ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইরানি ক্লাস্টার বোমার নতুন চ্যালেঞ্জে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬

ইরানি ক্লাস্টার বোমার নতুন চ্যালেঞ্জে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের নিক্ষেপ করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রায় অর্ধেক অংশেই শক্তিশালী 'ক্লাস্টার বোমা' বা গুচ্ছবোমার ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে আইডিএফের সাম্প্রতিক এই মূল্যায়নের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই বিশেষ প্রযুক্তির কারণে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে।

আইডিএফের বিশেষজ্ঞরা জানান যে প্রতিটি ক্লাস্টার ওয়ারহেড বিস্ফোরণের সময় অসংখ্য ক্ষুদ্র সাবমিউনিশন বা ছোট বোমা চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। কয়েক কেজি বিস্ফোরক সমৃদ্ধ এই সাবমিউনিশনগুলো প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হলেও তা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। আইডিএফের হোম ফ্রন্ট কমান্ড সতর্ক করে বলেছে যে ইরান পরিকল্পিতভাবে জনবসতিপূর্ণ এলাকা, সামরিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্য ইসরায়েলের একটি নির্মাণস্থলে ক্লাস্টার বোমার আঘাতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়া একই অঞ্চলের অন্য একটি স্থানে একজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও আইডিএফের ধারণা যে ইরান বর্তমানে বড় আকারের সমন্বিত হামলা চালাতে কিছুটা কারিগরি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, তবুও বিচ্ছিন্নভাবে ধেয়ে আসা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ডেভিড হার্স্ট মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতিকে দায়ী করেছেন। হার্স্টের মতে, একজনের ব্যক্তিগত অহংকার এবং অন্যজনের ধর্মীয়-রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ এই অঞ্চলকে এক বিপজ্জনক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন যে এই সংকট থেকে উত্তরণের কোনো স্পষ্ট কৌশল বর্তমানে বিশ্বনেতাদের হাতে নেই।

বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে যে ইরানের সদ্য সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ট্রাম্প ইরানি জনগণের মধ্যে গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। লাখো ইরানি নাগরিক শোক মিছিলে অংশ নিয়ে সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে, যা তেহরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট এবং ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রকাশ্য ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইরানি ক্লাস্টার বোমার নতুন চ্যালেঞ্জে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানের নিক্ষেপ করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রায় অর্ধেক অংশেই শক্তিশালী 'ক্লাস্টার বোমা' বা গুচ্ছবোমার ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে আইডিএফের সাম্প্রতিক এই মূল্যায়নের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই বিশেষ প্রযুক্তির কারণে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে।

আইডিএফের বিশেষজ্ঞরা জানান যে প্রতিটি ক্লাস্টার ওয়ারহেড বিস্ফোরণের সময় অসংখ্য ক্ষুদ্র সাবমিউনিশন বা ছোট বোমা চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। কয়েক কেজি বিস্ফোরক সমৃদ্ধ এই সাবমিউনিশনগুলো প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হলেও তা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। আইডিএফের হোম ফ্রন্ট কমান্ড সতর্ক করে বলেছে যে ইরান পরিকল্পিতভাবে জনবসতিপূর্ণ এলাকা, সামরিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্য ইসরায়েলের একটি নির্মাণস্থলে ক্লাস্টার বোমার আঘাতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়া একই অঞ্চলের অন্য একটি স্থানে একজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও আইডিএফের ধারণা যে ইরান বর্তমানে বড় আকারের সমন্বিত হামলা চালাতে কিছুটা কারিগরি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, তবুও বিচ্ছিন্নভাবে ধেয়ে আসা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ডেভিড হার্স্ট মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতিকে দায়ী করেছেন। হার্স্টের মতে, একজনের ব্যক্তিগত অহংকার এবং অন্যজনের ধর্মীয়-রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ এই অঞ্চলকে এক বিপজ্জনক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন যে এই সংকট থেকে উত্তরণের কোনো স্পষ্ট কৌশল বর্তমানে বিশ্বনেতাদের হাতে নেই।

বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে যে ইরানের সদ্য সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ট্রাম্প ইরানি জনগণের মধ্যে গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। লাখো ইরানি নাগরিক শোক মিছিলে অংশ নিয়ে সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে, যা তেহরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট এবং ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রকাশ্য ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ