বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা এলাকায় হঠাৎ করে তীব্র জ্বালানি তেল সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় পুরো জনজীবন যেন থমকে গেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক ও ভাড়ায় চালিত বাইকাররা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই জানান, বাইক চালিয়েই তাদের সংসার চলে, কিন্তু তেলের অভাবে এখন সেই জীবিকাই হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোয়াংছড়িতে তেল না পেয়ে অনেক চালক বাধ্য হয়ে বান্দরবান শহর-এর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ছুটছেন। কিন্তু সেখানেও স্বস্তি নেই। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও পর্যাপ্ত তেল মিলছে না। অভিযোগ রয়েছে, একজন চালককে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে একেবারেই অপ্রতুল।
চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোয়াংছড়ি থেকে বান্দরবান গিয়ে তেল আনতে যেতেই প্রায় এক লিটার জ্বালানি খরচ হয়ে যায়। সেখানে গিয়ে যদি মাত্র ২০০ টাকার তেল পাওয়া যায়, তবে সেই তেল দিয়ে আবার গন্তব্যে ফেরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে ঝুঁকিও।
অন্যদিকে, স্থানীয় তেলের দোকানদাররাও পড়েছেন বিপাকে। তারা জানান, ডিপো বা মূল সরবরাহকারী পর্যায় থেকেই তেল সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। অনেক দোকান ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে, যা সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
এই জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। স্থানীয় চাঁদের গাড়ি, জিপসহ অন্যান্য পরিবহন সেবাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় অনেক যানবাহন রাস্তায় নামতে পারছে না, ফলে সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে।
পাহাড়ি এই জনপদে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম যখন মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহন, তখন এমন সংকট মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে পুরোপুরি ব্যাহত করছে। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজেও সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দ্রুত এই সংকট নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা এলাকায় হঠাৎ করে তীব্র জ্বালানি তেল সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় পুরো জনজীবন যেন থমকে গেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক ও ভাড়ায় চালিত বাইকাররা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই জানান, বাইক চালিয়েই তাদের সংসার চলে, কিন্তু তেলের অভাবে এখন সেই জীবিকাই হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোয়াংছড়িতে তেল না পেয়ে অনেক চালক বাধ্য হয়ে বান্দরবান শহর-এর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ছুটছেন। কিন্তু সেখানেও স্বস্তি নেই। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও পর্যাপ্ত তেল মিলছে না। অভিযোগ রয়েছে, একজন চালককে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে একেবারেই অপ্রতুল।
চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোয়াংছড়ি থেকে বান্দরবান গিয়ে তেল আনতে যেতেই প্রায় এক লিটার জ্বালানি খরচ হয়ে যায়। সেখানে গিয়ে যদি মাত্র ২০০ টাকার তেল পাওয়া যায়, তবে সেই তেল দিয়ে আবার গন্তব্যে ফেরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে ঝুঁকিও।
অন্যদিকে, স্থানীয় তেলের দোকানদাররাও পড়েছেন বিপাকে। তারা জানান, ডিপো বা মূল সরবরাহকারী পর্যায় থেকেই তেল সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। অনেক দোকান ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে, যা সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
এই জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। স্থানীয় চাঁদের গাড়ি, জিপসহ অন্যান্য পরিবহন সেবাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় অনেক যানবাহন রাস্তায় নামতে পারছে না, ফলে সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে।
পাহাড়ি এই জনপদে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম যখন মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহন, তখন এমন সংকট মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে পুরোপুরি ব্যাহত করছে। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজেও সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দ্রুত এই সংকট নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা।

আপনার মতামত লিখুন