ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সাঁতার কেটে কাবাঘর তাওয়াফ


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬

সাঁতার কেটে কাবাঘর তাওয়াফ
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র মক্কায় ১৯৪১ সালে সংঘটিত এক অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় ইয়েমেনের নাগরিক আলী আল-আলওয়াদি ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর এক কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় কাবাঘর যখন প্লাবিত হয় তখন তিনি সাঁতার কেটে পবিত্র ঘরের চারপাশ প্রদক্ষিণ করেন। চুরাশি বছর আগে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার আলোকচিত্র আজও বিশ্বজুড়ে কৌতূহলী মানুষের কাছে এক অনন্য দলিল হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

তীব্র বন্যায় সে সময় কাবা প্রাঙ্গণ পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল যার ফলে সাধারণ উপায়ে পায়ে হেঁটে তাওয়াফ করা তীর্থযাত্রীদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে। তরুণ আলী আল-আলওয়াদি সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই পানির মধ্য দিয়ে সাঁতার কেটে আটবার কাবাঘর প্রদক্ষিণ করে নিজের ইবাদত পূর্ণ করেন। সে সময়কার একটি ঐতিহাসিক ছবিতে দেখা যায় যে আলী সাঁতার কাটছেন আর তাঁর ভাই ও বন্ধুরা কাবার প্রবেশদ্বারে বসে তাঁকে নিরন্তর উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন।

২০১৫ সালে পরলোকগমন করা এই পুণ্যার্থী তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে প্রায়ই সেই রোমাঞ্চকর স্মৃতির কথা অপলক বর্ণনা করতেন। তিনি বলতেন যে পানির স্তর এতটাই উঁচুতে ছিল যে সাঁতার কাটা ছাড়া কাবা জিয়ারতের আর কোনো বিকল্প পথ তাঁদের সামনে খোলা ছিল না। মূলত প্রবল ভক্তি আর সাহসের কারণেই তিনি ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম এমন অনন্যভাবে খোদাই করতে পেরেছিলেন।

ঐতিহাসিক তথ্য ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে ইসলামের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এভাবে সাঁতার কেটে তাওয়াফ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন মাত্র দুইজন ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে প্রথম জন হলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.)। তাঁর দীর্ঘকাল পরে ১৯৪১ সালের সেই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে এই বিরল কীর্তি স্থাপন করেন ইয়েমেনের আলী আল-আলওয়াদি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সাঁতার কেটে কাবাঘর তাওয়াফ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

পবিত্র মক্কায় ১৯৪১ সালে সংঘটিত এক অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় ইয়েমেনের নাগরিক আলী আল-আলওয়াদি ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর এক কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় কাবাঘর যখন প্লাবিত হয় তখন তিনি সাঁতার কেটে পবিত্র ঘরের চারপাশ প্রদক্ষিণ করেন। চুরাশি বছর আগে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার আলোকচিত্র আজও বিশ্বজুড়ে কৌতূহলী মানুষের কাছে এক অনন্য দলিল হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

তীব্র বন্যায় সে সময় কাবা প্রাঙ্গণ পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল যার ফলে সাধারণ উপায়ে পায়ে হেঁটে তাওয়াফ করা তীর্থযাত্রীদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে। তরুণ আলী আল-আলওয়াদি সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই পানির মধ্য দিয়ে সাঁতার কেটে আটবার কাবাঘর প্রদক্ষিণ করে নিজের ইবাদত পূর্ণ করেন। সে সময়কার একটি ঐতিহাসিক ছবিতে দেখা যায় যে আলী সাঁতার কাটছেন আর তাঁর ভাই ও বন্ধুরা কাবার প্রবেশদ্বারে বসে তাঁকে নিরন্তর উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন।

২০১৫ সালে পরলোকগমন করা এই পুণ্যার্থী তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে প্রায়ই সেই রোমাঞ্চকর স্মৃতির কথা অপলক বর্ণনা করতেন। তিনি বলতেন যে পানির স্তর এতটাই উঁচুতে ছিল যে সাঁতার কাটা ছাড়া কাবা জিয়ারতের আর কোনো বিকল্প পথ তাঁদের সামনে খোলা ছিল না। মূলত প্রবল ভক্তি আর সাহসের কারণেই তিনি ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম এমন অনন্যভাবে খোদাই করতে পেরেছিলেন।

ঐতিহাসিক তথ্য ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে ইসলামের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এভাবে সাঁতার কেটে তাওয়াফ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন মাত্র দুইজন ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে প্রথম জন হলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.)। তাঁর দীর্ঘকাল পরে ১৯৪১ সালের সেই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে এই বিরল কীর্তি স্থাপন করেন ইয়েমেনের আলী আল-আলওয়াদি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ