ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অভিযান ও ট্রাম্পের ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অভিযান ও ট্রাম্পের ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপনের অভিযোগ সামনে আসার পর পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে 'নজিরবিহীন' পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইতিমধ্যে মাইন স্থাপনকারী ইরানি জাহাজ ধ্বংস অভিযান শুরু করেছে বলে দাবি করেছে।

মঙ্গলবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন বসিয়ে থাকে, তবে সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে। তিনি সতর্ক করেন, মাইন বসানো হয়ে থাকলে এবং সেগুলো না সরালে ইরানকে নজিরবিহীন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তবে তেহরান মাইন সরিয়ে নিলে সেটি সঠিক পথে একটি বিশাল পদক্ষেপ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের পোস্টের পর পরই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্সে জানান, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে সেন্টকম হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপনকারী জাহাজগুলো ধ্বংস করছে। তিনি বলেন, অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই অভিযান চালানো হচ্ছে এবং সন্ত্রাসীদের হাতে এই প্রণালিকে জিম্মি হতে দেওয়া হবে না। পরে সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করে, তারা মাইন স্থাপনকারী ১৬টি জাহাজসহ ইরানের বেশ কিছু নৌযান ধ্বংস করেছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানোর কাজ এখনও খুব বেশি ব্যাপক আকার নেয়নি, গত কয়েক দিনে গুটিকয়েক মাইন বসানো হয়েছে। তবে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ইরানের কাছে এখনও ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্র যুদ্ধযান ও মাইন স্থাপনকারী জাহাজ অক্ষত রয়েছে। অর্থাৎ ইরান চাইলে এই জলপথে কয়েক শত মাইন ছড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বর্তমানে দেশটির নৌবাহিনীর পাশাপাশি এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের কাছে বিচ্ছিন্নভাবে মাইন স্থাপনকারী যান, বিস্ফোরকবোঝাই নৌকা এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। এর আগে আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজে হামলা চালানো হবে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে আন্তর্জাতিক মহলে একে 'ডেথ ভ্যালি' বা মৃত্যু উপত্যকা বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো সংঘাত বা অবরোধ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক এবং ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখা হবে এবং সেখানে মাইন শনাক্তের জন্য বিশ্বের সেরা সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কোনো বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দিয়ে এই প্রণালি পার করিয়ে দেয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অভিযান ও ট্রাম্পের ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬

featured Image

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপনের অভিযোগ সামনে আসার পর পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে 'নজিরবিহীন' পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইতিমধ্যে মাইন স্থাপনকারী ইরানি জাহাজ ধ্বংস অভিযান শুরু করেছে বলে দাবি করেছে।

মঙ্গলবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন বসিয়ে থাকে, তবে সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে। তিনি সতর্ক করেন, মাইন বসানো হয়ে থাকলে এবং সেগুলো না সরালে ইরানকে নজিরবিহীন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তবে তেহরান মাইন সরিয়ে নিলে সেটি সঠিক পথে একটি বিশাল পদক্ষেপ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের পোস্টের পর পরই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্সে জানান, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে সেন্টকম হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপনকারী জাহাজগুলো ধ্বংস করছে। তিনি বলেন, অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই অভিযান চালানো হচ্ছে এবং সন্ত্রাসীদের হাতে এই প্রণালিকে জিম্মি হতে দেওয়া হবে না। পরে সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করে, তারা মাইন স্থাপনকারী ১৬টি জাহাজসহ ইরানের বেশ কিছু নৌযান ধ্বংস করেছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানোর কাজ এখনও খুব বেশি ব্যাপক আকার নেয়নি, গত কয়েক দিনে গুটিকয়েক মাইন বসানো হয়েছে। তবে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ইরানের কাছে এখনও ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্র যুদ্ধযান ও মাইন স্থাপনকারী জাহাজ অক্ষত রয়েছে। অর্থাৎ ইরান চাইলে এই জলপথে কয়েক শত মাইন ছড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বর্তমানে দেশটির নৌবাহিনীর পাশাপাশি এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের কাছে বিচ্ছিন্নভাবে মাইন স্থাপনকারী যান, বিস্ফোরকবোঝাই নৌকা এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। এর আগে আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজে হামলা চালানো হবে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে আন্তর্জাতিক মহলে একে 'ডেথ ভ্যালি' বা মৃত্যু উপত্যকা বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো সংঘাত বা অবরোধ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক এবং ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখা হবে এবং সেখানে মাইন শনাক্তের জন্য বিশ্বের সেরা সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কোনো বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দিয়ে এই প্রণালি পার করিয়ে দেয়নি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ