সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য টিকেট এবং ওষুধ সংগ্রহের ক্ষেত্রে দৈনিক দীর্ঘ লাইনের কারণে ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ দিনভর অপেক্ষা করতে হয়, তবুও অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা ওষুধ নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল থেকে টিকেট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন গড়ে ওঠে। এক রোগী, যিনি বিয়ানীবাজার থেকে আসেন, জানান, “দীর্ঘ লাইনের কারণে বেলা বারোটা পর্যন্ত টিকেট হাতে পাইনি। কখন টিকেট পাব তা জানা নেই, তাই অনেক সময় চিকিৎসা না নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।” ওষুধ কাউন্টারে একই সমস্যা বিরাজ করছে। এক রোগী বলেন, “আমার দাঁড়ানো প্রায় এক ঘন্টা হয়ে গেছে। অবশেষে ওষুধ পেলাম, কিন্তু এখন কাউন্টার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বাকি যারা লাইনে আছে তারা কি ওষুধ পাবেন, তা কেউ জানে না।” রোগীদের অভিযোগ, প্রতিদিন প্রায় ৫০০ জনের বেশি মানুষ টিকেটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, কিন্তু সীমিত সংখ্যক কর্মী মাত্র কয়েকজনকে টিকেট বিতরণ করছেন। ফলে অনেকেই টিকেট না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, আর যাদের টিকেট আছে, তারা ডাক্তাররুমে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক সময় ডাক্তারও ব্যস্ত থাকায় বা সময় শেষ হয়ে গেলে রোগীদের দেখা না নিতে পারেন। টিকেট কাউন্টারের পরিস্থিতি সরজমিনে দেখা যায়, ডিজিটাল সিস্টেম থাকলেও কাউন্টার কর্মীরা ধীরে কাজ করছেন। কেউ চা খাচ্ছেন, কেউ ব্যস্ত মোবাইলে। রোগীরা মনে করছেন, ভোগান্তির মূল কারণ যথাযথ মনোযোগ ও পর্যাপ্ত জনবল না থাকা। হবিগঞ্জ থেকে আসা এক রোগী বলেন, “দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে কখনও টিকেট পাই, কখনও পাই না। এই ভোগান্তি কখন শেষ হবে, আমরা জানি না।” হাসপাতালের উপ-পরিচালক জানান, “দীর্ঘ লাইন থাকার বিষয়টি আমরা দেখেছি। কিন্তু জনবল কম থাকার কারণে অনেক সময় সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের আশা, পর্যাপ্ত জনবল থাকলে ওসমানী হাসপাতাল থেকে রোগীদের সঠিক চিকিৎসা এবং পরিষেবা প্রদানে কোনো ঘাটতি হবে না।” রোগীরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন, হাসপাতালে টিকেট ও ওষুধ বিতরণের জন্য যথেষ্ট জনবল সরবরাহ করা হোক এবং দীর্ঘ লাইনের সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হোক। যাতে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা ভোগান্তির মুখে না পড়ে এবং সময়মতো চিকিৎসা ও ওষুধ পেতে পারেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য টিকেট এবং ওষুধ সংগ্রহের ক্ষেত্রে দৈনিক দীর্ঘ লাইনের কারণে ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ দিনভর অপেক্ষা করতে হয়, তবুও অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা ওষুধ নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল থেকে টিকেট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন গড়ে ওঠে। এক রোগী, যিনি বিয়ানীবাজার থেকে আসেন, জানান, “দীর্ঘ লাইনের কারণে বেলা বারোটা পর্যন্ত টিকেট হাতে পাইনি। কখন টিকেট পাব তা জানা নেই, তাই অনেক সময় চিকিৎসা না নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।” ওষুধ কাউন্টারে একই সমস্যা বিরাজ করছে। এক রোগী বলেন, “আমার দাঁড়ানো প্রায় এক ঘন্টা হয়ে গেছে। অবশেষে ওষুধ পেলাম, কিন্তু এখন কাউন্টার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বাকি যারা লাইনে আছে তারা কি ওষুধ পাবেন, তা কেউ জানে না।” রোগীদের অভিযোগ, প্রতিদিন প্রায় ৫০০ জনের বেশি মানুষ টিকেটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, কিন্তু সীমিত সংখ্যক কর্মী মাত্র কয়েকজনকে টিকেট বিতরণ করছেন। ফলে অনেকেই টিকেট না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, আর যাদের টিকেট আছে, তারা ডাক্তাররুমে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক সময় ডাক্তারও ব্যস্ত থাকায় বা সময় শেষ হয়ে গেলে রোগীদের দেখা না নিতে পারেন। টিকেট কাউন্টারের পরিস্থিতি সরজমিনে দেখা যায়, ডিজিটাল সিস্টেম থাকলেও কাউন্টার কর্মীরা ধীরে কাজ করছেন। কেউ চা খাচ্ছেন, কেউ ব্যস্ত মোবাইলে। রোগীরা মনে করছেন, ভোগান্তির মূল কারণ যথাযথ মনোযোগ ও পর্যাপ্ত জনবল না থাকা। হবিগঞ্জ থেকে আসা এক রোগী বলেন, “দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে কখনও টিকেট পাই, কখনও পাই না। এই ভোগান্তি কখন শেষ হবে, আমরা জানি না।” হাসপাতালের উপ-পরিচালক জানান, “দীর্ঘ লাইন থাকার বিষয়টি আমরা দেখেছি। কিন্তু জনবল কম থাকার কারণে অনেক সময় সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের আশা, পর্যাপ্ত জনবল থাকলে ওসমানী হাসপাতাল থেকে রোগীদের সঠিক চিকিৎসা এবং পরিষেবা প্রদানে কোনো ঘাটতি হবে না।” রোগীরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন, হাসপাতালে টিকেট ও ওষুধ বিতরণের জন্য যথেষ্ট জনবল সরবরাহ করা হোক এবং দীর্ঘ লাইনের সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হোক। যাতে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা ভোগান্তির মুখে না পড়ে এবং সময়মতো চিকিৎসা ও ওষুধ পেতে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন