ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেও বুধবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কিছুটা স্থিতি ফিরে পেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সাময়িক স্বস্তি হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি চাপ অব্যাহত থাকবে।
বুধবার সকালের লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৩৫ মার্কিন ডলার, যা ব্রিটিশ মুদ্রায় প্রায় ৬২ দশমিক ৬ পাউন্ড। আন্তর্জাতিক বাজারের মূল মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ৮৭ দশমিক ৮৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
তবে মাত্র দুই দিন আগের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত সোমবার বাজারে প্রচণ্ড উত্তেজনার মধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে গিয়ে ঠেকে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরল। হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন ও জাহাজে হামলার খবর এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনো তেলের দাম অনেক বেশি রয়েছে এবং বাজার সামগ্রিকভাবে উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে আছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সদস্যভুক্ত দেশগুলো তাদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। বিশ্বের বড় তেল-ভোক্তা দেশগুলো এই জরুরি মজুত বাজারে ছাড়লে দাম কিছুটা কমে আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথে যেকোনো বিঘ্ন ঘটলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার জ্বালানি বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশসহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশীয় জ্বালানির দামেও তার প্রভাব পড়তে সময় লাগে না।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেও বুধবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কিছুটা স্থিতি ফিরে পেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সাময়িক স্বস্তি হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি চাপ অব্যাহত থাকবে।
বুধবার সকালের লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৩৫ মার্কিন ডলার, যা ব্রিটিশ মুদ্রায় প্রায় ৬২ দশমিক ৬ পাউন্ড। আন্তর্জাতিক বাজারের মূল মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ৮৭ দশমিক ৮৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
তবে মাত্র দুই দিন আগের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত সোমবার বাজারে প্রচণ্ড উত্তেজনার মধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে গিয়ে ঠেকে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরল। হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন ও জাহাজে হামলার খবর এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনো তেলের দাম অনেক বেশি রয়েছে এবং বাজার সামগ্রিকভাবে উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে আছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সদস্যভুক্ত দেশগুলো তাদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। বিশ্বের বড় তেল-ভোক্তা দেশগুলো এই জরুরি মজুত বাজারে ছাড়লে দাম কিছুটা কমে আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথে যেকোনো বিঘ্ন ঘটলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার জ্বালানি বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশসহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশীয় জ্বালানির দামেও তার প্রভাব পড়তে সময় লাগে না।

আপনার মতামত লিখুন