধারণ ভোটের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
রোববার বিকেলে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকেই গণভোটকে সাধারণ নির্বাচনের মতো একটি ভোট প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন, কিন্তু সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সঠিক নয়। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যে গণভোটের কথা বলা হয়েছে, তা মূলত রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধন কিংবা নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণের একটি বিশেষ ব্যবস্থা।
তিনি জানান, সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২-এ কোনো সংশোধনী আনার প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ধরনের গণভোটকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বা অন্য কোনো সাধারণ ভোটের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সে প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত গণভোট ছিল না। গণভোট অধ্যাদেশ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে নির্বাচন কমিশন ওই ভোট আয়োজন করেছিল। ফলে সেটিকে সাংবিধানিক গণভোট হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।
তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে গণভোটের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। সেই আলোচনায় জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে প্রশ্ন সামনে আসে। তখন বিদ্যমান আইনগত কাঠামোর মধ্যে গণভোটই একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনায় আসে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের মতামত নেওয়ার বিষয়টি গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হলেও প্রতিটি ভোটের আইনি ভিত্তি, সাংবিধানিক মর্যাদা এবং উদ্দেশ্য এক নয়। তাই গণভোটের ক্ষেত্রে কোন আইন প্রয়োগ হয়েছে, কোন কর্তৃপক্ষ আয়োজন করেছে এবং সেটির সাংবিধানিক অবস্থান কী—এসব বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি।
ভবিষ্যতে নতুন কোনো গণভোট আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যদি ভবিষ্যতে গণভোট প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটি হয় সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে হতে পারে, অথবা সংবিধানের বাইরে আলাদা আইন প্রণয়ন করে করা যেতে পারে।
তার ভাষ্য, সংবিধানে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই যে সরকার অন্য কোনো বিষয়ে গণভোট আয়োজন করতে পারবে না। তবে সে ক্ষেত্রে একটি পৃথক আইন পাস করতে হবে, যেখানে গণভোটের বিষয়, পদ্ধতি, কর্তৃপক্ষ ও ফলাফলের কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটকে রাজনৈতিক স্লোগান বা সাধারণ ভোটের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এ কারণে সংবিধানের বিধান, আইনগত কাঠামো এবং বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে গণভোটকে ঘিরে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা বাড়ায় বিষয়টির সাংবিধানিক ব্যাখ্যা সামনে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।
#আরএ
বিষয় : সংবিধান

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরিচালিত গণভোট এবং সাধারণ নির্বাচন বা অন্যান্য ভোট একই বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সাংবিধানিক বিশেষ প্রয়োজনেই ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে গণভোটের বিধান রাখা হয়েছে, যার প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও আইনি কাঠামো সাধারণ ভোটের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
রোববার বিকেলে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকেই গণভোটকে সাধারণ নির্বাচনের মতো একটি ভোট প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন, কিন্তু সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সঠিক নয়। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যে গণভোটের কথা বলা হয়েছে, তা মূলত রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধন কিংবা নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণের একটি বিশেষ ব্যবস্থা।
তিনি জানান, সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২-এ কোনো সংশোধনী আনার প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ধরনের গণভোটকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বা অন্য কোনো সাধারণ ভোটের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সে প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত গণভোট ছিল না। গণভোট অধ্যাদেশ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে নির্বাচন কমিশন ওই ভোট আয়োজন করেছিল। ফলে সেটিকে সাংবিধানিক গণভোট হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।
তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে গণভোটের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। সেই আলোচনায় জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে প্রশ্ন সামনে আসে। তখন বিদ্যমান আইনগত কাঠামোর মধ্যে গণভোটই একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনায় আসে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের মতামত নেওয়ার বিষয়টি গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হলেও প্রতিটি ভোটের আইনি ভিত্তি, সাংবিধানিক মর্যাদা এবং উদ্দেশ্য এক নয়। তাই গণভোটের ক্ষেত্রে কোন আইন প্রয়োগ হয়েছে, কোন কর্তৃপক্ষ আয়োজন করেছে এবং সেটির সাংবিধানিক অবস্থান কী—এসব বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি।
ভবিষ্যতে নতুন কোনো গণভোট আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যদি ভবিষ্যতে গণভোট প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটি হয় সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে হতে পারে, অথবা সংবিধানের বাইরে আলাদা আইন প্রণয়ন করে করা যেতে পারে।
তার ভাষ্য, সংবিধানে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই যে সরকার অন্য কোনো বিষয়ে গণভোট আয়োজন করতে পারবে না। তবে সে ক্ষেত্রে একটি পৃথক আইন পাস করতে হবে, যেখানে গণভোটের বিষয়, পদ্ধতি, কর্তৃপক্ষ ও ফলাফলের কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটকে রাজনৈতিক স্লোগান বা সাধারণ ভোটের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এ কারণে সংবিধানের বিধান, আইনগত কাঠামো এবং বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে গণভোটকে ঘিরে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা বাড়ায় বিষয়টির সাংবিধানিক ব্যাখ্যা সামনে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন