ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবায় অর্ধেক পথ পেরিয়েছে বাংলাদেশ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবায় অর্ধেক পথ পেরিয়েছে বাংলাদেশ

২০২৫-পরবর্তী রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউএইচসি) অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বর্তমানে দেশের ইউএইচসি সার্ভিস কভারেজ সূচক ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৫৪, যা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পাশাপাশি এখনো বড় ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য সূচকে চোখে পড়ার মতো সাফল্য অর্জন করেছে। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) বাস্তবায়নের সময়কালে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুহার প্রায় ৬৮ শতাংশ কমেছে। শিশু টিকাদান কর্মসূচির প্রায় সর্বজনীন কভারেজ, ওরস্যালাইনের ব্যাপক ব্যবহার, ভিটামিন-এ সম্পূরক কর্মসূচি এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকাকে এই সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তবে উন্নতির এই ছবির পেছনে রয়েছে গভীর উদ্বেগের চিত্র। ২০২৫ সালে দেশের প্রায় ৪১.৭ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ সাত কোটির বেশি নাগরিক স্বাস্থ্য ব্যয়ের আর্থিক চাপে পড়েছে। এর মধ্যে ওষুধ ব্যয়ই মোট ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য খরচের প্রায় ৬৪.৬ শতাংশ। প্রতিবছর প্রায় ৫৭ লাখ মানুষ এই ব্যয়ের চাপে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে বলে তথ্য বলছে।

সরকার ইতিমধ্যে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত একটি নতুন রোডম্যাপ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনায় একটি একক স্বাস্থ্য তহবিল গঠন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যবীমা চালু এবং প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কথা রয়েছে। ই-হেলথ কার্ড এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগীর তথ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের তালিকাও দীর্ঘ। গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসক ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতির হার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দায়িত্ব বিভাজন নিয়ে সমন্বয়ের অভাবও পরিষেবা বাস্তবায়নে বাধা তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য অর্থায়নের পুনর্বিন্যাস, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ছাড়া সর্বজনীন কাভারেজ অর্জন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই পর্বে স্বাস্থ্যকে নাগরিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবায় অর্ধেক পথ পেরিয়েছে বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

featured Image

২০২৫-পরবর্তী রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউএইচসি) অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বর্তমানে দেশের ইউএইচসি সার্ভিস কভারেজ সূচক ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৫৪, যা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পাশাপাশি এখনো বড় ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য সূচকে চোখে পড়ার মতো সাফল্য অর্জন করেছে। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) বাস্তবায়নের সময়কালে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুহার প্রায় ৬৮ শতাংশ কমেছে। শিশু টিকাদান কর্মসূচির প্রায় সর্বজনীন কভারেজ, ওরস্যালাইনের ব্যাপক ব্যবহার, ভিটামিন-এ সম্পূরক কর্মসূচি এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকাকে এই সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তবে উন্নতির এই ছবির পেছনে রয়েছে গভীর উদ্বেগের চিত্র। ২০২৫ সালে দেশের প্রায় ৪১.৭ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ সাত কোটির বেশি নাগরিক স্বাস্থ্য ব্যয়ের আর্থিক চাপে পড়েছে। এর মধ্যে ওষুধ ব্যয়ই মোট ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য খরচের প্রায় ৬৪.৬ শতাংশ। প্রতিবছর প্রায় ৫৭ লাখ মানুষ এই ব্যয়ের চাপে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে বলে তথ্য বলছে।

সরকার ইতিমধ্যে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত একটি নতুন রোডম্যাপ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনায় একটি একক স্বাস্থ্য তহবিল গঠন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যবীমা চালু এবং প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কথা রয়েছে। ই-হেলথ কার্ড এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগীর তথ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের তালিকাও দীর্ঘ। গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসক ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতির হার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দায়িত্ব বিভাজন নিয়ে সমন্বয়ের অভাবও পরিষেবা বাস্তবায়নে বাধা তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য অর্থায়নের পুনর্বিন্যাস, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ছাড়া সর্বজনীন কাভারেজ অর্জন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই পর্বে স্বাস্থ্যকে নাগরিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ