ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল প্রায় কোনো পূর্বসতর্কতা ছাড়াই। এখন প্রশ্ন উঠছে, এর শেষটা কেমন হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পেন্টাগন থেকে পরস্পরবিরোধী সংকেত আসছে। মিত্রদেশগুলো, বাজার বিশ্লেষক এবং আইন প্রণেতারাও যুদ্ধ সমাপ্তির বিভিন্ন পথ নিয়ে ভিন্ন মত দিচ্ছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পাঁচটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে।
প্রথম সম্ভাবনা হলো আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ও পরমাণু চুক্তি। ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, পুনরায় আলোচনা 'সম্ভব', তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচন করায় তিনি হতাশ। যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগের দিন ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছিলেন, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল এবং শান্তির ব্যাপারে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছিল। তবে যুদ্ধ এখন সেই কূটনৈতিক সম্ভাবনার ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা এখনো অনিশ্চিত।
দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো 'ভেনেজুয়েলা মডেল'। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের ক্ষেত্রেও ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায় এবং সেই শূন্যস্থানে একটি কার্যকরী রাজনৈতিক বিন্যাস গড়ে তোলে। ইরানের ক্ষেত্রে একই পথ অনুসরণ করা হবে কিনা সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো ইঙ্গিত না থাকলেও এই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।
তৃতীয় সম্ভাবনা হলো জনবিক্ষোভ ও শাসনব্যবস্থার পতন। এই পরিস্থিতির বাস্তব ভিত্তি আছে। আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হয়েছেন, দেশের অর্থনীতি ধুঁকছে এবং যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরান তার সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ দেখেছিল। তবে বড় বাধা হলো, বিরোধীদের কোনো ঐক্যবদ্ধ নেতা নেই এবং মাঠে সংগঠিত কোনো শক্তিও নেই। ফলে শাসনের পতন হলেও ক্ষমতার শূন্যতা পূরণ কে করবে সেটা অস্পষ্ট।
চতুর্থ সম্ভাবনা হলো পারমাণবিক ভাণ্ডারে বিশেষ বাহিনীর অভিযান। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিশেষ স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে। এই পথে যুদ্ধের সমাপ্তি মানে রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং পারমাণবিক হুমকি শারীরিকভাবে নির্মূল করে সংঘাতের ইতি টানা। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলমান থাকা একটি দেশে স্থলসেনা পাঠানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
পঞ্চম ও সবচেয়ে আলোচিত সম্ভাবনা হলো ট্রাম্পের একতরফা বিজয় ঘোষণা। এই পরিস্থিতিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা যথেষ্ট পরিমাণে কমে গেছে বলে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাম্প ঐতিহাসিক বিজয় ঘোষণা করে যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা দেবেন। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন হোক বা না হোক, পারমাণবিক হুমকি সম্পূর্ণ নির্মূল হোক বা না হোক, কৌশলগত সাফল্যের দাবি করে যুদ্ধ শেষ করার এই পথটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক স্বভাবের সঙ্গে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের সারসংক্ষেপ হলো: ইরানে এই যুদ্ধ তেমন কোনো সুস্পষ্ট সতর্কতা ছাড়াই শুরু হয়েছিল, এর শেষও একইভাবে আচমকা হতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল প্রায় কোনো পূর্বসতর্কতা ছাড়াই। এখন প্রশ্ন উঠছে, এর শেষটা কেমন হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পেন্টাগন থেকে পরস্পরবিরোধী সংকেত আসছে। মিত্রদেশগুলো, বাজার বিশ্লেষক এবং আইন প্রণেতারাও যুদ্ধ সমাপ্তির বিভিন্ন পথ নিয়ে ভিন্ন মত দিচ্ছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পাঁচটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে।
প্রথম সম্ভাবনা হলো আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ও পরমাণু চুক্তি। ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, পুনরায় আলোচনা 'সম্ভব', তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচন করায় তিনি হতাশ। যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগের দিন ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছিলেন, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল এবং শান্তির ব্যাপারে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছিল। তবে যুদ্ধ এখন সেই কূটনৈতিক সম্ভাবনার ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা এখনো অনিশ্চিত।
দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো 'ভেনেজুয়েলা মডেল'। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের ক্ষেত্রেও ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায় এবং সেই শূন্যস্থানে একটি কার্যকরী রাজনৈতিক বিন্যাস গড়ে তোলে। ইরানের ক্ষেত্রে একই পথ অনুসরণ করা হবে কিনা সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো ইঙ্গিত না থাকলেও এই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।
তৃতীয় সম্ভাবনা হলো জনবিক্ষোভ ও শাসনব্যবস্থার পতন। এই পরিস্থিতির বাস্তব ভিত্তি আছে। আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হয়েছেন, দেশের অর্থনীতি ধুঁকছে এবং যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরান তার সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ দেখেছিল। তবে বড় বাধা হলো, বিরোধীদের কোনো ঐক্যবদ্ধ নেতা নেই এবং মাঠে সংগঠিত কোনো শক্তিও নেই। ফলে শাসনের পতন হলেও ক্ষমতার শূন্যতা পূরণ কে করবে সেটা অস্পষ্ট।
চতুর্থ সম্ভাবনা হলো পারমাণবিক ভাণ্ডারে বিশেষ বাহিনীর অভিযান। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিশেষ স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে। এই পথে যুদ্ধের সমাপ্তি মানে রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং পারমাণবিক হুমকি শারীরিকভাবে নির্মূল করে সংঘাতের ইতি টানা। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলমান থাকা একটি দেশে স্থলসেনা পাঠানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
পঞ্চম ও সবচেয়ে আলোচিত সম্ভাবনা হলো ট্রাম্পের একতরফা বিজয় ঘোষণা। এই পরিস্থিতিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা যথেষ্ট পরিমাণে কমে গেছে বলে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাম্প ঐতিহাসিক বিজয় ঘোষণা করে যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা দেবেন। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন হোক বা না হোক, পারমাণবিক হুমকি সম্পূর্ণ নির্মূল হোক বা না হোক, কৌশলগত সাফল্যের দাবি করে যুদ্ধ শেষ করার এই পথটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক স্বভাবের সঙ্গে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের সারসংক্ষেপ হলো: ইরানে এই যুদ্ধ তেমন কোনো সুস্পষ্ট সতর্কতা ছাড়াই শুরু হয়েছিল, এর শেষও একইভাবে আচমকা হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন