ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কার আদালতের নির্দেশে ইরানের ৮৪ নাবিকের মরদেহ ফেরত যাবে তেহরানে


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬

শ্রীলঙ্কার আদালতের নির্দেশে ইরানের ৮৪ নাবিকের মরদেহ ফেরত যাবে তেহরানে

শ্রীলঙ্কার উপকূলে মার্কিন সাবমেরিনের আঘাতে ডুবে যাওয়া ইরানি যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা থেকে উদ্ধার করা ৮৪ নাবিকের মরদেহ কলম্বোতে ইরানি দূতাবাসের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে শ্রীলঙ্কার একটি আদালত। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

গত ৪ মার্চ ভোরবেলা শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের অদূরে গভীর সমুদ্রে একটি মার্কিন সাবমেরিনের ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে আইআরআইএস দেনা ফ্রিগেটটি ডুবে যায়। ঘটনার পরপরই শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এবং জাহাজের ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আহত নাবিকদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা অনেককে শ্রীলঙ্কার গালে অঞ্চলের কারাপিতিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ইরানের সামরিক বাহিনীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেনা জাহাজে মোট ১০৪ জন নাবিক কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে ৮৪ জনের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং সেগুলো অচিরেই স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। শ্রীলঙ্কার ডুবুরিরা দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়েও বাকি ২০ নাবিকের কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজ এই ২০ জনকে ইরানের সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে 'অমর শহীদ' হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এই ঘটনার সঙ্গে একটি বিশেষ কারণে ভারতও জড়িয়ে পড়েছে। ডুবে যাওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ফেব্রুয়ারি মাসে আইআরআইএস দেনা ভারতে অনুষ্ঠিত বহুজাতিক সামরিক মহড়া 'গ্লোবাল ফ্লিট রিভিউ ২০২৬'-এ অংশ নিয়েছিল। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব কানওয়াল সিবাল সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ওই মহড়ার নিয়ম অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী জাহাজগুলোতে কোনো গোলাবারুদ বা অস্ত্রশস্ত্র রাখার অনুমতি ছিল না। ফলে দেনা সেই মুহূর্তে ছিল সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ও প্রতিরক্ষাহীন। তিনি এই পরিস্থিতিতে ভারতের স্বাগতিক ভূমিকার বিষয়ে তীব্র অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং বলেন, ভারত যদি ইরানকে মহড়ায় আমন্ত্রণ না জানাত, তাহলে হয়তো এই ভয়াবহ পরিণতি এড়ানো যেত।

ঘটনাটি ইরানে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তেহরান ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনকে এই হামলার জন্য গভীরভাবে দায়ী করে কড়া সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। চলমান ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের মাঝে এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সংশ্লিষ্টতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শ্রীলঙ্কার আদালতের নির্দেশে ইরানের ৮৪ নাবিকের মরদেহ ফেরত যাবে তেহরানে

প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬

featured Image

শ্রীলঙ্কার উপকূলে মার্কিন সাবমেরিনের আঘাতে ডুবে যাওয়া ইরানি যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা থেকে উদ্ধার করা ৮৪ নাবিকের মরদেহ কলম্বোতে ইরানি দূতাবাসের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে শ্রীলঙ্কার একটি আদালত। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

গত ৪ মার্চ ভোরবেলা শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের অদূরে গভীর সমুদ্রে একটি মার্কিন সাবমেরিনের ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে আইআরআইএস দেনা ফ্রিগেটটি ডুবে যায়। ঘটনার পরপরই শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এবং জাহাজের ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আহত নাবিকদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা অনেককে শ্রীলঙ্কার গালে অঞ্চলের কারাপিতিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ইরানের সামরিক বাহিনীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেনা জাহাজে মোট ১০৪ জন নাবিক কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে ৮৪ জনের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং সেগুলো অচিরেই স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। শ্রীলঙ্কার ডুবুরিরা দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়েও বাকি ২০ নাবিকের কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজ এই ২০ জনকে ইরানের সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে 'অমর শহীদ' হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এই ঘটনার সঙ্গে একটি বিশেষ কারণে ভারতও জড়িয়ে পড়েছে। ডুবে যাওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ফেব্রুয়ারি মাসে আইআরআইএস দেনা ভারতে অনুষ্ঠিত বহুজাতিক সামরিক মহড়া 'গ্লোবাল ফ্লিট রিভিউ ২০২৬'-এ অংশ নিয়েছিল। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব কানওয়াল সিবাল সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ওই মহড়ার নিয়ম অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী জাহাজগুলোতে কোনো গোলাবারুদ বা অস্ত্রশস্ত্র রাখার অনুমতি ছিল না। ফলে দেনা সেই মুহূর্তে ছিল সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ও প্রতিরক্ষাহীন। তিনি এই পরিস্থিতিতে ভারতের স্বাগতিক ভূমিকার বিষয়ে তীব্র অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং বলেন, ভারত যদি ইরানকে মহড়ায় আমন্ত্রণ না জানাত, তাহলে হয়তো এই ভয়াবহ পরিণতি এড়ানো যেত।

ঘটনাটি ইরানে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তেহরান ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনকে এই হামলার জন্য গভীরভাবে দায়ী করে কড়া সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। চলমান ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের মাঝে এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সংশ্লিষ্টতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ