মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির যে প্রস্তাব বাংলাদেশ পাঠিয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়ার কথা জানিয়েছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান যে বাংলাদেশকে বাড়তি জ্বালানি সরবরাহ করার আগে ভারত তাদের নিজস্ব মজুত, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং তেল শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা গভীরভাবে যাচাই করে দেখবে।
রণধীর জয়সওয়াল ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন যে ভারত এই অঞ্চলের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের অন্যতম বড় রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে আসা আনুষ্ঠানিক চিঠিটি বর্তমানে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা করে দেখছে। কেবল বাংলাদেশ নয় বরং শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো থেকেও একই ধরনের অনুরোধ পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বর্তমান অস্থিরতার কারণে দিল্লি প্রতিটি দেশের প্রস্তাব তাদের নিজস্ব প্রাপ্যতা সাপেক্ষে বিবেচনা করার নীতি গ্রহণ করেছে।
এর আগে বুধবার ১১ মার্চ সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা থেকে এই ‘আপৎকালীন’ অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে আগামী চার মাসের জন্য বর্তমান বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি কার্যকর রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এই আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে চায়। ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বৈঠক শেষে জানান যে তিনি বাংলাদেশের অনুরোধের চিঠিটি গ্রহণ করেছেন এবং তা দ্রুত ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠিয়ে দেবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে জ্বালানি খাত দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ এবং ভারত সবসময় তার বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশীর পাশে থাকতে সচেষ্ট।
উল্লেখ্য যে দেশে বর্তমানে প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার মেট্রিক টন। এই চাহিদার একটি বড় অংশ মেটাতে গত সোমবার ৯ মার্চ থেকে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানিকৃত ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছাতে শুরু করেছে। ওইদিন বিকেলেই প্রায় ৫ হাজার টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে পৌঁছেছে। এই পাইপলাইনের বার্ষিক সক্ষমতা প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন হলেও বর্তমানে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় এর আংশিক ব্যবহার হচ্ছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির যে প্রস্তাব বাংলাদেশ পাঠিয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়ার কথা জানিয়েছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান যে বাংলাদেশকে বাড়তি জ্বালানি সরবরাহ করার আগে ভারত তাদের নিজস্ব মজুত, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং তেল শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা গভীরভাবে যাচাই করে দেখবে।
রণধীর জয়সওয়াল ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন যে ভারত এই অঞ্চলের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের অন্যতম বড় রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে আসা আনুষ্ঠানিক চিঠিটি বর্তমানে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা করে দেখছে। কেবল বাংলাদেশ নয় বরং শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো থেকেও একই ধরনের অনুরোধ পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বর্তমান অস্থিরতার কারণে দিল্লি প্রতিটি দেশের প্রস্তাব তাদের নিজস্ব প্রাপ্যতা সাপেক্ষে বিবেচনা করার নীতি গ্রহণ করেছে।
এর আগে বুধবার ১১ মার্চ সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা থেকে এই ‘আপৎকালীন’ অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে আগামী চার মাসের জন্য বর্তমান বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি কার্যকর রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এই আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে চায়। ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বৈঠক শেষে জানান যে তিনি বাংলাদেশের অনুরোধের চিঠিটি গ্রহণ করেছেন এবং তা দ্রুত ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠিয়ে দেবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে জ্বালানি খাত দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ এবং ভারত সবসময় তার বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশীর পাশে থাকতে সচেষ্ট।
উল্লেখ্য যে দেশে বর্তমানে প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার মেট্রিক টন। এই চাহিদার একটি বড় অংশ মেটাতে গত সোমবার ৯ মার্চ থেকে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানিকৃত ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছাতে শুরু করেছে। ওইদিন বিকেলেই প্রায় ৫ হাজার টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে পৌঁছেছে। এই পাইপলাইনের বার্ষিক সক্ষমতা প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন হলেও বর্তমানে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় এর আংশিক ব্যবহার হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন